পান উপযোগী নয় ওয়াসার পানি : হাইকোর্টের নির্দেশ গুরুত্ব পাক

আগের সংবাদ

তালেবানি শাসনের স্পর্শে ব্রিটেন ও করোনা-উত্তর গণতন্ত্র

পরের সংবাদ

পরিবেশ রক্ষায় ছাদবাগানের গুরুত্ব

লুৎফর রহমান লাভলু

শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ শাখা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১ , ১:১৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১ , ১:১৫ পূর্বাহ্ণ

বর্তমান সময়ে শহরে উল্লেখযোগ্যভাবে চোখে পড়ে ভবনগুলোতে ছাদবাগান। যা রাজধানী শহরে বেশি, সঙ্গে অন্যান্য বিভাগীয় শহরে বর্তমানে ছাদবাগান চোখে পড়ার মতো। ঢাকা শহরের অনেক ভবনের ছাদে শখের বসে অনেকে ই-কৃষির আওতায় শাকসবজি, ফলমূল, বাগান, নার্সারি ও হরেক রকমের ফুলচাষ করছে, এতে অনেক পরিবার স্বাবলম্বী। কারণ তারা বাজারের ফরমালিনযুক্ত ও কেমিক্যাল ওষুধযুক্ত শাকসবজি, ফলমূল থেকে বেঁচে যাচ্ছে এবং নিজের পরিবারের চাহিদা পূরণ করছে। তা পরিবেশের যেমন ভারসাম্য রক্ষা করছে তেমনি অক্সিজেনের সরবরাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা জানি আমাদের বেঁচে থাকার জন্য দরকার অক্সিজেন, যা আমরা পেয়ে থাকি গাছপালা থেকে। গাছপালা অক্সিজেন ত্যাগ করে তা আমরা গ্রহণ করে বেঁচে থাকি অন্যদিকে আমরা যে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করি তা গাছপালা গ্রহণ করে। শহরে বনায়ন ও গাছপালা কম হওয়ার কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে, ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে এবং প্রচণ্ড গরমে বসবাস করতে হচ্ছে মানুষকে। পাশাপাশি শহরে প্রতিদিন শিল্প কারখানাতে পণ্যদ্রব্য উৎপাদনে যে হাজার হাজার, লাখ লাখ টন বর্জ্য ফেলা হচ্ছে শোধন না করে, এতে শহরের পরিবেশ দূষণ হচ্ছে মাটি ও পানি। পাশাপাশি কলকারখানা ও গাড়ির কালো ধোঁয়া শহরের বায়ুকে দূষণ করছে, ফলে ক্রমেই মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন হাওয়া বা অক্সিজেন সংকট দেখা যাচ্ছে। তাই শহরের মাটি, পানি ও বায়ুদূষণের ফলে ক্রমেই শহর বসবাসযোগ্য পরিবেশ হারিয়ে ফেলছে। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন চর্ম, যৌন, হার্টস্টোক, ক্রনিক ড্যাজেস ও কিডনিজনিত সমস্যায়, যার অন্যতম কারণ শহরের দূষিত পরিবেশ। আমরা সবাই জানি যে, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহুরগুলোর মাঝে ঢাকা অন্যতম। আবহাওয়া ও জলবায়ুর এই পরিবর্তনের ফলে যথাসময়ে হচ্ছে না বৃষ্টিপাত, অতি গরম ও নেই মুক্ত হাওয়া, কারণ শহরে নেই প্রচুর গাছপালা। যেখানে গাছপালা বেশি সেখানে পরিবেশ শীতল ও শান্ত। সেখানে বৃষ্টিপাতও বেশি। ঢাকা থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সব বিভাগীয় শহর, জেলাশহর ও উপজেলাগুলোতে শত শত, হাজার হাজার বিল্ডিং ও ভবন রয়েছে- তাই প্রতিটি ভবনের ছাদে বাগান করে সবুজ পরিবেশের সমাহার গড়তে পারলে পরিবেশ যেমন ঠাণ্ডা ও শীতল থাকবে এবং অক্সিজেনের সরবরাহ বেশি হবে, শহরের মানুষ মুক্ত পরিচ্ছন্ন হাওয়া বুকভরে নিতে পারবে। প্রতিটি ভবনে ছাদবাগান হলে শহরের পরিবেশের ভারসাম্য অবস্থা ফিরে আসবে। শাকসবজি, ফলমূল, ফুলের বাগান, বনায়ন হলে পরিবারের সুষম খাদ্য যেমন নিশ্চিত হবে তেমনি শাকসবজি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের কৃত্রিম সংকট হ্রাস পাবে। সঙ্গে বাজার ব্যবস্থায় অতিরিক্ত দামের স্থানে স্থিতিশীল মূল্য ব্যবস্থা বিরাজ করবে। শহরের প্রতিটি ছাদে বাগান হলে তাদের নিজেদের চাহিদা অনেকাংশে নিজেরাই পূরণ করতে পারবে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারণ বর্তমানে বাংলাদেশ বহির্বিশ্বে প্রচুর পরিমাণে সবজি রপ্তানি করে থাকে। শহরের প্রতিটি বাড়িওয়ালা একটু সময় করে ছাদবাগান করে উৎপাদিত সবজি দ্বারা নিজেদের চাহিদা পূরণ করতে পারলে দেশে উৎপাদিত বাকি শাকসবজি, ফলমূল, বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে। পাশাপাশি বিশ্বায়নের এ যুগে অতি সহজে ই-কৃষির আওতায় শহরের প্রতিটি শিক্ষিত পরিবার এটা করতে পারে। নিজেদের উৎপাদিত এসব স্বাস্থ্যকর সবজি, ফলমূল গ্রহণ করলে মানুষের দেহের জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে ফরমালিনযুক্ত বিষক্রিয়া থেকে শহরের মানুষ মুক্ত থাকবে। বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশ ই-কৃষির আওতায় তাদের ভবনগুলোতে ছাদবাগান শুরু করেছে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো শিল্পে উন্নত, তাই তারা কৃষিপণ্য কম উৎপাদন করে তারা শিল্পজাত দ্রব্য বেশি উৎপাদন করে। তাদের উৎপাদিত কলকারখানার বর্জ্য, ধোঁয়া, অতিরিক্ত জ্বালানি দহন ও পারমাণবিক চুল্লি থেকে উৎপাদিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড বিশ্বের আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তন করে ফেলছে তার ফলে আমাদের মতো অনেক উন্নয়নশীল দেশ ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। শহরাঞ্চলে বাসযোগ্য পরিবেশ ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা গড়ে তুলতে প্রত্যককে সচেতন করতে হবে, এর জন্য টেলিভিশন, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে শহরের প্রতিটি বাড়িতে ছাদবাগানের গুরুত্ব ও লাভ সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার ও প্রসার করতে হবে। এই দেশ ও শহর আপনার, আমার সবার। তাই শহরের প্রাণ ফেরাতে ছাদবাগানের বিকল্প নেই।

লুৎফর রহমান লাভলু : শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ শাখা।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়