টেকসই ভবিষ্যতে জোরালো পদক্ষেপ নিন: বিশ্ব নেতাদের প্রধানমন্ত্রী

আগের সংবাদ

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও দারিদ্র্যের কশাঘাত

পরের সংবাদ

পাঠ্যবইয়ে তথ্য বিকৃতির সঙ্গে যুক্তদের ছাড় নয়

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২১ , ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২১ , ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

স্কুল পাঠ্যবইয়ে তথ্য বিকৃতি, বানান ভুল, লেখা পরিবর্তন, পরিমার্জন ইত্যাদি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা নতুন কিছু নয়। তথ্য বিকৃতিসহ বানান ভুল থাকলেও এ বছরের নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে জাতীয় সংগীতকেই ভুলভাবে উপস্থাপন করে ছাপানো হয়েছে। শুধু জাতীয় সংগীতই নয়, ভুল বর্ণনা দেয়া হয়েছে জাতীয় পতাকার ক্ষেত্রেও। ‘বঙ্গবন্ধু’কে বঙ্গবন্ধু এবং পুরো নাম না লেখে শুধু ‘শেখ মুজিব’ বলে চালিয়ে দেয়া হয়েছে। সংবিধানে এক তথ্য থাকলেও পাঠ্যবইয়ে দেয়া হয়েছে মনগড়া তথ্য। দেশের কোনো সিটি করপোরেশনে ‘ডেপুটি মেয়র’ নামে পদ না থাকলেও পাঠ্যবইয়ে আছে বলে লিখে দেয়া হয়েছে। এমন ভুল দিয়েই শেষ হতে চলছে চলতি শিক্ষাবর্ষ। ৬টি শ্রেণির ১০টি পাঠ্যবইয়ে পাঁচশোরও বেশি ভুল রয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল ভোরের কাগজে পাঠ্যবইয়ে তথ্য বিকৃতির বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়েছে। বিতর্কিত এসব তথ্যে বিভ্রান্তিতে পড়েছে নবম-দশম শ্রেণির অন্তত ৩০ লাখ শিক্ষার্থী। পাঠ্যবইয়ে তথ্য বিকৃতি ও বাক্য গঠনের ভুলগুলো শুধু অদক্ষতাই নয়, এটি অমার্জনীয় অপরাধ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের সরকারের সময় একই ধরনের ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার মেরুদণ্ড ধ্বংসের ষড়যন্ত্র। এর আগেও স্কুল পাঠ্যবইতে ভুলের ছড়াছড়ি হয়েছে। কৌশলে হয়েছে তথ্য বিকৃতি। বিভিন্ন সময়ে সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কোনো জোরালো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। হেফাজতে ইসলামের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে কিছু ভালো লেখা বাদ দিয়ে হেফাজতের পরামর্শ অনুযায়ী নতুন লেখার অন্তর্ভুক্তির মতো ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের কাছে সরকারের সংশ্লিষ্টদের এই নতজানু অবস্থান ও পাঠ্যক্রমের উল্টোযাত্রা আমাদের যারপরনাই বিস্মিত করছে। পঁচাত্তরের পটপরিবর্তনের পর থেকেই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিপরীতে দেশের যাত্রা। রাজনীতি থেকে শুরু করে শিক্ষা, সংস্কৃতি সর্বক্ষেত্রেই এই পরিবর্তন আনার চেষ্টা হয়। পাঠ্যবইয়ে সাম্প্রদায়িক চিন্তা ও বিকৃত ইতিহাসের অনুপ্রবেশের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মগজ ধোলাই চলে। এর ফলে কয়েকটি প্রজন্ম বড় হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও তার প্রকৃত ইতিহাস বঞ্চিত হয়েছে। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় পাঠ্যপুস্তকে এই বিকৃতির ধারা আরো জোরালো হয়। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে পাঠ্যবইয়ে যে পরিবর্তন করে সেই পরিবর্তন এই খাতে স্মরণকালের মধ্যে বড় সংস্কার হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। এ সময় পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পাশাপাশি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ তুলে ধরা হয়। কিন্তু আমরা দেখছি, ইতিবাচক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রতি বছর কোনো না কোনো বইতে ইতিহাস বিকৃতি দেখা যায়। এর দায় কার? এনসিটিবির দায়িত্ব কী? নানা প্রশ্ন সামনে আসছে। এমন তথ্য বিকৃতির সঙ্গে যুক্তদের কোনোভাবে আর ছাড় নেই। আমরা দোষীদের শাস্তির আওতায় দেখতে চাই। না হয় বারবার এমন বিকৃতি ঘটেই যাবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়