নিউইয়র্কে আ.লীগ-বিএনপি মারামারি, উত্তাল জ্যাকসন হাইটস

আগের সংবাদ

রাশিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দুকধারীর গুলি, নিহত ৮

পরের সংবাদ

৫ হাজার চুরি, অঢেল সম্পত্তির মালিক সিলেটি সাঈদ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১ , ৩:০৮ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১ , ৩:০৮ অপরাহ্ণ

গার্মেন্টস পণ্য চোর চক্রের হোতা মো. সাহেদ ওরফে সিলেটি সাঈদের রয়েছে শত-শত ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান। তার পরিকল্পনায় ও যোগসাজশে নিজস্ব যানবাহনে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজারের বেশি চুরির ঘটনা সংঘটিত করছে। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ২৪টি মামলাও রয়েছে।

সম্প্রতি ৮ মাস কারাভোগ শেষে বেরিয়েই ফের একই কারবারে যুক্ত হয় সে। চুরির অর্থে দেশ-বিদেশে গড়ে তুলেছেন বাড়ি গাড়িসহ অঢেল সম্পদ। সিলেটের মৌলভীবাজারে রয়েছে তার বিশাল অট্টালিকা। সিলেটি সাঈদের এক স্ত্রী সন্তানসহ লন্ডনের বাসিন্দা। সেখানেও রয়েছে তার অঢেল সম্পদ। চুরির অর্থেই প্রায় ৫০০ ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপের মালিক হয়েছে গার্মেন্টস পণ্য চোর চক্রের হোতা সিলেটি সাঈদ।

গার্মেন্টস পণ্য চোর চক্রের হোতা সাঈদসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার প্রধান এ কে এম হাফিজ আক্তার।

সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর নেটওয়ার্ক ক্লোথিং লিমিটেড নামে একটি গার্মেন্টসের ১৭ হাজার ১৫২ পিস তৈরি পোশাক বিদেশে রপ্তানির জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে নেওয়ার পথে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা হয়। মামলা তদন্তের ধারাবাহিকতায় ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত পর্যন্ত রাজধানীর উত্তরা ও কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানা এলাকা থেকে গার্মেন্টস পণ্য চুরি সংঘবদ্ধ চক্রের হোতা সিলেটি সাঈদসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি তেজগাঁও বিভাগের একটি টিম। গ্রেপ্তারকৃত অপর ব্যক্তিরা হলো- রাজ্জাক, ইউসুফ, মাইনুল, আলামিন, দুলাল হোসেন ও খায়রুল। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪ হাজার ৭০৫ পিস গার্মেন্টস তৈরি পোশাকসহ দুটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিবহনে যুক্ত ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান, এজেন্সি, চালক ও শ্রমিকদের যোগসাজশে গার্মেন্টস পণ্য চুরি করে আসছিল চক্রটি। ফলে বিশ্বে লিডিং রফতানিকারক বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের সুনাম নষ্ট হচ্ছিলো। হাফিজ বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গার্মেন্টস পণ্য পরিবহনে যুক্ত তার ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ব্যবহারে ও এজেন্সি, চালক ও শ্রমিকদের সহায়তায় সংঘবদ্ধ চোরাই চক্র নিয়ন্ত্রণ করতো।

পণ্যচুরির পর ‍মুক্তিপণ হিসেবে ৩/৪ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএমপির এ কর্মকর্তা বলেন, ডিবির কাছে যদি এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করে তাহলে আমরা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিবো।

চোরাই গার্মেন্টস পণ্য কোথায় বিক্রি ও কারা কিনছে জানতে চাইলে হাফিজ আক্তার বলেন, আমরা প্রাথমিক তদন্তে বেশ কয়েকজনের নাম জেনেছি। তদন্তের স্বার্থে বলছি না। দেশের ছোট ছোট কিছু বাইং হাউজে যাচ্ছে সেসব চোরাই গার্মেন্টস পণ্য। আর ওইসব ছোট বাইং হাউজগুলো বিদেশি ছোট ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে দেয়। এছাড়া, দেশের বিভিন্ন মার্কেটেও যাচ্ছে সেসব চোরাই গার্মেন্টস পণ্য।

ডি-এফবি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়