কোহলিকে নিয়ে নাটকীয়তার শেষ কোথায়

আগের সংবাদ

টেকসই ভবিষ্যতে জোরালো পদক্ষেপ নিন: বিশ্ব নেতাদের প্রধানমন্ত্রী

পরের সংবাদ

এবার পিসিবিকে না করে দিল বিসিবি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১ , ১০:৩৯ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১ , ১০:৪৩ অপরাহ্ণ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একেবারে শেষ মুহূর্তে পণ্ড হয়ে যায় স্বাগতিক দল পাকিস্তানের সিরিজ। নিরাপত্তার শঙ্কা দেখিয়ে ব্ল্যাক ক্যাপসরা ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের সবকটি ম্যাচ বাতিল করে দিয়ে ফিরে যায় নিজেদের দেশে। কিউইদের এমন সিদ্ধান্তে পাকিস্তান সিরিজ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে। এমন অবস্থায় বড় অঙ্কের লোকসানের সম্মুখীন হতে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাংলাদেশকে নিয়ে সমালোচনায় মেতে থাকা দেশটির নতুন বোর্ড সভাপতি রমিজ রাজাও বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাইছেন। কিন্তু ক্রিকেটার এবং স্টাফরা ছুটিতে থাকায় হুট করে রমিজের আমন্ত্রণে ইচ্ছা থাকলে সাড়া দিতে পারছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সম্ভাব্য তালিকায় শ্রীলঙ্কাকে রেখেও ব্যস্তসূচির কারণে রমিজ পাচ্ছে না দেশটিকে। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আগামী ৩ অক্টোবর দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা ইস্যু নতুন কিছু নয়। জঙ্গি হামলার ভয়ে দেশটিতে সফর করতে চায় না পশ্চিমা দেশগুলো। তারপরও ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের ওপর জঙ্গি হামলার পর দেশটিকে ম্যাচ আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। এরপর প্রেসিডেন্সিয়াল নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ২০১৫ সালে দেশটিতে জিম্বাবুয়েকে ওয়ানডে সিরিজ খেলায় পাকিস্তান। এরপর ক্রমান্বয়ে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশও একই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সিরিজ খেলে আ।ে চলতি বছর দীর্ঘ দেড় যুগ পর পাকিস্তানে সিরিজ খেলার আগ্রহ জানায় নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট। কিন্তু ম্যাচে নামার মিনিট কয়েক আগে নিরাপত্তা শঙ্কা দেখিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। ফলে দীর্ঘ ১৬ বছর পর পাকিস্তানে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে পিসিবি। তাদের চিন্তিত হওয়ার বড় কারণ অবশ্য বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি। অন্তত ১৩ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে পিসিবির। এ খরচ নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে। নিরাপত্তার জন্য আরো ২-৩ কোটি টাকা খরচ হতে পারে। শঙ্কা আছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে যদি ইংল্যান্ড সিরিজও না হয় তাহলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে। বিশাল এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তড়িঘড়ি করে একটি সিরিজ আয়োজন করতে চায় পিসিবি। এজন্য বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার দ্বারস্থ হয়েছে তারা। দুই দেশকেই পাঁচটি টি-টোয়েন্টি খেলার আমন্ত্রণ জানিয়েছে পিসিবি।

এদিকে পাকিস্তানের এই দুঃসময়ে পাশে থাকার ইচ্ছা থাকলেও নানা কারণে সিরিজ খেলার প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারছে না বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড। বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন আজ সোমবার পাকিস্তানের আমন্ত্রণের বিষয়ে বলেন, ‘পিসিবি থেকে আমরা একটি প্রস্তাব পেয়েছি। সিরিজ খেলার আমন্ত্রণ জানিয়েছে তারা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সফর করা সম্ভব নয়। হুট করে সিরিজ খেলার মতো মানসিকতা এখন নেই। ক্রিকেটাররা ছুটিতে, কোচিং স্টাফরাও ছুটিতে। আমরা বিশ্বকাপে আগে ওমানে প্রস্তুতি ক্যাম্পও করব। ফলে সিরিজ খেলার কোনো সুযোগ দেখছি না। তবে সুযোগ থাকলে আমরা অবশ্যই পাকিস্তানের পাশে থাকতাম।’

পাকিস্তানের নিরাপত্তা ইস্যু বিসিবি মাথায় রেখেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২০ সালে বাংলাদেশ তিনটি টি-টোয়েন্টি ও একটি টেস্ট খেলেছিল পাকিস্তানে। সেই সফরের আগে বাংলাদেশের নিরাপত্তা প্রতিনিধি দল পাকিস্তান সফর করেছিল। তাদের সবুজ সংকেতের ভিত্তিতে পাকিস্তানে দল পাঠিয়েছিল বিসিবি। চার্টার্ড ফ্লাইটে দলকে নিয়ে গিয়েছিল তারা। কিন্তু এই মুহূর্তে অতি দ্রুত সময়ে এসব প্রক্রিয়া কোনোভাবেই সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। তাছাড়া তাসকিন, সাইফুদ্দিন, আফিফসহ বিশ্বকাপ স্কোয়াডের পাঁচজন ক্রিকেটার ওমরাহ করার উদ্দেশে বর্তমানে সৌদিতে অবস্থান করছে। বিসিবির তরফ থেকে তাই আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেয়া ছাড়া কোনো উপায়ও নেই।

অবশ্য বিশ্বকাপের পূর্বে তড়িঘড়ি অবস্থায় বাংলাদেশ পাকিস্তান সফরে না গেলেও ইমরান খানের দেশ বাংলাদেশ সফরে আসবে আসরটি শেষে। চলতি বছরের ১৬ নভেম্বর বাবর আজমের দল বাংলাদেশে আসবে ক্রিকেটের দুটি ভিন্ন সংস্করণ খেলতে। সিরিজে দুই টেস্ট ও তিন টি-টোয়েন্টি খেলবে দুই দেশ। ২০১৫ সালের পর প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরে পাকিস্তান বাংলাদেশে আসছে। মাঝে অবশ্য ২০১৬ সালে এশিয়া কাপ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিল দেশটির ক্রিকেটাররা। এদিকে নিউজিল্যান্ড সিরিজ পণ্ড হলেও বিশ্রামে যাননি পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা। নিজেদের মধ্যে ম্যাচ আয়োজন করে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন বাবর আজমরা।

অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আগামী ৩ অক্টোবর ওমানের উদ্দেশে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিশ্বকাপের মূল আসরে যাওয়ার টিকেট সংগ্রহ করতে হবে টাইগারদের। বাছাইপর্বে বাধা উতরে তবেই বাংলাদেশ যেতে পারবে মূল আয়োজনে। বিশ্বকাপ মিশনের প্রথম যাত্রায় বাংলাদেশ আগামী ১৭ই অক্টোবর মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের অপর দুই প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ওমান ও পাপুয়া নিউগিনি। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ১৯ই অক্টোবর এবং পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে ২১শে মাঠে নামবে টাইগাররা। এবিষয়ে বিসিবি ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান গণমাধ্যমকে জানান, বিশ্বকাপ খেলতে আগামী ৩ অক্টোবর দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল এবং ৪ তারিখ ওমানে গিয়ে পৌঁছাবে। সেখানে একদিন কোয়ারেন্টাইন করবে পুরো দল। এর পরই অনুশীলন শুরু করবে। তিনি আরো জানান, মোট তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এর মধ্যে প্রথমটি ৮ অক্টোবর ওমান ‘এ’ দলের বিপক্ষে। পরদিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান ধরবে টাইগাররা। আবুধাবিতে ১২ অক্টোবর শ্রীলঙ্কা ও ১৪ অক্টোবর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আরও দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচ রয়েছে। সেই দুটি ম্যাচ খেলার পর আবারও ওমানের বিমান ধরবে বাংলাদেশ দল। কারণ, সেখানেই প্রথম রাউন্ডের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় রাউন্ড বা সুপার টুয়েলভে খেলতে হলে গ্রুপে শীর্ষ দুইয়ের মধ্যে থাকতে হবে রিয়াদ বাহিনীকে।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়