খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পিছিয়ে ৩১ অক্টোবর

আগের সংবাদ

সারাদেশে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সমাবেশ ২৩ সেপ্টেম্বর

পরের সংবাদ

রাসেলসহ ইভ্যালির ২০ জনের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় মামলা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১ , ১:২৭ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১ , ২:০৬ অপরাহ্ণ

এবার ৩৫ লাখ টাকা পাওনা পরিশোধ না করার অভিযোগে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হয়েছে। শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে মো. কামরুল ইসলাম চকদার বাদি হয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের ধানমন্ডি থানায় মামলাটি করেন।

রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শনিবার দিবাগত রাতে কামরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও মোট ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সিও মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ছাড়াও বাকি আসামিরা হলেন, ইভ্যালির ভাইস প্রেসিডেন্ট আকাশ, ম্যানেজার জাহেদুল ইসলাম হেময়, সিনিয়র অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার তানভীর আলম, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ কমার্শিয়াল জাওয়াদুল হক চৌধুরী, হেড অব অ্যাকাউন্টস সেলিম রেজা, অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার জুবায়ের আল মাহমুদ, অ্যাকাউন্টস শাখার কর্মকর্তা সোহেল, আকিবুর রহমান তূর্য, সিইও রাসেলের পিএস মো. রেজওয়ান, বাইক ডিপার্টমেন্টের সাকিব রহমানসহ ২০ জন। এজাহারে বাদি উল্লেখ করেছেন, ইভ্যালির ধানমন্ডি কার্যালয়ে তিনি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য সরবরাহ করেছেন। কিন্তু ইভ্যালি তার পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি। ওসি আরও বলেন, কামরুল ইসলামের করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা দায়ের হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই র‍্যাব তাদের মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে।

পরে শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‍্যাব সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ইভ্যালি ছিল মোটামুটি একটি পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। রাসেল ও তার স্ত্রী পদাধিকারবলে নিজেরা মাসিক ৫ লাখ টাকা করে বেতন নিতেন। তারা কোম্পানির অর্থে ব্যক্তিগত দুটি দামি গাড়ি (রেঞ্জ রোভার ও অডি) ব্যবহার করেন। এছাড়া কোম্পানির প্রায় ২৫-৩০টি যানবাহন রয়েছে। ব্যক্তি পর্যায়ে সাভারে রাসেলের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জায়গা-জমিসহ অন্যান্য সম্পদ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইভ্যালির বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ টাকা রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি গেটওয়েতে ৩০-৩৫ কোটি গ্রাহকের টাকা আটকা হয়ে আছে বলে রাসেল জানান। গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, রাসেল ২০০৭ সালে একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন ও পরবর্তীতে তিনি ২০১৩ সালে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। তিনি ২০০৯ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করেন। ২০১১ সালে তিনি ব্যাংকিং সেক্টরে চাকরি শুরু করেন। তিনি প্রায় ৬ বছর ব্যাংকে চাকরি করেন। তিনি ২০১৭ সালে ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। তিনি প্রায় এক বছর শিশুদের ব্যবহার্য একটি আইটেম নিয়ে ব্যবসা করেন এবং এরপর তিনি ওই ব্যবসা বিক্রি করে দেন। ২০১৮ সালে আগের ব্যবসালব্ধ অর্জিত অর্থ দিয়ে ইভ্যালি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ইভ্যালি কার্যক্রম শুরু হয়। কোম্পানিতে তিনি সিইও এবং তার স্ত্রী চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হন।

র‍্যাবের মুখপাত্র বলেন, ইভ্যালির ব্যবসায়িক অবকাঠামো সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভাড়াকৃত স্পেসে ধানমণ্ডিতে প্রধান কার্যালয় এবং কাষ্টমার কেয়ার স্থাপিত হয়। একইভাবে ভাড়াকৃত স্পেসে আমিন বাজার ও সাভারে দুটি ওয়ার হাউজ চালু করা হয়। কোম্পানিতে একপর্যায়ে প্রায় দুই হাজার ব্যবস্থাপনা স্টাফ ও ১৭০০ অস্থায়ী কর্মচারি ছিল। ব্যবসায়িক অবনতিতে বর্তমানে যথাক্রমে স্টাফ ১ হাজার ৩০০ জনে ও অস্থায়ী পদে প্রায় ৫০০ জন কর্মচারিতে এসে দাঁড়িয়েছে। কর্মচারিদের একপর্যায়ে মোট মাসিক বেতন বাবদ দেওয়া হতো প্রায় ৫ কোটি টাকা, যা বর্তমানে ১.৫ কোটিতে দাড়িয়েছে। গত জুন থেকে অনেকের বেতন বকেয়া রয়েছে।

ডি-এফবি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়