মেট্রোরেলের ৪ বগি ২ ইঞ্জিন আসছে অক্টোবরে

আগের সংবাদ

জব্দ পাসপোর্ট ফেরত পেলেন না সাংবাদিক রোজিনা

পরের সংবাদ

রাজপথে আন্দোলনের বিকল্প নেই: মোশাররফ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১ , ৬:৪৩ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১ , ৬:৪৪ অপরাহ্ণ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার ও মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো বিকল্প নেই। আর এজন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজপথে যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের পতন ঘটাতে হবে।

রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ‘নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক একটি ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। ‘সাউথ এশিয়া ইয়ুথ ফর পিস এন্ড প্রসপারিটি সোসাইটি’ নামে একটি সংগঠন এ ওয়েবিনারের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন ড. সাজ্জাদুল হক।

বিএনপির এই নেতা বলেন, কেবলমাত্র আইনের মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা যাবে না। ঘুণে ধরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দলীয় সরকারের অধীনে কোনভাবেই নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করা যায় না। বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চার ইতিহাস সুদীর্ঘ নয়। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় অঙ্গসমূহ ঘুণে ধরা এবং দুর্নীতিগ্রস্ত।

অনুষ্ঠানে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ যেভাবে শক্তিশালী, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে চান তা কখনোই বর্তমান আওয়ামী সরকারের দ্বারা পূরণ হবে না। শতভাগ রাজনৈতিক এই বিষয়ের সমাধান রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে এবং রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে প্রযুক্তি অসচেতনমূলক ভোটারদের জন্য ইভিএম ব্যবস্থা একেবারেই অনুপযুক্ত।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম (বীর প্রতীক) বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন ঠুটো জগন্নাথের মত আচরণ করছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া নির্বাচনগুলোয় হওয়া ভোট জালিয়াতি ঠেকাতে নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি ব্যর্থ ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়াও নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য করা সার্চ কমিটি একটি প্রহসন মাত্র, যার মাধ্যমে মূলত সরকার দলের পছন্দের লোকজন কমিটিতে জায়গা পান। এর মাধ্যমে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো তাদের রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়াও তিনি ইভিএম বা ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের মাধ্যমে ভোটে জালিয়াতির যে সুযোগ তৈরি হয় সে বিষয়েও আলোকপাত করেন।

তিনি বলেন, শক্ত নৈতিক চরিত্রসম্পন্ন মানুষের মাধ্যমে গঠিত নির্বাচন কমিশন দ্বারা এই সকল অসঙ্গতি দূর করা সম্ভব। এ ব্যাপারে মহামান্য রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত অথবা সুষ্ঠু আলোচনার মাধ্যমে সরকার যদি নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠনে রাজি না হয় তাহলে রাজনৈতিক আন্দোলনই একমাত্র সমাধান হবে বলে তিনি মনে করেন।

সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং কমিশনারবৃন্দ কারা হবেন তা সাংবিধানিকভাবে সংসদে পাশ হতে হবে। সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের জন্য যে আইন আছে বর্তমান দলীয় সরকারের আজ্ঞাবহ এই নির্বাচন কমিশন সে আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ এবং পালন করতে পারছে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভ্যাকসিন হল নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশন।

রি-আরজে/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়