সাকিব নাকি নারিন কে খেলবেন আগামীকাল

আগের সংবাদ

বিনা মাশুলে বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা করতে পারবে শিক্ষার্থীরা

পরের সংবাদ

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের বক্তব্য প্রত্যাহার চায় আইনজীবী সমিতি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১ , ১০:৩৪ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১ , ১০:৩৫ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের পরীর পাহাড়ের স্থাপনা নিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন ‘জঘন্য মিথ্যাচার’ করছে বলে অভিযোগ করেছেন আইনজীবী নেতারা। জেলা প্রশাসকের ‘মানহানিকর’ এসব বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করে সমিতির কাছে জেলা প্রশাসককে ক্ষমা চাওয়ার জোর দাবি করেছেন চট্টগ্রামে আইনজীবী নেতৃবৃন্দ। নাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ। এতে করে পরীর পাহাড়ে আইনজীবী সমিতির প্রস্তাবিত নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসন ও আইনজীবীদের মধ্যে যে ‘টাগ অব ওয়ার’ চলছিল তা আরো ঘনীভুত হচ্ছে।

রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এ হুঁশিয়ারি দেন। পাশাপাশি চট্টগ্রামের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করে জেলা প্রশাসন ‘বরিশালের মত’ অনাকাঙ্খিত ঘটনা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন আইনজীবী নেতৃবৃন্দ।

এদিকে রবিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমানের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে আইনজীবী সমিতির নেতাদের এসব বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য রাজি হননি। তবে তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, পরীর পাহাড় নিয়ে কি করতে হবে প্রধানমন্ত্রী একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে আমি নির্দেশনা পালন করবো। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী আইন মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয় পরিবেশসহ অন্যান্য সংস্থাকে নিয়ে কাজ করবো। আমি যেহেতু সরকারি চাকরি করি, কে কি মন্তব্য করেছেন, সে প্রেক্ষিতে আমি কোনকিছু বলতে চাইনা।

রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জিয়াউদ্দিন তাদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের আনীত অভিযোগ সম্পুর্ন অস্বীকার করেন। তিনি আইনজীবীদের পক্ষ থেকে উল্টো অভিযোগ করেন, পরীর পাহাড়ের অবৈধ স্থাপনার জমি লিজ দেয়া ও ভাড়া উত্তোলন নিয়ে জেলা প্রশাসনের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলেন সমিতির নেতৃবৃন্দ। পরীর পাহাড়ে আইনজীবী সমিতির কোনো অবৈধ স্থাপনা নেই। পরীর পাহাড়ে দোকান, হোটেল, হকার ও বস্তির জমির লিজ জেলা প্রশাসন দিয়েছে। যা থেকে জেলা প্রশাসন দৈনিক ও মাসিক ভাড়া তোলে। তদন্ত হলে বের হবে, এসব স্থাপনা কার আর ভাড়া কে নেয়।

জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পরীর পাহাড়ে যে জায়গাটি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে আইনজীবী সমিতির। ছবি: ভোরের কাগজ।

জিয়াউদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে সম্মান ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। আইনজীবী সমাজ সংঘাতে বিশ্বাস করে না বলেই জেলা প্রশাসনের সকল অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবসময় আইনি পথে হেঁটেছে। জেলা প্রশাসক বিভিন্ন গণমাধ্যমে জেলা আইনজীবী সমিতির নামে যে মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন, অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করে সমিতির কাছে উনার ক্ষমা চাইতে হবে। অপপ্রচার চালিয়ে সমিতির বিরুদ্ধে যে জঘন্য মিথ্যাচার করা হয়েছে, তা প্রত্যাহার না করলে অনতিবিলম্বে আইনি ব্যবস্থার পথে হাটবো। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ধরনের এখতিয়ার বর্হিভূত কর্মকাণ্ড এবং মিথ্যাচার অব্যাহত থাকলে উনার (জেলা প্রশাসক) অপসারণ চাইতে বাধ্য হব।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সমিতির ভবনসমূহ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) অনুমোদিত এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুদান, আইন মন্ত্রণালয়ের অনুদার ও সমিতির নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে। তাছাড়া আইনজীবী সমিতির ভবনসমূহ নির্মাণের সময় কোন পাহাড় টিলা কাটা হয়নি। পাহাড়ের ঢালু রক্ষা করে অর্থাৎ পাহাড়ের আকৃতি, প্রকৃতি বিনিষ্ট না করে ধাপে ধাপে ভবনগুলো নির্মাণ কর হয়। যদি পাহাড় টিলা কাটা হত তবে নিশ্চয় সে সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাধা প্রদান করতো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের সমিতির যে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক, মিথ্যা তথ্য দিয়ে তা বিনষ্টের অসৎ উদ্দেশ্যে অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন।

ইতোমধ্যে পরীর পাহাড়ে নতুন স্থাপনা নির্মাণ না করতে এবং অবৈধ স্থাপনা অপসারণ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে তাতে সায় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ পূর্ণ পরিস্থিতিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জেলা আইনজীবী সমিতি। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, বদরুল আনোয়ার, শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনতোষ বড়ূয়া, মুজিবুল হক, আব্দুর রশিদ প্রমুখ।

সমিতির সভাপতি এনামুল হক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে বলেন, গণমাধ্যমে দেখেছি জেলা প্রশাসক একটি গোপন প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দিয়েছেন, সেখানে সব বক্তব্য মিথ্যাচার। প্রতিবেদনে বলেছেন, আমাদের ভবনগুলো অবৈধ। অথচ সিডিএ বলেছে সেগুলো অনুমোদিত। প্রতিবেদনে কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় অননুমোদিত ৩৫৩টি অবৈধ স্থাপনার কথা আছে। সেগুলো থেকে জেলা প্রশাসন নিয়মিত ভাড়া নেয়। প্রতিবেদনে নতুন ভবনে চেম্বার বরাদ্দের জন্য ১২ কোটি টাকা আদায়ের যে কথা বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত একটি টাকাও সংগ্রহ করা হয়নি।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ১৮৯৩ সালে নির্মিত পুরাতন আদালত ভবনেই সমিতির কার্যালয় ছিল। সে সময় সেখানে বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের কোনো কার্যালয় ছিল না। আয়ুব খানের আমলে এখানে অস্থায়ী অফিস শুরু হয়। ১৯৭৭ সালে স্থায়ী লিজ দলিল মূলে সরকারি খাস জমি সমিতিকে হস্তান্তর করা হয়। ‘আইনজীবী সমিতি ভবন’ নির্মাণের পর খালি জমি আবার স্ট্যাম্প ভেন্ডর সমিতিকে জেলা প্রশাসন লিজ দেয়ার উদ্যোগ নিলে স্বত্ত্ব ঘোষণার মামলা করে সমিতি। ২০০৪ সালে লিজ পাওয়া জমির চৌহদ্দি নির্ধারণ করে সমিতির পক্ষে রায় দেয় আদালত। এরপর ওই জমিতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা মামলায়ও নিষেধাজ্ঞার আদেশ পায় সমিতি। ২০১৪ সালে সে সময়ের জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে সমিতির জমির সীমানা চিহ্নিত করে দেয়া হয়। অতীতে বিভিন্ন সময় কোর্ট হিল নিয়ে জেলা প্রশাসন ‘একনায়কতন্ত্র ও দখলদারিত্ব’ দেখালে আইনজীবীরা প্রতিবাদসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিলেন বলেও জানান আইনজীবী নেতারা।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়