টাইমস, টেলিগ্রাফ ও রেডিও প্রাগের একাত্তর প্রতিবেদন

আগের সংবাদ

ই-কমার্স নীতিমালায় গলদ

পরের সংবাদ

নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ, রাসেলদের দমন করুন

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১ , ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১ , ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ

এমএলএম কোম্পানিগুলো ব্যবসার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ নামে কয়েকটি কোম্পানির প্রতারণার কথা বারবার সামনে আসছে। গ্রাহকরা তাদের পাওনা দাবিতে বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ করছে। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে ইভ্যালি ডটকম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এর আগে ই-অরেঞ্জের মালিক দম্পতি সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমানকে গ্রেপ্তার হয়। খবরে প্রকাশ, ইভ্যালি ছাড়া আরো অন্তত ১৫ ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনের তথ্যে জানা যায়, ইভ্যালির মোট দায় ৪০৭ কোটি টাকা। এছাড়া ২১৪ কোটি টাকা গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম তুলে নিয়েছে তারা। আর ১৯০ কোটি টাকার পণ্য মার্চেন্টদের কাছ থেকে ইভ্যালি বাকিতে কিনেছে। প্রতিষ্ঠানটির ন্যূনতম ৪০৪ কোটি টাকার সম্পদ থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ৬৫ কোটি টাকার সম্পদ। এছাড়া ইভ্যালির ৩৩৯ কোটি টাকার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এ টাকা আত্মসাৎ বা অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গ্রাহকদের এত টাকা কে ফেরত দেবে। এর দায়ভার কার? নানা প্রশ্ন সামনে আসছে এখন। আইনের কার্যকারিতা না থাকায় অবৈধ মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ব্যবসা চলছে দেশে। এতে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এর আগে ডেসটিনি, যুবকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতারণার কথা সবাই অবগত। কোম্পানিগুলো হাতিয়ে নিয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। এমনকি অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রণয়নের ৮ বছর পরও ‘মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ কার্যকর না হওয়া দুঃখজনক। ডেসটিনি গ্রুপের অনিয়ম-দুর্নীতি ও প্রতারণার ফাঁদ ধরা পড়ার পর সরকার বিষয়টি প্রথম আমলে নেয় ২০১২ সালে। এমএলএম পদ্ধতির ব্যবসায়ের মাধ্যমে এক যুগ ধরে (২০০০-১২) ডেসটিনি কোম্পানি মানুষের কাছ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রতারণা করে নিয়েছে। এ ঘটনায় দুদকের মামলা দায়েরের পর ৯ বছর অতিবাহিত হলেও বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তিহীন। ২০১৩ সালের অক্টোবরে এমএলএম ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণয়ন করা হয়। এতে বলা হয়, লাইসেন্স ছাড়া বহু ধাপ বিপণন কার্যক্রম চালানো যাবে না; যেসব প্রতিষ্ঠানের এ কার্যক্রম রয়েছে, আইনটি পাসের পর ৯০ দিনের মধ্যে তাদের লাইসেন্স নিতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া কেউ এ কার্যক্রম চালালে তার ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা হবে। এ আইন অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া এমএলএম ব্যবসা করা যায় না। সরকারের অনুমোদন ছাড়া লাইসেন্স হস্তান্তর করতেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আইন পাসের পরও নতুন নতুন নামে এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা করছে অনেকে। এতে প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। এখনই সময় এমএলএম বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর হতে হবে। না হয় এমন ঘটনা আমাদের প্রায়ই দেখতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়