শুদ্ধাচার, জবাবদিহিতা ও ন্যায়পাল

আগের সংবাদ

জামালপুরের নিখোঁজ তিন মাদরাসাছাত্রী উদ্ধার

পরের সংবাদ

রেলে সেবার মান বাড়াতে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হোক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১ , ৫:০৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১ , ৫:০৫ পূর্বাহ্ণ

দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো রেলওয়ে। অথচ দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অবহেলার শিকার হয়ে আসছিল রেলওয়ে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে রেলের দিকে দৃষ্টি ফেরায়। স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় হয়েছে রেলওয়ে। রেল উন্নয়ন মহাপরিকল্পনাও হাতে নেয়া হয়েছে, যা দেশবাসীকে খুবই আশান্বিত করেছে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শ্লথগতি, সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি অনাকাক্সিক্ষত প্রতিবন্ধকতায় পড়ার খবর আমাদের স্বভাবতই হতাশ করে। গতকাল ভোরের কাগজের প্রধান প্রতিবেদনে উঠে আসে এমন হতাশার চিত্র। জানা যায়, রেল উন্নয়নে বিগত ১০ বছরে ২ লাখ ২৬ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯০টি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার। এসবের মধ্যে রয়েছে- পদ্মা লিংক রেল প্রকল্প, দোহাজারী কক্সবাজার রামু গুনদুম প্রকল্প, খুলনা-মোংলা রেল প্রকল্প, সব মিলিয়ে সোয়া ২ লাখ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান রেলের। কিন্তু সবই প্রায় মুখ থুবড়ে পড়ার অবস্থা, কোনোটিই সময়ে শেষ হয়নি, প্রায় প্রতিটি প্রকল্পের বাড়ছে মেয়াদ, সঙ্গে সঙ্গে খরচও কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে। প্রকল্পের কেনাকাটায় দুর্নীতি, প্রকল্প পরিচালকদের পকেট ভারি হচ্ছে। সরকার ১০টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এসব প্রকল্পের ওপর বিশেষ তদারকির ব্যবস্থাও রাখা হয়। অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলোর মধ্যে রেলওয়ের তিন প্রকল্পের অগ্রগতি খুবই শ্লথ। পদ্মা লিংক রেল সংযোগ প্রকল্পের অগ্রগতি ৯ শতাংশ, দোহাজারী-কক্সবাজার রেল প্রকল্পের অগ্রগতি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। আর বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দরের রেল সংযোগ প্রকল্পের অগ্রগতি এখনো শূন্যের কোঠায়। ভূমি অধিগ্রহণ, বিদেশি দাতা সংস্থার ঋণ ছাড়ে বিলম্ব এবং টেন্ডারে বিলম্বসহ নানা জটিলতায় এ তিন প্রকল্পের এই অবস্থা হয়েছে বলে জানা যায়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র বলছে, বড় বড় প্রকল্পের দিকে বিশেষ নজর দেয়ার জন্য সরকার ১০টি মেগা প্রকল্পকে ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত করে। এসব প্রকল্পে কোনো ধরনের সমস্যা তৈরি হলে সঙ্গে সঙ্গে যাতে তার সমাধান করা যায়, সে জন্য গঠন করা হয়েছে উচ্চপর্যায়ের কমিটি। ১০টি প্রকল্পের মধ্যে বেশিরভাগ প্রকল্পই সঠিক পথে রয়েছে। তবে রেলওয়ের তিন প্রকল্প পিছিয়ে পড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবার। সারাদেশে ঝুঁকি নিয়ে চলছে রেল। লাইনচ্যুত হওয়াসহ ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই আছে রেলপথে। পর্যাপ্ত নতুন রেলপথ, সেতু নির্মাণ ও সংস্কার করা দূরে থাক, বিদ্যমানগুলোই সংস্কার করা হচ্ছে না। প্রায়ই খবর আসে রেলসেতু ভেঙে যাওয়ার ঘটনা। বাংলাদেশ রেলওয়ের অধিকাংশ সেতুই নির্মিত হয়েছে ব্রিটিশ আমলে। এসব সেতুর বেশিরভাগই ঝুঁকিপূর্ণ-জরাজীর্ণ। জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা এসব সেতুর ওপর দিয়েই চলছে ট্রেন। ফলে একটু উনিশ-বিশ হলেই ঘটছে দুর্ঘটনা। আমরা বিশ্বাস করি, পরিকল্পনা অনুযায়ী সময়মতো প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে সত্যিকার অর্থে রেল যোগাযোগে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে। তার সুফল পড়বে দেশের সার্বিক অগ্রগতিতে। সব দিক বিবেচনায় নিয়েই প্রয়োজনে প্রকল্পগুলো তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে। আমরা চাই সব সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে রেল উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গতি আসুক।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়