গ্রাহকদের টাকার কী হবে

আগের সংবাদ

জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

পরের সংবাদ

নিয়ন্ত্রণহীন পণ্যমূল্য ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১ , ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১ , ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ

পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজার। চাল, ডাল থেকে শুরু করে তেল, সর্বশেষ চিনির দাম বেড়েই চলছে। সরকার খুচরা পর্যায়ে খোলা চিনির দাম ৭৪ টাকা ও প্যাকেটজাত চিনির দাম ৭৫ টাকা নির্ধারণ করলেও বাজারে এর প্রভাব নেই। বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে চিনি।

বৃহস্পতিবারও বাজারে প্রতিকেজি খোলা চিনি বিক্রি হয়েছে ৭৮ টাকা, লাল চিনি প্রতি কেজি ৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। শুধু যে চিনির দাম বেড়েছে তা নয়, মসুরের ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা। আটার দামও বেড়েছে কেজিপ্রতি ৬ টাকা। নতুন করে আবারো বাড়ছে ভোজ্যতেলের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিনের দাম বেড়েছে ৫টাকা। বাজার যেন লাগামহীন, দেখার কেউ নেই। বাজার মনিটরিং টিম থেকে দাম নিয়ন্ত্রণের সরকারি বিভিন্ন সংস্থা থাকলেও মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চিনির দাম বাড়ার জন্য আর্ন্তজাতিক বাজারে দাম বাড়াকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। সবচেয়ে বড় বিষয়, আমদানি নির্ভরতার কারণে নিত্যপণ্যের এত বেশি দাম বেড়েছে। সাধারণত কোনো খাদ্য বা ভোগ্যপণ্যের সরকারি মজুদ যদি না থাকে বা কম থাকে তাহলে বাজারের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের হাতে। তারাই বাজারের সরবরাহ ও দাম ঠিক করেন। এতে বাজার প্রতিযোগিতা নষ্ট হয়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে সরকারি কোনো চিনি মজুত নেই বললেই চলে। ডিসেম্বর পর্যন্ত যা উৎপাদন হবে তা মোট চাহিদার ২ শতাংশেরও কম। আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়াসহ নানা অজুহাতেই চিনির দাম ক্রমাগত বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে মিল মালিকদের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব অগ্রাহ্য করতে পারছে না সরকারও।

এ বিষয়ে সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা ভোরের কাগজকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম প্রায় দিগুণ হয়ে গেছে। এই কারণে দেশের বাজারেও চিনির দাম বেড়েছে। তবে আমরা সরকার নির্ধারিত দামে বাজারে চিনি বিক্রি করছি।

চিনির দাম পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত এক বছরে দেশের বাজারে চিনির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১৮ টাকা বা ৩১ শতাংশের বেশি। আর দুই বছরের মধ্যে বেড়েছে ২৮ টাকা বা ৫৫ শতাংশ। গতকাল বৃহস্পতিবার খুচরা বাজারে চিনি বিক্রি হয়েছে ৭৮ টাকা কেজি। অথচ এক বছর আগে এই সময় অর্থাৎ সেপ্টেম্বর মাসে বাজারে চিনি বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৬০-৬৫ টাকা দরে। অর্থাৎ এক বছরে চিনির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ১৮ টাকা। গত বছর গড়ে চিনির দাম ছিল ৬২ টাকা ৫০ পয়সা। এখন গড়ে চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭৮ টাকা কেজি। এর আগের বছর ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চিনির দাম ছিল কেজিপ্রতি ৫০-৫২ টাকা। সে হিসেবে দুই বছরের ব্যবধানে চিনির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি গড়ে ২৮ টাকা বা ৫৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে বছরে চিনির চাহিদা প্রায় ১৮ লাখ মেট্রিক টন। চালু থাকা সরকারি ৯টি চিনিকল থেকে আগামী

ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩০ হাজার টনের মতো চিনি পাওয়া যাবে। সে হিসেবে মোট চাহিদার মাত্র ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ উৎপাদন হবে। গত মার্চ-এপ্রিলেও ৫০ হাজার টন চিনি মজুত ছিল।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) আমদানি তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে দেশে অপরিশোধিত চিনি আমদানি হয়েছিল ২ লাখ ৭২ হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন। পরের মাস অর্থাৎ গত বছরের জানুয়ারিতে তা বেড়ে দুই লাখ ৯১ হাজার টনে ওঠে। ফেব্রুয়ারিতে আরো বেড়ে ৩ লাখ ৮৬ হাজার টনের বেশি হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে অপরিশোধিত চিনির আমদানি কিছুটা কমলেও ৩ লাখ টনের কাছাকাছিই ছিল।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৩ লাখ ২০ হাজার টন অপরিশোধিত চিনি আমদানি হয়। মার্চ-এপ্রিলে আমদানি ছাড়িয়ে যায় পাঁচ লাখ টনের বেশি। মার্চে পাঁচ লাখ ৩২ ও এপ্রিলে পাঁচ লাখ ২০ হাজার টন অপরিশোধিত চিনি আমদানি হয়। অথচ বছর পাঁচেক আগেও দেশে চিনি আমদানি আরো অনেক কম ছিল। ২০১৭ সালে জানুয়ারিতে অপরিশোধিত চিনি আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩৪০ মেট্রিক টন। ওই বছর ডিসেম্বরে ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার টন। অর্থাৎ আমদানি দুই লাখ টনের বেশি হয়নি।

এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা কনসার্স কনজুমার সোসাইটির (সিসিএস) নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ ভোরের কাগজকে বলেন, দেশের চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন বড় বড় ব্যবসায়ীরা।

সেক্ষেত্রে চিনির খুচরা দাম নির্ধারণ করে দেয়ায় ভোক্তারা কিছুটা উপকার পাবেন। নির্ধারিত দামের বেশি নিলে চাইলেই তারা অভিযোগ জানাতে পারবেন। তবে সরকারের উচিত দাম বাড়ার বিষয়ে কঠোর নজরদারি। কেউ যাতে এসব বিষয় নিয়ে কারসাজি না করতে পারে।
বাজারে প্রতিদিনই বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। চাল, ডালের পর আবারো বাড়ছে তেলের দাম। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শুধু চিনির দামই নয়, কেজিতে মসুরের ডালের দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। প্রতি কেজি মসুরের ডাল (বড়) বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা, মাঝারি ১০০ টাকা, আর ছোট সাইজের মসুরের ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০টাকায়।

চলতি সপ্তাহে সয়াবিন তেলের দামও বাড়তে শুরু করেছে। প্রতি ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৫ টাকা। গত সপ্তাহে ৭১০ টাকায় বিক্রি হওয়া তেল গতকাল বাজারে বিক্রি হয়েছে ৭১৫ টাকায়। সেই সঙ্গে কেজিপ্রতি আটার দাম বেড়েছে প্রায় ৬ টাকা। গত সপ্তাহে ৩৪ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া প্যাকেটজাত আটা গতকাল বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা কেজি দরে।

আমদানিকারকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বাড়ার কারণে চিনি আমদানির খরচ বেড়েছে। এতে বাজারে চিনির দাম বাড়তি। সেক্ষেত্রে আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক কমিয়ে আনার দাবিও তুলেছেন কেউ কেউ। আর ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের নজরদারি বাড়ানো উচিত। সেই সঙ্গে সরকারের ওএমএস কার্যক্রম আরো বাড়ানোর পরামর্শও তাদের।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়