স্বাস্থ্যবিধি পালন একটি পারস্পরিক দায়িত্ব

আগের সংবাদ

চ্যালেঞ্জ ঝরে পড়াদের ফেরানো

পরের সংবাদ

ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য

প্রদীপ সাহা

কলাম লেখক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১ , ৫:০৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১ , ৫:০৪ পূর্বাহ্ণ

অবশেষে দেড় বছর পর প্রতিটি শিক্ষার্থীর মধ্যে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। অভিভাবকরা ফেলেছেন স্বস্তির নিঃশ্বাস। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনোরকম যোগাযোগ না থাকায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। অভিভাবকরাও ভীষণ উদ্বিগ্ন ছিলেন তাদের সন্তানদের নিয়ে। যদিও সংক্রমণের ভয় এখনো পুরোপুরি কাটেনি, তারপরও সবার মুখে সুখের হাসি। আবার সবাই কাঁধে ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যাবে। আবার সবাই বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে মেলামেশা করতে পারবে। তবে যদি করোনা সংক্রমণের ভয়টা পুরোপুরি কেটে যেত, তাহলে এটা হতো শতভাগ সুখের একটি সংবাদ। সবাই দলবেঁধে স্কুলে যাবে, একসঙ্গে মেলামেশা করবে- এতে নতুন করে সংক্রমণের আশঙ্কা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে!
দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীরা অনেক পিছিয়ে গেছে। পড়ালেখার দীর্ঘ বিরতিতে অনেকেই বিপথে চলে গেছে। অনলাইনে ক্লাস করার অজুহাতে মোবাইল-ল্যাপটপের অপব্যবহার বা কুফল অনেক শিক্ষার্থীর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি থেকে এবং মোবাইল-ল্যাপটপে মগ্ন থেকে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অনেকেই পড়ালেখায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে এবং লেখাপড়া বাদ দিয়ে উপার্জনের পথে নেমেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- দীর্ঘ দেড় বছরে শিক্ষার্থীদের এই যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল, তা কি আদৌ পূরণ করা সম্ভব হবে? তাই এ কথা অবশ্যই ভেবে দেখতে হবে যে, এসব ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেয়া যায়? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের সবাইকে বুঝতে হবে, পৃথিবী থেকে করোনা এখনো সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়নি। যে কোনো সময়ে আমাদের সামান্য অবহেলা ও অসতর্কতার ফলে আবার তা আঘাত হানতে পারে। বেড়ে যেতে পারে আবার সংক্রমণ। এতদিনে আমরা তো এটা বুঝে গেছি যে, যেহেতু নাক ও মুখ দিয়ে করোনার ভাইরাস সহজেই শরীরে প্রবেশ করে, কাজেই মুখে মাস্ক পরাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে, বিশেষ করে সঠিকভাবে মাস্ক পরলে এবং ঘন ঘন হাত পরিষ্কার করলে সংক্রমণের আশঙ্কা কম হবে। অথচ এ ব্যাপারটা আমরা অনেকেই বুঝতে চাই না। এটা সম্পূর্ণভাবে আমাদের উদাসীনতা, আমাদের অবহেলা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও আগের মতো শিক্ষার্থীরা প্রাণ খুলে সেভাবে সহজে মেলামেশা করতে পারবে না, কিন্তু ভাঙতে তো পারবে বন্দি জীবনের অসহনীয় যন্ত্রণা। দীর্ঘ দেড় বছর পর যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হলো, তা যেন আমাদের সামান্য অবহেলা ও অসতর্কতায় আবার বন্ধ হয়ে না যায়, সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে। কাজেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আনন্দে আমরা যেন শুধু বিভোর না থাকি এবং ভুলে না যাই করোনা নামের এই শক্তিশালী ভয়াবহ দানবের কথা। আমরা প্রত্যাশা করি, একদিন সত্যিকারভাবেই চিরচেনা রূপে ফিরবে সব শিক্ষাঙ্গন এবং তখন সবাই সবার সঙ্গে আগের মতো মেলামেশা করতে পারবে।
প্রদীপ সাহা
কলাম লেখক
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়