এমএনএম ত্রিফলা রসায়ন জমতে সময় লাগবে: পচেত্তিনো

আগের সংবাদ

সৌদির উদ্দেশে দেশ ছাড়লেন সাত টাইগার

পরের সংবাদ

জীবন বাঁচাতে পাকিস্তানে আফগান নারী ফুটবলাররা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১ , ১০:১৩ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১ , ১০:১৩ অপরাহ্ণ

আমেরিকা দীর্ঘ ২০ বছর পর গত মাসে আফগানিস্তান থেকে তাদের মিলিটারি ঘাটি সরিয়ে নেয়। এরপর দ্বিতীয় মেয়াদে তালেবান সরকার দেশটির ক্ষমতা দখল করে। তালেবানরা ক্ষমতায় আসার পর আতঙ্কে দেশ ছাড়ে অনেক আফগান নাগরিক। যেখানে দেশটির অ্যাথলেট ও তাদের পরিবারের সংখ্যায় ছিল বেশি।

বিশেষ করে আফগান নারী ফুটবলাররা ছিল এই সরকারের ভয়ে বেশি আতঙ্কিত। তালেবানের ভয়ে দেশটি থেকে প্রথম ধাপে ৫০ জন নারী ফুটবলার পালিয়ে আশ্রয় নেয় অস্ট্রেলিয়াতে। কিন্তু তখনো দেশে রয়ে গিয়েছিল জাতীয় দল ও বয়সভিত্তিক দলের বেশ কিছু নারী ফুটবলার। এতদিন তারা আত্মগোপনে ছিল। শেষমেশ তারাও আশ্রয়ের খোঁজে দেশ ছেড়ে পালায় প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে। ইমরান খানের দেশে কমপক্ষে ৯৬ নারী ফুটবলার ও তাদের পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। বর্ডার অতিক্রম করে অনুপ্রবেশে পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশন তাদের সহযোগিতা করেছে।

এর আগে ২০ শতকের শেষ দিকে তালেবান ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ক্রিকেটসহ সব ধরনের খেলাধুলা নিষিদ্ধ ছিল আফগানিস্তানে। তখনো আফগানিস্তানের অনেক নাগরিক আশ্রয় নিয়েছিল পাকিস্তানে। সেখানে শরণার্থী শিবিরে থেকে পাকদের সহযোগিতায় ক্রিকেট খেলা চালিয়ে গিয়েছিল আফগানরা। পাকিস্তানে ১৯৯৫ সালে গঠিত হয় আফগান ক্রিকেট বোর্ড। এরপর ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা দেখে ২০০০ সালে তালেবানরা আফগানিস্তানের একমাত্র খেলা হিসেবে ক্রিকেটকে অনুমতি দেয়।

তারপর থেকে আজকের নবী, রশিদদের প্রত্যাবর্তন। তবে সেটা শুধু পুরুষদের জন্য। আফগানরা নারীদের ক্রিকেট খেলার কোনো অনুমতি দেননি। এদিকে ক্রিকেটের মতো আফগান নারী ফুটবলাররা পাকিস্তানে বোর্ড গঠন করে খেলা চালিয়ে যেতে আশ্রয় নেননি। তাদের পরবর্তী গন্তব্য অন্যান্য ফুটবলারদের মতো অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা অথবা ইংল্যান্ড। এ বিষয়ে পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তা উমর জিয়া বলেন, ‘আপাতত পাকিস্তানে থাকবেন এই ফুটবলার ও তাদের পরিবার। ৩০ দিন পর তারা তৃতীয় কোনো দেশে চলে যাওয়ার জন্য আবেদন করবেন। আমেরিকা, ইংল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে তাদের পাঠানোর ব্যাপারে চেষ্টা করবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।’

এর আগে তোরখাম সীমান্ত দিয়ে তারা পাকিস্তান পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বর্তমানে পাকিস্তানের লাহোরের গাদ্দাফি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আফগান নারী ফুটবলারদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগানিস্তান তালেবান দখলদারির পর থেকে প্রচুর মানুষ দেশ ছাড়ছেন। এদের মধ্যে একটা বড় অংশ বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও খেলোয়াড়রা।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত আফগানিস্তানে প্রথম তালেবান শাসনের সময় নারীদের জন্য পথের কাটা হয়ে ছিল তারা। সেখানে মেয়েদের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছিল। নারীদের কাজকর্ম করার ব্যাপারেও নেমে এসেছিল নিষেধাজ্ঞা। সে সময় নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ ছিল বড় ধরনের অপরাধ। ২০ বছর পর আফগানিস্তান নতুন করে তালেবান শাসনের অধীনে আসার পর একই ধরনের হুমকি তৈরি হয়েছে দেশটিতে।

এর আগে নারীদের ক্রিকেটসহ সব ধরনের খেলাধুলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন তালেবান সরকার। দলটির সাংস্কৃতিক কমিশনের প্রধান আহমদউল্লাহ ওয়াসিক জানান, ‘ইসলাম নারীদের এমন কোনো খেলা পছন্দ করে না যেখানে শরীরের বিভিন্ন অংশ বোঝা যায়। এ সময় নারীদের ক্রিকেট নিয়ে তিনি জানান, ক্রিকেট এমন একটি খেলা, যেখানে নারীরা তাদের মুখ এবং শরীর ঢেকে খেলতে পারে না।’

তিনি আরো জানান, ‘এটা গণমাধ্যমের যুগ, এখানে ছবি এবং ভিডিও’র ছড়াছড়ি। যেটা আবার সারা পৃথিবীব্যাপী অনেক মানুষ দেখে থাকে। ইসলাম এবং এর বিধান কখনো ক্রিকেট ও এমন ধরনের খেলার অনুমতি দেয় না যেখানে নারীরা তাদের শরীর প্রকাশ করে থাকে।’

তালেবান দখলদারির শুরুতেই আফগানিস্তান নারী ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মেয়ে ফুটবলারদের নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সব পোস্ট মুছে ফেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি তাদের খেলার সামগ্রীগুলো পুড়িয়ে ফেলতে বলেছিলেন।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়