ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য

আগের সংবাদ

তিন মহারথীকে মাঠে নামিয়েও জিততে পারলো না পিএসজি

পরের সংবাদ

চ্যালেঞ্জ ঝরে পড়াদের ফেরানো

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১ , ৫:০৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১ , ৫:০৪ পূর্বাহ্ণ

দেড় বছর পর স্কুল-কলেজ খুলেছে। এ সময় করোনার কারণে বিভিন্ন পর্যায়ের অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমন চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি। গতকাল ভোরের কাগজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সারডোব উচ্চ বিদ্যালয়ের নমব শ্রেণির শিক্ষার্থী নার্গিস আক্তার ছাড়া বাকি ৮ বান্ধবীর সবারই বাল্যবিয়ে হয়ে গেছে। দেড় বছর পর স্কুলে এসে সে একাই ক্লাস করছে। হাসিমুখে স্কুলে এসে মুহূর্তেই নার্গিসের মুখে চিন্তার চাপ পড়ে। স্বপ্ন ভঙ্গের ভয় তাকে চেপে ধরে। কলেজে পড়া তার স্বপ্ন। কিন্তু অভাবের তাড়নায় মা-বাবা কখন তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়। নার্গিসদের মতো এমন স্বপ্ন ভঙ্গ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কয়জনের বা আমরা খবর রাখি। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি পাঠদান বন্ধ আছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি দফায় দফায় বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ঘোষণায় এ ছুটি ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এ সময় প্রায় ৫ কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাসূচি এলোমেলো হয়ে গেছে। বিশেষ করে করোনার এ দুঃসময়ে বাল্যবিয়ে চরম আকারে দেখা দিয়েছে। করোনা ভাইরাসের বিস্তারের এ সময় বাল্যবিয়ের সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। এমনিতেই বাল্যবিয়ের দিক দিয়ে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তার ওপর গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে এর হার বেড়েছে ২২০ শতাংশ পর্যন্ত। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় গ্রামীণ পরিবারগুলোতে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। বাল্যবিয়ে দিয়ে দিয়েছেন বা চিন্তা করছেন এমন মা-বাবার ভাবনা হলো এই করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হতে পারে। এতে অর্থনৈতিক সংকট আরো দীর্ঘায়িত হবে, তাই মেয়ের বিয়ে দেয়ার সুযোগ থাকলে দিয়ে দেয়াই ভালো। ছেলে শিশুরা বিভিন্ন জায়গায় কাজে যুক্ত হয়েছে। অনেকে বাবার সঙ্গে খেতে-খামারে কাজ করছে। এদের স্কুলে ফেরাতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। অবশ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘করোনার কারণে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া, পাঠদান ব্যাহতসহ নানা বিষয়ে একটি রিকভারি প্ল্যান বাস্তবায়ন চলছে। এত দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ থাকলে গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থী হারাবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু কত সংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে সে বিষয়ে একটা জরিপ করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাকালীন সংসদ টেলিভিশনে ক্লাস প্রচার আর কিছু প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে পড়াশোনা করে ক্ষতি পোষানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তাতে খুব একটা লাভ হয়েছে বলে মনে হয় না। বেসরকারি সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযান তাদের ‘এডুকেশন ওয়াচ’ রিপোর্টে বলেছে, করোনার সময় দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শতকরা ৬৯.৫ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পারেনি। টেলিভিশনে প্রদান করা ক্লাসেও অংশগ্রহণ করতে পারেনি অনেকে। অংশগ্রহণ না করার এই হার শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে বেশি। তাদের জরিপ বলছে, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া এবং অনুপস্থিতি দিন দিন আরো বাড়বে। এদিকে করোনার সময়ে দেশের অনেক কিন্ডারগার্টেন এবং নন-এমপিও স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। এ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের একটি অংশ ঝরে পড়েছে। আমরা মনে করি, এসব সংকট কাটিয়ে সঠিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সব শিক্ষার্থীকে পুনরায় শিক্ষামুখী করতে হবে। এ ব্যাপারে শিক্ষক ও অভিভাবকদের আন্তরিক ভূমিকা পালন করতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়