জামায়াতের সেক্রেটারিসহ সাতজনের জামিন নামঞ্জুর

আগের সংবাদ

হারানো ৩ হাজার মোবাইল ফিরিয়ে দিলেন যে পুলিশ কর্মকর্তা

পরের সংবাদ

বসুন্ধরা স্টিল কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে সাড়ে ৮ কোটি টাকার মামলা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১ , ৪:৪৬ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১ , ৪:৪৬ অপরাহ্ণ

এনবিআরের ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর পাইপ উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিল্ডট্রেড গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত বসুন্ধরা স্টিল কমপ্লেক্স লিঃ এর ব্যবসায়িক কার্যক্রম তদন্ত করে প্রায় ৮.৪৮ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন করেছে গোয়েন্দারা। ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়ায় ভ্যাট গোয়েন্দারা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভ্যাট আইনে মামলা দায়ের করেছেন। বসুন্ধরা স্টিল কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় ৩৭, শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ সরণী, তেজগাও শি/এ, ঢাকা । এর নিবন্ধন নম্বর: ০০০০০৩৬৭৫। এর কারখানা মানিকগঞ্জের জাগীর, গোলড়ায় অবস্থিত।

প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন থাকলেও আগস্ট/২০১৫ তে বিল্ডট্রেড গ্রুপ প্রতিষ্ঠানের মালিকানা স্বত্ত্ব ক্রয় করে নেয়। ভ্যাট গোয়েন্দার সহকারী পরিচালক জনাব মো. মাহিদুল ইসলাম এর নেতৃত্বে একটি দল প্রতিষ্ঠানটির জুলাই/২০১৫ হতে জুন/২০১৯ সময়ের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে।

প্রতিষ্ঠানটির দাখিলকৃত সি.এ ফার্ম কর্তৃক প্রদত্ত বার্ষিক অডিট প্রতিবেদন, মাসিক দাখিলপত্র এবং বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক জমাকৃত ট্রেজারি চালানের কপি/ অন্যান্য দলিলাদি হতে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের আড়াআড়ি যাচাই/ পর্যালোচনা করে মামলার প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া তদন্তকালীন প্রতিষ্ঠানের আত্মপক্ষ সমর্থনে বিভিন্ন তথ্যাদি ও বক্তব্যও আমলে নেওয়া হয়েছে।

তদন্ত অনুসারে দেখা যায় যে, প্রতিষ্ঠানটির আমদানিকৃত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে এসআরও সুবিধায় আমদানি করে পণ্যের আকার ও আকৃতি পরিবর্তন না করে অধিকাংশ পণ্য অন্য প্রতিষ্ঠানের নিকট বাণিজ্যিক ব্যবসায়ী হিসাবে বিক্রি করা হয়েছে। আমদানিকৃত পণ্য আমদানিকারী প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল নয়।এ ক্ষেত্রেও এসআরও সূবিধার অপব্যবহারের ফলে আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট বাবদ ১,৮৫,৩৫,৪১৫ টাকা, কাস্টম ডিউটি বাবদ ৯৫,১৮,৩৫৪ টাকা এবং আরডি বাবদ ৩,৬৭,৫৬১ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটি লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ায় বার্ষিক অডিট রিপোর্ট তৈরি করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ২০১৪-২০১৫ অর্থবছর ব্যতিত তদন্ত মেয়াদের পরবর্তী সময়ের বার্ষিক অডিট রিপোর্ট দেখাতে পারেনি এবং তারা আয়কর অফিসেও বার্ষিক অডিট রিপোর্ট দাখিল করেনি।

তদন্ত মেয়াদে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে সিএ ফার্ম কর্তৃক প্রণীত অডিট রিপোর্ট অনুসারে প্রতিষ্ঠানটি উৎসে কোন ভ্যাট কর্তন করেনি; কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির এ খাতে প্রদেয় ভ্যাটের পরিমাণ পাওয়া যায় ৪৪,৪৫,০৬৪ টাকা।এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি উৎস খাতে কোন ভ্যাট পরিশোধ না করায় ভ্যাট ফাঁকি বাবদ ৪৪,৪৫,০৬৪ টাকা উদঘাটন করা হয়। উৎসে খাতে এই ফাঁকির উপর ভ্যাট আইন অনুসারে মাস ভিত্তিক ২% হারে ৪৬,২২,৮৬৭ টাকা সুদ টাকা প্রযোজ্য।

এছাড়া তদন্ত মেয়াদে প্রদেয় ও চলতি হিসাবের পার্থক্য, বিভিন্ন উপকরণে অতিরিক্ত ব্যবহারের উপর রেয়াত কর্তন, ৭.৫০% মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার পরও মূল্য ঘোষণা না দিয়ে রেয়াত গ্রহণ, নির্ধারিত সময়ের পর অবৈধ রেয়াত গ্রহণ, মূল্যভিত্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নেই এমন পণ্যের উপর রেয়াত গ্রহণ সংক্রান্ত অনিয়ম পাওয়া গেছে। অধিকন্তু, আমদানি পণ্য রেজিস্টারে এন্ট্রি না করে খোলা বাজারে বিক্রি করার প্রমাণও পাওয়া গেছে। বর্ণিত খাতসমূহে তদন্তমেয়াদে প্রতিষ্ঠানটি কোন ভ্যাট পরিশোধ করেনি। এক্ষেত্রে উপরোল্লিখিত খাতসমূহে প্রতিষ্ঠানটির অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ ২,৩৯,৪০,৮৮৫ টাকা ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন করা হয়। এই ফাঁকির উপর প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্যাট আইন অনুসারে মাস ভিত্তিক ২% হারে ৬৮,৬৭,৯২২ টাকা সুদ টাকা প্রযোজ্য। তদন্ত মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটি সর্বমোট পরিহারকৃত ভ্যাট (এটিভি সহ) ৫,৩২,৫৬,৮৭৭ টাকা, সুদ বাবদ ২,১৬,৬২,৮৯৭ টাকা, সিডিঃ ৯৫,১৮,৩৫৪.০০ টাকা, আরডিঃ ৩,৬৭,৫৬১ টাকাসহ সর্বমোট ৮,৪৮,০৫,৬৮৯ টাকা পরিহারের তথ্য উদঘাটিত হয়।

তদন্তে উদঘাটিত পরিহারকৃত রাজস্ব আদায়ের আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে মামলাটি সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা পশ্চিমে প্রেরণ করা হয়েছে।একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠাটির ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা থাকায় এর সার্বিক কার্যক্রমের উপর বিশেষ নজরদারি রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটকে আরো মনিটরিং করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়