আইয়ুব খানের শাসনকাল

আগের সংবাদ

বিদেশগামী শ্রমিকদের এ দুর্ভোগ কেন? বিমানবন্দরে দ্রুত পিসিআর ল্যাব স্থাপন করুন

পরের সংবাদ

জিয়া কি সত্যি ভাঙা সুটকেস ও ছেঁড়া গেঞ্জি রেখে গিয়েছিলেন?

বিভুরঞ্জন সরকার

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১ , ১:৫০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১ , ১:৫০ পূর্বাহ্ণ

আমাদের দেশের মানুষের মনে কিছু ধারণা চালু আছে, যেগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার মিল খুব একটা নেই। আমরা ঘটনার চেয়ে রটনায় বেশি বিশ্বাস করি। তাছাড়া প্রকৃত ইতিহাস জানায় রয়েছে আমাদের প্রচণ্ড অনীহা। আমরা বেশিরভাগ সময় শোনা কথায় বিশ্বাস করি। বাড়িয়ে বলতে পছন্দ করি। বিশেষণ প্রয়োগে পারদর্শী। কাউকে সাধু বানাতেও যেমন আমাদের সময় লাগে না, আবার শয়তান বানাতেও দেরি হয় না। একজনকে দৌড়াতে দেখলে কারণ জানতে না চেয়ে নিজেও দৌড় শুরু করে দিই। একজনকে কেউ হয়তো রাস্তায় ধরে পিটুনি দিচ্ছে, তার অপরাধ না জেনে পারলে আমিও তাকে দু’ঘা দিয়ে হাতের সুখ মিটিয়ে আনন্দ পাই। আমাদের কারো কারো মধ্যে নিয়ম-শৃঙ্খলা মানার প্রবণতা কম, নিজে দোষ করলে পার পাওয়ার অসাড় যুক্তি খুঁজি, আরেকজন দোষ করলে তার মুণ্ডুপাত না করলে স্বস্তি পাই না।
এই বৈশিষ্ট্যগুলোর জন্যই দেশের রাজনীতিও ক্রমেই ধারণানির্ভর হয়ে পড়ছে। মানুষ এতটাই বিভক্ত যে, কোনো ইস্যুতে একমত হতে খুব বেগ পেতে হয়। দিন দিন মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ার কথা। অথচ হচ্ছে উল্টোটা। রাজনীতিতে যুক্তিতর্ক কম, গালপল্প বেশি। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি পরস্পর প্রতিদ্ব›দ্বী দুই রাজনৈতিক শক্তি। এর বাইরে অন্য ধারার রাজনীতি থাকলেও তারাও বড় দুই দলের ছাতার নিচে থাকতে পছন্দ করে। বাম ধারা যত দুর্বল হচ্ছে, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি চর্চা তত যেন বাড়ছে। ধর্ম নিয়ে যারা রাজনীতি করে তাদের সঙ্গে আগে দহরমমহরম বেশি না থাকলেও আওয়ামী লীগও এখন ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা দলের সঙ্গে মিতালি করতে দ্বিধা করছে না।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও স্বাধীন দেশে আওয়ামী লীগ শাসন ক্ষমতায় থাকতে পারেনি পুরো মেয়াদকাল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতির দিক পরিবর্তন হয়। সেনাবাহিনীর কয়েকজন উচ্চাভিলাষী জুনিয়র কর্মকর্তা প্রত্যক্ষভাবে হত্যাকাণ্ডে অংশ নিলেও তাদের পেছনে নৈতিক সমর্থন ছিল সিনিয়র কারো কারো। স্বঘোষিত ঘাতকদের দুজনের সাক্ষাৎকার থেকে অন্তত একজন সিনিয়র কর্মকর্তার নাম জানা যায়, তিনি হলেন জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্ব যে মন্ত্রিসভা গঠিত হয় তাতে যারা ছিলেন তারা বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায়ও ছিলেন। মোশতাক এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন বলে এখন বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, বঙ্গবন্ধুকে আওয়ামী লীগই হত্যা করেছে। এটা যেমন অসত্য নয়, তেমনি পুরো সত্যও নয়।
সাদা চোখে যা দেখা যায়, তাই পূর্ণ সত্য নয়। চোখে দেখা সত্য এবং প্রকৃত সত্য সব সময় এক নাও হতে পারে। একটি উদাহরণ দেয়া যাক : আমরা প্রতিদিন দেখি সকালে পূর্ব দিকে সূর্য ওঠে এবং সন্ধ্যায় পশ্চিমে অস্ত যায়। এটা কি প্রকৃত সত্য? না, এটা হলো চোখে দেখা সত্য। বিজ্ঞানের সত্য হলো সূর্য এক জায়গায় ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে, পৃথিবী ঘোরে বলেই আমরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখি। বঙ্গবন্ধু হত্যার ঘটনায়ও চোখে দেখা সত্যের বাইরেও সত্য আছে। আর সেটা হলো, মোশতাক গং সামনে থেকে ভূমিকা পালন করলেও জিয়া খুব দূরে ছিলেন না। জিয়া ছিলেন অসম্ভব চতুর এবং সুযোগ সন্ধানী। এটা আমার অনুমাননির্ভর কথা নয়। বহু ঘটনা দিয়েই তা প্রমাণ করা যাবে। জিয়াকে সামনে রেখে যারা রাজনীতির ছক এঁকেছিলেন তারাও কাঁচা খেলোয়াড় ছিলেন না। জিয়াকে যেভাবে ত্রাতা এবং সততার মূর্ত প্রতীক হিসেবে দেখানোর চেষ্টা তার সমর্থকদের পক্ষ থেকে করা হয়, তিনি যদি সত্যিই তাই হতেন তাহলে বঙ্গবন্ধুর নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ঘৃণ্য কাজটি থেকে নিজে বিরত থাকতেন এবং সাঙ্গোপাঙ্গদেরও বিরত রাখতে সচেষ্ট হতেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার বন্ধের অপচেষ্টার সঙ্গে নিজেকে জড়িত করতেন না।
জিয়াকে চট্টগ্রামে হত্যা করার ঘটনায় তার সমর্থকরা হকচকিয়ে গেলেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যেভাবে আত্মসমর্পণ করেছিলেন বিএনপির নেপথ্য চালকরা তা না করে তার হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজেছেন। জিয়ার সততার গল্প ফেঁদে মানুষকে বিভ্রান্ত করার কৌশল নিতে তারা দেরি করেননি। তিনি ভাঙা সুটকেস এবং ছেঁড়া গেঞ্জি রেখে গেছেন বলে প্রচার করা হয়েছিল। যার কাছে টাকা কোনো সমস্যা ছিল না। যিনি দেশে কেনাবেচার রাজনীতি চালু করেছিলেন, যিনি কয়েক বছর দেশের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন, যার স্ত্রী সারাক্ষণ পটের বিবি সেজে থাকতেন, তিনি ভাঙা সুটকেস এবং ছেঁড়া গেঞ্জি রেখে গেছেন সম্পদ হিসেবে- এমন ফালতু গল্প যারা ছড়িয়েছেন এবং বিশ্বাস করেছেন, তারা যে কতটা অন্ধ তা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় না।
জিয়াউর রহমানকে নিয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিছু কথা বলায় বিএনপি ভীষণ চটেছে। জিয়ার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য তাকে নিয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য নাকি করা হচ্ছে। জিয়া ঘোষণা না দিলে নাকি স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরুই হতো না, দেশ স্বাধীন হতো না। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে সারাবিশ্বের গণমাধ্যমে ২৭ মার্চ অথবা তার পরে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে তাতে কি জিয়ার নাম কোথাও আছে? ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান যে বেতার ভাষণ দিয়েছিলেন তাতে কি জিয়ার নাম উল্লেখ ছিল? যদি জিয়ার কারণেই বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হয়ে থাকে তাহলে ইয়াহিয়া কেন বঙ্গবন্ধুকেই দোষারোপ করে শাস্তি দেয়ার কথা বললেন? যুক্তিসঙ্গত কথাবার্তার চেয়ে গালগল্প যাদের পছন্দ তারা জিয়াকে হিরো বানালেও ইতিহাসে তার ঠাঁই প্রান্তিক অবস্থান থেকে সরবে বলে মনে হয় না।

দুই.
সাংবাদিক হিসেবে আমি খুব ‘বিখ্যাত’ হতে না পারলেও আমার সঙ্গে কাজ করেছেন, আমার সম্পাদিত কাগজে লিখেছেন, তাদের অনেকেই আজ অতি জনপ্রিয় এবং বিখ্যাত সাংবাদিক। তারা জানেন, আমি কখনো কারো ইচ্ছাপূরণের জন্য লেখালেখি করিনি, করি না। সত্যকে এবং তথ্যকে আড়াল করার কোনো চেষ্টা করি না। এজন্য আমাকে অনেকবারই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে।
একটি কাহিনী বয়ান করার লোভ সংবরণ করতে পারছি না।
মেজর (অব.) সুরঞ্জন দাশ ছিলেন কানাডা প্রবাসী। ১৯৯৮ সালে ঢাকা এসে তিনি দৈনিক মাতৃভূমি প্রকাশের উদ্যোগ নেন। মাতৃভূমির সম্পাদনার দায়িত্ব নেয়ার কথা ছিল সিনিয়র সাংবাদিক আবেদ খানের।
আবেদ ভাইয়ের মাধ্যমে সুরঞ্জন দাশের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবেদ ভাই ওই দায়িত্ব না নেয়া আমাকে বোঝা কাঁধে নিতে হয়েছিল। মাতৃভূমি যখন প্রকাশিত হয়, তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়।
মাতৃভূমিতে প্রকাশের জন্য একটি দলিল আমার হাতে আসে। জমির দলিল। খালেদা জিয়ার নামে ঢাকায় ১০ কাঠা জমি কিনেছিলেন জিয়াউর রহমান। অথচ জিয়ার মৃত্যুর পর প্রচার করা হয়েছিল তার ভাঙা সুটকেস ও ছেঁড়া গেঞ্জির গল্প।
খালেদা জিয়ার নামে ১০ কাঠা জমির দলিল পেয়ে স্বাভাবিকভাবে সেটা দিয়ে মাতৃভূমির লিড নিউজ করা হয়েছিল। অমন একটি খবরে আওয়ামী লীগ যেমন খুশিতে বগল বাজিয়ে ছিল, তেমনি বিএনপি হয়েছিল দারুণ রুষ্ট। বিএনপি তখন ক্ষমতায় না থাকলেও ক্ষমতার নানা ভরকেন্দ্রে তখনো তাদের ভালো প্রভাব ছিল। ওই দলিল আমি কোথায় পেলাম, কীভাবে পেলাম সেটা জানার জন্য আমার ওপর চাপ আসতে থাকে। ওদিকে ওই নিউজের ভিত্তিতে সংসদেও আলোচনা হয়। সম্ভবত মতিয়া চৌধুরী মাতৃভূমির কপি দেখিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেছিলেন।
বিএনপির তরফ থেকে কেউ কেউ আমাকে ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। কিছু প্রভাবশালী মহল থেকে আমাকে ‘বেশি বাড়াবাড়ি’ না করার পরামর্শ দেয়া হয়। রাস্তা থেকে তুলে নেয়ার হুমকিও পাই।
বিএনপিতে আমার তেমন পরিচিত কেউ ছিল না। বিএনপিতে মিত্র না পেলে আমার বিপদ হতে পারে ভেবেই আমি সাংবাদিক বন্ধু মলয় সাহার মাধ্যমে আব্দুল মান্নান ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি তখন বিএনপির মহাসচিব। মান্নান ভাই আমার সব কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং আশ্বস্ত করেন যে, বিএনপির পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো ‘উৎপাত’ আমাকে করা হবে না।

তিন.
আমার ভাগ্য ভালো যে তারেক রহমান তখন পর্যন্ত যথেষ্ট লায়েক হয়ে ওঠেননি এবং হাওয়া ভবনও গড়ে ওঠেনি।
ওই ঘটনা আর বেশিদূর না এগোলেও মান্নান ভূঁইয়ার সঙ্গে আমার একটি অতি সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তিনি যত দিন বেঁচে ছিলেন আমার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। মান্নান ভাইকে আমি একজন অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ হিসেবেই দেখেছি। আমার রাজনৈতিক বিশ্বাস সম্পর্কে তিনি জানতেন। তারপরও আমাকে তিনি ছোট ভাইয়ের মতোই স্নেহ করতেন। ২০০৫ সালে আমি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ি। ব্যয়বহুল চিকিৎসা করতে হয়। তখনো মান্নান ভাই আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।
একবার তিনি একটি সমাবেশে ভাষণ দিয়ে আওয়ামী লীগ এবং ভারতের বিরুদ্ধে অনেক কড়া কথা বলেন। আওয়ামী লীগের মধ্যে ভীষণ প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। এমনিতে তিনি ছিলেন মৃদুভাষী। মিতভাষী। পরের দিন তার সরকারি বাসভবনে দেখা করতে গেলাম। দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বসিয়ে রেখে দোতলায় তার বেডরুমে নিয়ে গেলেন আমাকে। অনেক বিষয়ে কথা হলো। এক পর্যায়ে আমি আগের দিনের বক্তৃতা প্রসঙ্গ তুলে বললাম, হঠাৎ এত কড়া কথা বলতে গেলেন কেন? তিনি একটু চুপ থাকলেন। তারপর বললেন, কড়া কথা বলেও তো পদ ধরে রাখা কঠিন হবে বলে মনে হচ্ছে। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীরা আমার বিরুদ্ধে ঘোট পাকাচ্ছে।
বিএনপির মধ্যে নানা টানাপড়েন ছিল। ঠাণ্ডা মাথার মানুষ হিসেবে মান্নান ভাইকে অনেকেই পছন্দ করতেন। তিনি জটিল পরিস্থিতিতে মুশকিল আসানে পারদর্শী ছিলেন। ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে দক্ষতার কারণেই তাকে খালেদা জিয়াও পছন্দ করতেন।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্থান মান্নান ভাই পছন্দ করেননি। আবার সরাসরি বিরোধিতাও করেননি। একদিন বললেন, আমাদের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারির জন্যই আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে।
১/১১-এর সময় আলাদা বিএনপি করার সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগের সন্ধ্যায়ও আমাকে ডেকেছিলেন। আমি বলেছিলাম, এভাবে কি দাঁড়ানো যাবে?
তিনি বললেন, আমার সামনে আর বিকল্প নেই।
আমি আর বিস্তারিত জানতে চাইনি। তারপরের ঘটনা সবার জানা। মান্নান ভাই আজ আর নেই।
মান্নান ভাইয়ের মতো মানুষ থেকেও বিএনপি সুস্থ ধারায় এগিয়ে নিতে পারেননি। কারণ বিএনপির জন্ম দেয়া হয়েছিল বিশেষ উদ্দেশ্যে। আর সে উদ্দেশ্যটা হলো আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু এবং ভারতবিরোধিতা। এই তিনের ‘মিল’ পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটির মরণঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছিল। আর যাই হোক, বিএনপি পাকিধারার রাজনৈতিক বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না।
ভয় এ জন্য যে, একাত্তরের চেয়ে এখনকার বাংলাদেশে পাকিধারা বেশি প্রবল। বিএনপি দল হিসেবে ক্ষয়িষ্ণু হলেও পাকিদের কারণে দলটি আলোচনায় আসে ঘুরেফিরেই। দুঃখজনক এটাই যে, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয়ী বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধিতাকারীদের ভূমিকা পালনে কোনো অসুবিধা হয় না। নীতি-আদর্শের পরিবর্তে সুবিধাবাদিতা যখন রাজনীতির নিয়ামক শক্তি হয়, তখন রাজনীতি নিয়ে আলোচনাও তেমন কোনো তাৎপর্য বহন করে না।
বিভুরঞ্জন সরকার : জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়