গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরবে কখন?

আগের সংবাদ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক হবে?

পরের সংবাদ

জেগে উঠেছে পর্যটনশিল্প

খায়রুজ্জামান খান সানি

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১ , ১:২৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১ , ১:২৬ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্বর্গে পরিপূর্ণ। পর্যটন বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত প্রগতিশীল উন্নয়ন খাত। এটি খুব দ্রুততার সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে পর্যটকের সংখ্যা। দেশের ভেতরে এবং আকৃষ্ট করছে বিভিন্ন দেশের জনগণকে। পর্যটনশিল্প প্রতিটি স্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি একটি বিশাল আয়ের উৎস হতে পারে, যদি আমরা পরিপূর্ণ পরিকল্পনার সঙ্গে ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে পারি। পর্যটন খাত আমাদের বেকার সমস্যা দূর করতে পারে। পর্যটন বিশ্বব্যাপী মোট জাতীয় পণ্যের ১২ শতাংশ উৎপাদন করে এবং এটি বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩০০ মিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থান করে। বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যার অনন্য অবদান ছিল পর্যটনশিল্প।
কিন্তু ২০২০ সালে কোভিড ১৯-এর কারণে মানুষ হারিয়েছে তার প্রতিদিনকার জীবনযাত্রার ছন্দ, থমকে গিয়েছিল চলাচল, আবদ্ধ ছিল ঘরে জীবন বাঁচানোর তাগিদে। থমকে গিয়েছিল অর্থনীতির চাকা, বন্ধ হয়েগিয়েছিল একমাত্র আয়রোজগারের সর্বোত্তম পন্থা। বিগত সালগুলোর দিকে লক্ষ করলে আমরা সুস্পষ্টত বলতে পারি ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালের জানুয়ারি অব্দি পর্যটকদের আনাগোনা ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। এরপর থেকে লকডাউন, সাধারণ ছুটিতে পর্যটন এলাকায় নেই কোলাহল, নেই পর্যটকদের আনাগোনা। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটক ১ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে, ফলে জিডিপিতে যার অবদান রেখেছিল ৪.৪ শতাংশ। বাংলাদেশ পর্যটনশিল্পের সঙ্গে ৪০ লাখের অধিক মানুষ প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে কর্মরত রয়েছেন।
দীর্ঘ দেড় বছর করোনায় বিপর্যস্ত জনজীবন। বিপর্যস্ত বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বর্ধিত শিল্প। আমরা পর্যটন খাতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ দেখতে পাচ্ছি। কারণ পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িত যাতায়াত ব্যবস্থা থেকে ভোজন ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত সবকিছু। প্রতিটি দেশ বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসে জর্জরিত। থেমে নেই মৃত্যুর মিছিল। এটি দ্রুত এবং ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। লকডাউন কতদিন? মানুষ দিনে দুবার খাওয়ার জন্য কাজে যাচ্ছে। কোটি কোটি মানুষ বেকার সমস্যায় ভুগছে। লাখ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছে। দিন দিন জীবিকার তাগিদে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। গার্মেন্টস, কারখানা, যানবাহন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ যেখানে স্থবিরতা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির পরিমাণ ভ্রমণ ও পর্যটনশিল্পে দেখা দিয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, পর্যটনশিল্প কোভিড-১৯ মোকাবিলায় কতটুকু সম্ভব? বর্তমানে লকডাউন নেই, করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ শতাংশের নিচে নেমে আসায় খুলে দেয়া হয়েছে পর্যটন এলাকাগুলো। সেখানে জমে উঠেছে পর্যটনশিল্পের পুরনো চেহারা। জমজমাট থাকছে এলাকা, কর্মসংস্থান গড়ে উঠেছে প্রতিটি স্তরের মানুষের। কিন্তু পর্যটনশিল্প জেগে ওঠায় যে ক্ষতির পরিমাণ আশা করা হয়েছিল সেটি কাটিয়ে উঠছেন পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িত সব মানুষ। ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে ক্ষতির পরিমাণ ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। ট্যুর অপারেটরদের ক্ষতি জুন মাস পর্যন্ত ৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল এসোসিয়েশনের (পাটা) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৯ হাজার ৭০৫ কোটি টার্নওভার থাকবে বলে ধারণা করা হয়েছিল।
এ বছর পর্যটনশিল্পের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় করা হয় ‘জীবন ও জীবিকার প্রাধান্য, আগামীর বাংলাদেশ’। দুবেলা দুমুঠো খেয়ে বাঁচার তাগিদে যেখানে করোনা উপেক্ষা করে যেতে হচ্ছে কর্মস্থলে, সেখানে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে পর্যটকদের আনাগোনা। জীবিকার উৎস গড়ে উঠছে। অর্থনীতির চাকা সচল থাকতে সহায়তা করছে। সংকট উত্তরণে ও পর্যটন বিকাশে সরকারি সহায়তা ও দিকনির্দেশনার বিকল্প নেই। সরকার কর্তৃক বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এগিয়ে আসতে হবে ক্ষতি পুষিয়ে আনতে। ছোট-বড় সব খাতেই স্বল্প মুনাফায় লোনের ব্যবস্থা করতে হবে। সাহসিকতা এবং সতর্কতার সঙ্গে সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি না মানা হলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। সর্বোপরি ভ্রমণ ও পর্যটনশিল্পে জোর দিতে হবে, লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনতে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ ও পরিকল্পনার বিকল্প নেই।

খায়রুজ্জামান খান সানি : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়