বিদ্যুৎ সাফল্য : নিরবচ্ছিন্ন, ব্যয় সাশ্রয়ী সেবা নিশ্চিত করতে হবে

আগের সংবাদ

কেন এলে, কেন এভাবে গেলে!

পরের সংবাদ

মানুষের হাতে প্রকৃতি ধ্বংস

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১ , ১:০৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১ , ১:০৮ পূর্বাহ্ণ

প্রকৃতি মানুষের জীবনের দৃশ্যমান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস। প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় অমলিন ছোঁয়া অসুস্থ মন ও দেহকে নিমিষেই সুস্থ করে দেয়। প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে জীব ও মানুষের অস্তিত্ব বেঁচে থাকে। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিগুলোর সেরা মানুষ হলেও সৃষ্টিকুলের সবকিছুর ওপর তারা পরনির্ভরশীল। নির্ভরশীলময় প্রকৃতিকে ভালোবাসার বদলে মানুষ আজ প্রকৃতি ধ্বংসের নেশায় মত্ত।
যেখানে প্রকৃতি জীবের প্রাণের ধারক, বেঁচে থাকা অনন্য শক্তির বাহক, সেখানে আমরা অপরিকল্পিতভাবে বিনষ্ট করছি তার অবয়ব। মানুষ প্রকৃতির ভালোবাসার যে জীবপ্রাকৃতিক বন্ধন ও জীবনযাপনের যোগসূত্র তা যেন ভুলেই যায়। ভুলে যায় আদি থেকেই জীব ও প্রকৃতির অস্তিত্ব। ভুলে গিয়ে সেই অস্তিত্ব করেছে খুব দূষিত। সেই দূষণের মাত্রা অতি ভয়াবহ। বিশ্বে প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা বৃদ্ধি হচ্ছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে প্রকৃতি। ছোট্ট দেশগুলোতে মানুষ নিজ বাসস্থান তৈরির লক্ষ্যে লাখ লাখ গাছ কেটে দিচ্ছে। গাছপালা প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে। মানুষের অস্তিত্ব রক্ষায় এভাবে বৃক্ষ কর্তন করে মানুষ নির্মল প্রকৃতি ও নিজের ধ্বংসস্তূপ উর্বর করছে।
অপরিকল্পিত নগরারণ সৃষ্টির লক্ষ্যে নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের পাশাপাশি ভূমি উজাড় করা হচ্ছে। সাধারণত গ্রামকে শহর বানানোর কুসংস্কারের লক্ষ্যে ভূমি উজাড় করা হচ্ছে। পাহাড়ে দেখা যায় ভূমি কেটে বাড়ি বানাতে, যেখানে বর্ষা এলেই শত শত নাগরিক ভূমি ধসে নিহত হয়, যা প্রকৃতির এক সুস্পষ্ট কান্না।
প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় ও অপব্যবহার আমাদের প্রকৃতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। শিল্প, কল-কারখানার দ্রুত প্রসার এবং তাদের ভুল পরিকল্পনা আবর্জনাময় করছে পরিবেশ। মাটিতে সার-কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার মাটিকে সাময়িক শক্তি প্রদান করলেও দীর্ঘস্থায়ীভাবে দুর্বল করে রাখছে। মাত্রাতিরিক্ত প্লাস্টিক দ্রব্যের ব্যবহার প্রকৃতিকে প্রকট ও দূষণভাবে ধর্ষণ করছে।
বর্তমান সভ্যতাময় মানুষ প্রকৃতি ও মানবসভ্যতাকে আধ্যাত্মিকভাবে বিপর্যস্ত ও হুমকির মুখে নিয়ে যাচ্ছে।
ভয়ংকর অন্ধকারময় একটি রাতের দিকে পা বাড়াচ্ছে আগামী বিশ্ব। এভাবে চললে অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে প্রজাতির পর প্রজাতি, গাছপালা ও নিশ্চিহ্ন হতে পারে প্রাণী। মনুষ্যসমাজ প্রকৃতির এই ভয়াবহ ধর্ষণের কবলে শঙ্কায়। আকাশ-বাতাসে, নদীর জলে, স্থলে শুধু আজ আতঙ্ক। একেই কি বলে উন্নতি। প্রকৃতি ধ্বংস কি সৃষ্টি করবে নতুন নগরায়ণ? এটা হতে পারে না। মানুষের পুনরুদ্ধারের আগে প্রকৃতিকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। রুখতে হবে আকাশ-বাতাসের আতঙ্ক।
প্রকৃতি রক্ষার্থে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে। সড়কের দুধারে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, বসতবাড়ির আশপাশে প্রচুর পরিমাণে ফলদবৃক্ষ, ভেষজবৃক্ষ, মসলাজাতীয় বৃক্ষ লাগানো প্রয়োজন। নগর তৈরির ক্ষেত্রে নেয়া দরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শিল্প-কারখানার বর্জ্য নদীতে না ফেলে বিশেষ শোধন ব্যবস্থা রাখতে হবে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। স্থান ও প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক মাধ্যমগুলোর মতামত গ্রহণ করা উত্তম।

রানা আহম্মেদ অভি
শিক্ষার্থী, উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়