ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ

আগের সংবাদ

মানুষের হাতে প্রকৃতি ধ্বংস

পরের সংবাদ

বিদ্যুৎ সাফল্য : নিরবচ্ছিন্ন, ব্যয় সাশ্রয়ী সেবা নিশ্চিত করতে হবে

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১ , ১:০৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১ , ১:০৭ পূর্বাহ্ণ

খবরে প্রকাশ, শতভাগ বিদ্যুতায়নের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যেই ৯৯ ভাগ মানুষের কাছে বিদ্যুৎসেবা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। মাত্র ১ ভাগ বিদ্যুতায়ন বাকি আছে। এখন হাতিয়া, কুতুবদিয়া ও নিঝুম দ্বীপে গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেই শতভাগ বিদ্যুতায়নের মাইলফলক স্পর্শ করবে বাংলাদেশ। ১৬ কোটি মানুষের দেশে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট না হলেও বাস্তবতার নিরিখে এ অগ্রগতি আশা জাগানিয়া। বিদ্যুৎ উৎপাদন- এই অর্জন যে কোনো দেশের জন্য নিঃসন্দেহে এক বড় সাফল্য। জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছু সমস্যা আছে। সিস্টেম লস এখন সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে এসেছে। গ্রিড সাবস্টেশনের ২৬ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতা আছে কিন্তু সব জায়গায় বিদ্যুৎ দেয়া যাচ্ছে না। ২০২৪ সাল নাগাদ এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, হাতিয়া, কুতুবদিয়া ও নিঝুম দ্বীপে এখনো শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্ভব হয়নি। এই তিন জায়গায় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের কাজ শুরু হবে। এজন্য সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। এতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ উদ্যোগী হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য সাফল্যও পেয়েছে। সরকার নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন অব্যাহত রেখেছে। বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এর সুফল দেখা যাচ্ছে। তারপরও বাস্তবতা হলো, লোডশেডিং নিয়ে মানুষের ভোগান্তি একেবারে দূর হয়নি। শহরে সমস্যাটা প্রকট না হলেও গ্রামের পরিস্থিতি স্থান বিশেষে নাজুক। আবার শিল্প-কারখানায়ও চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর জন্য জ্বালানির সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ক্ষমতাকে ব্যবহার করা এখনো সম্ভব হচ্ছে না। শুরু থেকেই দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের বড় অংশ তেলনির্ভর। অথচ এখন বিশ্বে জ্বালানি তেল দুর্মূল্য। অন্যদিকে দেশে চাহিদার তুলনায় প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদনও পর্যাপ্ত নয়। একদিকে গ্যাস সংকট, তার ওপর সারের জন্য ইউরিয়া সার কারখানায় জরুরি গ্যাস সরবরাহ দিতে গিয়ে গ্যাসভিত্তিক কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র মৌসুমে বন্ধ রাখতে হয়। অর্থাৎ চাহিদানুযায়ী গ্যাস সরবরাহ না হওয়ায় গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোও সার্বক্ষণিক সর্বোচ্চ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারে না। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও সরকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে আমদানিসহ নানামুখী প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তবে জরুরিভিত্তিতে চাহিদা মেটাতে গিয়ে সরকারের নেয়া কিছু ব্যবস্থা বিরূপ সমালোচনারও খোরাক হয়েছে। ব্যয় সাশ্রয়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের মনোযোগ সময়োপযোগী। এছাড়া ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে সরকারের কাজের ধারাবাহিকতা ও গতি অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান আমরা আশা করতেই পারি। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা আমদানি সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার প্রতিফলন দরকার। সব ক্ষেত্রে যাতে জাতীয় স্বার্থ প্রাধান্য পায় সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। আলোক উৎসবের আলো দিনে দিনে আরো বিস্তৃত ও উজ্জ্বলতর হয়ে গ্রাম-শহর নির্বিশেষে সবার কাছে পৌঁছাক- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়