দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত এলাকায় কৃষিবিপ্লব ঘটবে: কৃষিমন্ত্রী

আগের সংবাদ

নোয়াখালীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেড় বছর পর পাঠদান শুরু

পরের সংবাদ

স্কুল-কলেজ খুললেও, জাবির ক্লাস নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১ , ১০:৩৫ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১ , ১০:৩৫ অপরাহ্ণ

দীর্ঘ দেড় বছর পর স্কুল-কলেজ খোলায় আনন্দে ভাসছে শিক্ষার্থীরা। এমন চিত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল এন্ড কলেজে দেখা গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণী কার্যক্রম ও হল খুলে দেয়ার বিষয়ে প্রশাসনের দায়সারা মনোভাবে দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে স্কুল এন্ড কলেজ ও কলতান বিদ্যানিকেতনে সকাল ৯টা থেকে ক্লাস শুরু হলেও ৮ টা থেকে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে শুরু করে। এসময় শিক্ষার্থীদের মুখে মাস্ক পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যামে শরীরের তাপমাত্রা মেপে শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করানো হয়।

১৯ মাস পরে বিদ্যালয়ে এসে ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফারিয়া তার অনুভূতি জানিয়ে বলেন,আমি অনেকদিন পর বন্ধুদের সাথে ক্লাস করতে পারবো এই ভেবেই আমার খুব আনন্দ হচ্ছে। আবার বন্ধুদের ফিরে পেয়েছি।এখন থেকে আমাদের প্রতিদিন দেখা হবে।

৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সিফাতের অভিভাবক ইউসুফ মিয়া বলেন, বাচ্চারা এভাবে দীর্ঘদিন বাসায় থাকলে তাদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। তাছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে তাদের আসলে বাচ্চাদের ভালোভাবে পাঠদান করানো যায় না। আমরা করোনার মধ্যেও নিয়মিত বিদ্যালয়ের ফি পরিশোধ করেছি। আমি ছেলেকে মাস্ক পরিয়ে বিদ্যালয়ে নিয়ে এসেছি। ওদের মানসিক সুষ্ঠু বিকাশের জন্য সপ্তাহে একদিন শ্রেণী কার্যক্রমের যে নিয়ম করা হয়েছে তা যেন অব্যাহত থাকে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা, কর্মচারী সবাই টিকা না নেওয়া পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রম চালু না করার পক্ষে মত দিয়েছেন জাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এ মামুন। তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা সবাই টিকা নিলে মানসিকভাবে স্বস্তি অনুভব করবে। তাই শিক্ষার্থীদের সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ ভোরের কাগজের সাথে আলাপকালে বলেন, ক্লাস কার্যক্রম শুরু করতে শিক্ষার্থীদের করোনাটিকার তথ্য চেয়ে বিভাগগুলোকে চিঠি দিয়েছি কিন্তু এখনো সবগুলো বিভাগ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তথ্য দেয়নি। এজন্য দেরি হচ্ছে। সবগুলো তথ্য পেলেই তবে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
রেজিস্ট্রারের এমন বক্তব্যে ক্ষোভ জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু নাহিয়ান বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই টিকার আওতায়। আসলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চলমান উন্নয়ন কাজ নির্বিঘ্নে করার জন্যই ক্যাম্পাস বন্ধ রাখতে চাচ্ছে বিভিন্ন অজুহাতে । এতদিন বলেছে মন্ত্রণালয় বললে খুলে দিবে কিন্তু এখন গড়িমসি শুরু করেছে।

এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল জলিল ভূঞা বলেন, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় বিদ্যালয়ে হাত ধোয়ার জন্য জন্য সাবান ও ২০টি বেসিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে । পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাস্ক,হ্যান্ডস্যানিটাইজার থাকবে । আর সার্বিকভাবে তদারকির জন্য শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং সেল করা হয়েছে।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়