বিএনপির রাজনীতি রক্ত, লাশের ও নির্যাতনের: তথ্যমন্ত্রী

আগের সংবাদ

একাত্তরের বোরকাপরা নারী ও ধর্মদ্রোহের পশ্চিমা শিক্ষা

পরের সংবাদ

আত্মহত্যা রোধ ও আমাদের করণীয়

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২১ , ১:১১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২১ , ১:১১ পূর্বাহ্ণ

আমাদের দেশে প্রতিদিন গড়ে ৩০ জন মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নেয়। এর মধ্যে নারী-পুরুষ-শিশু সব বয়সের মানুষ রয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আত্মহত্যা করে ২১ থেকে ৩০ বছরের নারী। আর প্রতি বছর দেশে কমপক্ষে ১৩ হাজার থেকে ৬৪ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করে। গত এক যুগে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশে আত্মহত্যায় মৃত্যুহার প্রতি লাখ মানুষে কমপক্ষে ৭.৮ থেকে ৩৯.৬ জন। করোনা ভাইরাস মহামারি চলাকালে এক বছরে সারাদেশে ১৪ হাজারেরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেছে। মৃত্যুর পরিসংখ্যানের দিকে তাকান- গা শিউরে উঠবে। কোনোভাবে এটাকে হেলাফেলা করার সুযোগ নেই। প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয়। গতকালও দিবসটি পালিত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে ‘কর্মের মাধ্যমে আশা তৈরি করো’। দিবস পালনের মধ্যে যেন সবকিছু সীমাবদ্ধ। আত্মহত্যা মহাপাপ। আইন অনুযায়ী একটি অপরাধ। জগতের সব ধর্ম এবং নীতিশাস্ত্রে আত্মহত্যার সমর্থনে কোনো যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। তাহলে কেন মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়? আত্মহত্যা নিরসনে সরকারি-বেসরকারি নানাবিধ উদ্যোগ এবং প্রয়াস রয়েছে, তথাপি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছেই। আত্মহত্যার পেছনের গল্প যদি তালাশ করি তাহলে স্বভাবতই যে চিত্রটি মানসপটে ভেসে আসে তা হলো- যৌতুক, বেকারত্ব, পারিবারিক কলহ, প্ররোচনা, চাপ, হতাশা, প্রেমে ব্যর্থতা, চাহিদা এবং আকাক্সক্ষার মাঝে ফারাক, নেতিবাচক চিন্তা, জীবনের উদ্দেশ্যহীনতায় হীনম্মন্যতা, আস্থাহীনতাসহ নানা উপাদান কিনা অনুঘটক হিসেবে রসদ জোগায়। করোনা মহামারির বড় উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। করোনা মহামারির মধ্যে আত্মহত্যায় মারা যাওয়াদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজে পড়া শিক্ষার্থী বেশি। অন্যান্য পেশারও রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। প্রায় দেড় বছরের মতো বন্ধ রয়েছে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমন বন্ধ কোনোকালেই ছিল না। দীর্ঘমেয়াদি এ রকম বন্ধের ফলে বিপন্ন হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীদের জীবন। মানসিকভাবে তারা ভেঙে পড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধের ফলে বাসায় বসে থেকে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আত্মহত্যার মতো জঘন্য পথে তারা আগাচ্ছে। এ থেকে পরিত্রাণের পথ কী? এ থেকে পরিত্রাণে মানসিক চিকিৎসা, ইতিবাচক মনোভাব, সহমর্মিতা, বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো, বক্তব্য শেয়ার করার পরিবেশ তৈরি, আত্মসমালোচনা। আত্মহত্যার প্রবণতা কমাতে সমাজের নীতিনির্ধারকদের সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে হবে। আর ছেলেমেয়েদের ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। একই সঙ্গে সিনেমা-নাটক, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় জীবন সম্পর্কে সচেতন হওয়া ও আত্মহত্যার কুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তুলতে পারলে তবেই আত্মহত্যা প্রবণতা অনেকটা কমে আসবে। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আত্মহত্যার পেছনে যেসব কারণ দায়ী তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা না নিলে এর প্রবণতা বাড়তেই থাকবে। তাই আত্মহত্যা প্রতিরোধে সবাইকে সজাগ, সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে, সবাইকে সচেতন করতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়