অগ্নিগর্ভ ত্রিপুরা: সিপিএম বিজেপি সংঘর্ষ, পার্টি অফিসে আগুন

আগের সংবাদ

স্বপ্নের মেট্রোরেল : নগরবাসীর জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য ও গতি আসুক

পরের সংবাদ

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান কোথায়?

সাইদুন্নিছা তোহ্ফা

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১ , ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১ , ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় দেশ। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫০ বছরে দেশের অর্থনীতি আজ দ্রুতগতিতে বাড়ছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয়, উন্নয়নে ভাটা পড়ার মতো গুরুতর সমস্যাও রয়েছে বাংলাদেশের। বর্তমান বাংলাদেশের জন্য রোহিঙ্গা সংকট ঠিক এমনই একটা চ্যালেঞ্জিং সমস্যা। রোহিঙ্গারা বিভিন্ন সময় মিয়ানমার থেকে নির্যাতিত হয়ে এদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইনে থাকা রোহিঙ্গারা ২০১৭ সালে নিজ দেশের সেনাবাহিনীর অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে ১১ লাখের মতো রোহিঙ্গা শরণার্থী আছে। তবে বাংলাদেশের জন্য শরণার্থী সংকট নতুন কোনো সমস্যা নয়। যদিও প্রত্যেকবার কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। রোহিঙ্গা সংকটের ৪ বছর অতিক্রম করে ৫ বছরে পা পড়লেও রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন এখনো সম্ভব হয়নি। বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ ২ দফা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করে এবং বারবার ব্যর্থ হয়।
বলাবাহুল্য, ২০২১ সালে এসে শেখ হাসিনার সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পুনরায় মনোনিবেশ করলেও দুর্বল কূটনীতির জন্য রোহিঙ্গা সংকটের এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। এক্ষেত্রে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে মিত্রতা বাড়ানো হতে পারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অন্যতম পন্থা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দক্ষিণ এশিয়ার মোড়ল-খ্যাত চীন কি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াবে? আমরা জানি, চীন দুই দশক ধরে তার বাণিজ্যের ৮০-৮৫ শতাংশ সম্পন্ন করছে সমুদ্রপথে। কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে চীনের মালাক্কা সংকটের কারণে সমুদ্রপথে বাণিজ্য চীনের জন্য অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বিকল্প পথ হিসেবে স্থলপথে পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে বাণিজ্য প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায় চীন। আর এই পাইপলাইন স্থাপনের জন্য মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের প্রয়োজন হয় চীনের। তাই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন মিয়ানমারের পক্ষাবলম্বন করছে। ভবিষ্যতেও চীন বাংলাদেশের হয়ে কথা বলবে এমনটা বলা যায় না। অন্যদিকে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি রাশিয়া মিয়ানমারের রাজনীতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। বর্তমানে মিয়ানমারের সামরিক শাসনে রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। কারণ মিয়ানমার হলো রাশিয়ার বৃহৎ অস্ত্র বাজার। অপরদিকে বাংলাদেশ তার মিলিটারি সরঞ্জামের অধিকাংশই ক্রয় করে চীন ও তুরস্ক থেকে। সম্প্রতি উজবেকিস্তানের তাসখন্দে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা বললে বাংলাদেশ কোনো সবুজ সংকেত পায়নি। সুতরাং রোহিঙ্গা সংকটে রাশিয়াকে পাশে পাওয়ার আশা যেন দুরাশার শামিল। আবার বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র ভারতও কিন্তু রোহিঙ্গা সংকটে কোনোরকম সাহায্য করেনি। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভারত বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ালে ভারত-মিয়ানমার সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকবে। আর মিয়ানমারের মতো বৃহৎ জ্বালানি সমৃদ্ধ দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হোক তা ভারত চায় না। অন্যদিকে অপর বন্ধুরাষ্ট্র জাপানও ধর্মীয় কারণে আজ চুপ রয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হলো গণতন্ত্রের পূজারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রোহিঙ্গা সংকটে মিয়ানমারের পথে হাঁটছে। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব হচ্ছে বাংলাদেশ যদি সেন্টমার্টিনে যুক্তরাষ্ট্রকে মিলিটারি ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দেয় তবেই বাংলাদেশের হয়ে এগিয়ে আসবে প্রথম বিশ্বের এ দেশটি।
কিন্তু ইতিহাস বলছে, যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দেয়া মানে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া। মূলত শক্তিশালী দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো তাদের ভূ-কৌশলের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়ার মাধ্যমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাস্তবায়িত হচ্ছে না। অন্যদিকে এই সংকট মোকাবিলায় মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। তাই একমাত্র টেকসই প্রত্যাবাসনই হবে রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান। বিশ্লেষকদের ধারণা, রোহিঙ্গাদের অবস্থান আরো দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশ বিভিন্ন দিক থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ভুগবে। তাই টেকসই প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের উচিত হবে বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রের আনুকূল্য লাভ করে সবল কূটনীতির পরিচয় দেয়া এবং মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।
করোনা পরিস্থিতির দোহাই না দিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে দ্বিপক্ষীয় কূটনীতি বহাল রাখতে হবে। সর্বোপরি বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হোক- এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
সাইদুন্নিছা তোহ্ফা
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়