শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে, পাবলিক পরীক্ষাও নিতে হবে দ্রুত

আগের সংবাদ

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ফেরানোর উপায় কী

পরের সংবাদ

খেলাপি ঋণ আর কত বাড়বে?

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১ , ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১ , ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ

দেশের ব্যাংকিং খাত খেলাপি ঋণের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য দিয়ে গতকাল ভোরের কাগজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা বা ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। গত জুন মাসে খেলাপি হয়েছে ৯৮ হাজার ১৬৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। সেই হিসাবে গত ডিসেম্বরের পর থেকে গত জুন পর্যন্ত ৬ মাসে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৯ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। যা মোট ঋণ বিতরণের ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের ভারে ক্রমেই ন্যুব্জ হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা দেশের অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত। করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে ঋণের কিস্তি শোধ না করলেও খেলাপি করা যাবে না- ২০২০ সালজুড়ে এমন সুবিধা পেয়েছে ঋণগ্রহীতারা। এতে গত বছর ঋণের কিস্তি না দিয়েও নতুন করে কেউ খেলাপি হয়নি। সেই হিসাব ধরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমে আসে। চলতি বছর এই সুবিধা বহাল রাখা হয়নি। তবে সব ধরনের ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের মেয়াদ বিভিন্ন হারে বাড়ানো হয়েছে। তারপরও খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ২০১৯ সালের মাঝামাঝিতে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত নিয়ে একটি রিপোর্টে বলেছিল, বাংলাদেশে খেলাপি আড়াল করে রাখা আছে। এখানে খেলাপি ঋণের যে তথ্য প্রকাশ করা হয়, প্রকৃত খেলাপি ঋণ তার তুলনায় অনেক বেশি। তাদের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা। পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে, ব্যাংকগুলোতে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং সঠিক উদ্যোক্তাকে না দিয়ে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে ঋণ দেয়ার কারণেও খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়। ব্যাংক ঋণে সুদের হার বেশি হওয়ায় প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন করে দেশে বিনিয়োগ হচ্ছে না। অন্যদিকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে শিল্পোদ্যোক্তারা ঋণ নিয়ে শিল্প স্থাপন করেও উৎপাদনে যেতে পারছেন না। আবার চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস-বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এসব কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের নানা সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতির এবং সমৃদ্ধির উজ্জ্বল চিত্র আমাদের উল্লসিত করলেও সব উচ্ছ¡াস থেমে যায় ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির অঙ্ক দেখলে। এ বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে সবাই সচেতন এবং ওয়াকিবহাল। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরো বাড়বে। এ অবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য ব্যাংকগুলোর ওপর তদারকি ও নজরদারি বৃদ্ধির বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ না দিলে দেশের ব্যাংকিং খাতে বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। খেলাপি ঋণের বিস্তার রোধে এবং অনাদায়ী ঋণ আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়