সাবরিনা-আরিফদের মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য ২৬ সেপ্টেম্বর

আগের সংবাদ

পরী মনির অবমাননাকর কনটেন্ট সরাতে ফেসবুক-ইউটিউবকে অনুরোধ বিটিআরসির

পরের সংবাদ

ফেসবুক ইউটিউব নিয়ে অসহায় বিটিআরসি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১ , ৭:৩৪ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১ , ৭:৩৪ অপরাহ্ণ

ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে কনটেন্ট অপসারণের ক্ষমতা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নেই। লাইকি, বিগোলাইভ, টিকটকের মতো ক্ষতিকর সাইটও পুরোপুরি বন্ধ করা যায় না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, কনটেন্ট ও আনুষাঙ্গিক বিষয়ে সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এই অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তার ভাষায়, সাইবার জগতে ‘তালা মারার’ ক্ষমতা আমাদের হাতে নেই। আমরা শুধু মনিটরিং করি।

বিটিআরসির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যোগ দেন মন্ত্রী। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. আফজাল হোসেনও অনলাইনে যুক্ত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর শিকদার সভাপতিত্ব করেন। সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র, সংস্থার মহাপরিচালক (সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ আলোচনা করেন ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

ফেসবুক ব্যবহারকারী

মোস্তাফা জব্বার বলেন, একটা জিনিস সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। তা হল, বিটিআরসি কেবল টেলিকম অপারেটর, আইএসপি বা এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন সাইট বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ বন্ধ করানো যায়। কিন্তু ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন দিয়ে আবার সেগুলো চলে। ভিপিএন বন্ধ করা যায় না। ভিপিএন বন্ধ করলে অনেক অর্থিক ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কোনো কনটেন্ট মুছে দিতে পারি না। কোনো আপত্তিকর বিষয় থাকলে ওই কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাই। তারা বিষয়গুলো দেখে। যদি তাদের কমিউনিটি গাইডলাইন অনুযায়ী সেটা মোছার যোগ্য হয়, তবেই তারা সেটি সরিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে আমরা এক রকমের অসহায়ত্ব বোধ করি। তারা তাদের মতো করে কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড বানায়, আমরা তাদের কৃপার উপর নির্ভরশীল। সেটা আমাদের মেনে নিতে হয়। আবার কিছু মানুষের উল্টাপাল্টা পোস্টের জন্য গোটা ফেসবুকও আমরা বন্ধ করে দিতে পারি না। এটা কোনো দেশই করে না।

তিনি বলেন, যারা আইন-আদালতের কাছে যান তারা আমাদের অবস্থাটা বুঝবেন। তালা মারার ক্ষমতা বিটিআরসির নেই। যে জায়গায় কাজ করার সক্ষমতা রাখি না, তার দায় আমাদের উপর দিলে অবিচার হবে।

বিপজ্জনক গেম পাবজি ও ফ্রি ফায়ার

শ্যাম সুন্দর সিকদার জানান, গত ১ বছরে বিটিআরসি ফেসবুকের ১৮ হাজার ৮৩৬টি লিংক বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছিল ওই কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু ফেসবুক মাত্র ৪ হাজার ৮৮৮টি লিংক বন্ধ করেছে। ইউটিউবের ৪৩১ লিংক বন্ধের বিপরীতে করেছে ৬২টি। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর অনুরোধ ও বিটিআরসি নিজ উদ্যোগে পাবজি, ফ্রি-ফায়ার, বিভিন্ন উস্কানীমূলক ও ক্ষতিকর ১ হাজার ৬০ টি ওয়েবসাইট বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হয়। সিটিডিআর সিস্টেমের মাধ্যমে সবগুলোই বন্ধ করা হয়েছে। তবে ভিপিএন দিয়ে, নতুন নাম দিয়ে একের পর এক সাইটও খোলা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা যখনই এ ধরণের সাইট চালুর কথা জানতে পারি, তখনই সেটি বন্ধ করি। চিত্র নায়িকা পরীমনিকে নিয়ে অবমাননাকর প্রচারণার জন্য ইউটিউবের ২৬টি ও ফেসবুকে ৩৫টি লিংক বন্ধের অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, সাইবার ওয়ার্ল্ড উন্মুক্ত বিষয়। সোশ্যাল মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণ বিটিআরসির হাতে নেই। আমরা চেষ্টা করছি, বাংলাদেশে ফেসবুকের অফিস স্থাপন করতে এবং তারা যেন আমাদের গাইডলাইন মতো কাজ করে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে বিটিআরসি। এতে কেউ অপরাধমূলক কাজ করলে তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে আমরা বলতে পারব। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিটিআরসির প্রধান কার্যালয়ে যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়