নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে আহত ১৬, ১৪৪ ধারা

আগের সংবাদ

বোট ক্লাব প্রসঙ্গে আইজিপি: সংসদের আলোচনা সংসদেই থাক

পরের সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের চিন্তানিবাস হচ্ছে দ্বীপ মনপুরায়

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২১ , ১০:৫৭ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২১ , ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের চিন্তানিবাস স্থাপনে মনপুরা উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক চিন্তানিবাস কেন্দ্রিক পর্যটন স্থাপনা গড়ে তোলার বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তাবপত্র (ধারণাপত্র) তৈরী করা হয়েছে।

গত জানুয়ারী মাসের ১৬ তারিখ বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ডের সাথে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ চারটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা একটি অনলাইন সভায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের চিন্তানিবাস কেন্দ্রিক পর্যটন স্থাপনা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।

জানা গেছে, ১৯৭০ সালের ১৭ নভেম্বর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মনপুরায় আসেন। পাখির সুর ও কলকাকলীতে মুখোরীত মনপুরার বনাঞ্চল ও নদনদীর নান্দনিক সৌন্দর্যে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু মুগ্ধ হয়ে মনপুরা দ্বীপে চিত্তবিনোদন ও অবকাশকালীন সময় কাটানোর জন্য চিন্তানিবাস স্থাপনের পরিকল্পনা করেন বলে জানান, স্থানীয় আওয়ামীলীগের প্রবীন নেতৃবৃন্দরা।

মনপুরা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার আবদুল লতিফ ভূঁইয়া জানান, ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড় ও জলচ্ছাসের কয়েকদিন পরে প্রাণহানীসহ ব্যাপক ক্ষতি হয়ে যাওয়া দ্বীপ মনপুরায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বন্যা দূর্গত মানুষের জন্য ত্রাণসামগ্রী নিয়ে পাশে এসে দাঁড়ান। তিনি মনপুরা দ্বীপে আসলে এখানকার প্রাকৃতিক নয়নাভিরাম সৌন্দর্য দেখে অবকাশকালীন সময় কাটানোর জন্য এ “চিন্তানিবাস” স্থাপনের পরিকল্পনা নেন।

এর একটি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করাও হয়েছিল স্থানীয় রামনেওয়াজ বাজার সংলগ্ন বড় দীঘির কাছে। ওই স্থাপনাটি কয়েকবছর পূর্বে মেঘনার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। বঙ্গবন্ধুর এ স্বপ্ন আজও স্বপনই রয়ে গেছে বলে জানান হতাশাগ্রস্থ বাসিন্দারা। আবদুল লতিফ ভূঁইয়া আরও বলেন, ত্রাণসামগ্রী নিয়ে তিনি লঞ্চ দিয়ে রামনেওয়াজ বাজার সংলগ্ন উত্তরে অবস্থিত খরুলার খালপাড় এসে পৌঁছান যা কাচারির ডগি নামেও পরিচিত।

তিনি আরও বলেন, তৎকালীন সময়ে আমি মনপুরা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলাম। মরহুম বসরত উল্যাহ চৌধুরীকে (স্থানীয় নেতা) বঙ্গবন্ধু তার ব্যবহৃত কোট ও আমাকে গায়ের একটি চাদর দিয়ে যান। এ সময় মনপুরাবাসীর ভালোবাসা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মূগ্ধ হয়ে একটি আবাসভূমি গড়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। যা পরবর্তীতে চিন্তানিবাসের রূপ নেয়। পরে তিনি (বঙ্গবন্ধু) নির্মাণসামগ্রী পাঠালে একটি একতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হয়। যা এখন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে।

সম্প্রতী বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ড বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের চিন্তানিবাস পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনে সরেজমিন পরিদর্শন করে গেছেন বোর্ডটির সহকারি পরিচালক মো. মাজহারুল ইসলাম। এ সময় মনপুরার হাজিরহাট ইউনিয়নের ভূঁইয়ারহাট সংলগ্ন এ চিন্তানিবাসের এলাকাটি পরিদর্শন করেন তিনি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম মিঞার সঙ্গে টুরিজম বোর্ডের সহকারি পরিচালক মো. মাজহারুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুর চিন্তানিবাস স্থাপনের বিষয় নিয়ে এক মতবিনিময় সভা করেন। এ সময় এ চিন্তানিবাস গড়ে তোলার জন্য স্থানীয় এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি তুলে ধরেন এ নির্বাহী কর্মকর্তা।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ছারেমুল হক হুমায়ুন বলেন, বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্নের চিন্তানিবাস বাস্তবে রূপ নেয়নি। আমরা বিভিন্ন সভা সেমিনারে এ বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

পর্যটন কেন্দ্রিক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের চিন্তানিবাস প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম মিঞা জানান, টুরিজম বোর্ড, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি প্রাথমিক প্রস্তাবপত্র (ধারণাপত্র) তৈরি করা হয়েছে। স্থান নির্ধারণের পর জমির প্রস্তাব দেয়ার কাজ চলমান রয়েছে। আশাকরি খুব দ্রুত মনপুরায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের চিন্তানিবাস স্থাপনে পর্যটন স্থাপনা গড়ে তোলা হবে। যা মনপুরাতে অবকাশকালীন পর্যটনের এক দর্শনীয় স্থান হবে।

রি-এএসসি/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়