শনিবার সরকার গঠনের ঘোষণা তালেবান মুখপাত্রের

আগের সংবাদ

আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ কোন পথে?

পরের সংবাদ

ই-অরেঞ্জের ১১শ কোটি টাকা প্রতারণা : এমএলএম বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর হতে হবে

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২১ , ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২১ , ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

এমএলএম কোম্পানিগুলো ব্যবসার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ইভ্যালির পর ই-অরেঞ্জ নামে আরেকটি কোম্পানির নাম সামনে আসছে। প্রতারণা করে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা মামলায় ই-অরেঞ্জের মালিক দম্পতি সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমানসহ প্রতিষ্ঠানটির চিফ অপারেটিং অফিসার আমান উল্ল্যাহকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। গত বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বাকী বিল্লাহর আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে ৫ দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করে তাদের বিরুদ্ধে মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ই-অরেঞ্জ কার্যক্রমের ধরন অনেকটাই এমএলএম কোম্পানির মতো। এমএলএম কোম্পানিগুলোর প্রতারণার চিত্র দেখার অভিজ্ঞতা থেকে মনে হচ্ছে, ই-অরেঞ্জও তা-ই করেছে। এমন অবস্থার জন্য দায়ী কে? আইনের কার্যকারিতা না থাকায় অবৈধ মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ব্যবসা চলছে দেশে। এতে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের পণ্য কেনার জন্য টাকা দেয়া হয়, যা একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের পর ই-অরেঞ্জ কোম্পানির ডেলিভারি দেয়ার কথা ছিল। বারবার নোটিস দেয়ার নামে ভুক্তভোগীদের পণ্য ডেলিভারি না করে প্রতারণা করে যাচ্ছে। ভুক্তভোগীরা গুলশান-১ নম্বরের ১৩৭ নম্বর রোডে ই-অরেঞ্জের অফিসে গিয়ে পণ্যগুলো ডেলিভারি দেয়ার কথা বললে অফিসের কর্মকর্তারা ও মালিকপক্ষ জানায়, কিছু দিনের মধ্যে পণ্যগুলো ডেলিভারি হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো পণ্য ডেলিভারি না করে ১ লাখ ভুক্তভোগীর প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করেছে। এর আগে ইভ্যালি, ডেসটিনি, যুবকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতারণার কথা সবাই অবগত। কোম্পানিগুলো হাতিয়ে নিয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। এমনকি অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রণয়নের ৮ বছর পরও ‘মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ কার্যকর না হওয়া দুঃখজনক। ডেসটিনি গ্রুপের অনিয়ম-দুর্নীতি ও প্রতারণার ফাঁদ ধরা পড়ার পর সরকার বিষয়টি প্রথম আমলে নেয় ২০১২ সালে। এমএলএম পদ্ধতির ব্যবসায়ের মাধ্যমে এক যুগ ধরে (২০০০-১২) ডেসটিনি কোম্পানি মানুষের কাছ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রতারণা করে নিয়েছে। এ ঘটনায় দুদকের মামলা দায়েরের পর ৯ বছর অতিবাহিত হলেও বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তিহীন। ২০১৩ সালের অক্টোবরে এমএলএম ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণয়ন করা হয়। এতে বলা হয়, লাইসেন্স ছাড়া বহু ধাপ বিপণন কার্যক্রম চালানো যাবে না; যেসব প্রতিষ্ঠানের এ কার্যক্রম রয়েছে, আইনটি পাসের পর ৯০ দিনের মধ্যে তাদের লাইসেন্স নিতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া কেউ এ কার্যক্রম চালালে তার ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা হবে। এ আইন অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া এমএলএম ব্যবসা করা যায় না। সরকারের অনুমোদন ছাড়া লাইসেন্স হস্তান্তর করতেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আইন পাসের পরও নতুন নতুন নামে এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা করছে অনেকে। এতে প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। এখনই সময় এমএলএম বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর হতে হবে। না হয় এমন ঘটনা আমাদের প্রায়ই দেখতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়