নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দিতে সেল গঠন বিএনপির

আগের সংবাদ

অর্থনীতির বিকাশে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

পরের সংবাদ

হলমার্ক কেলেঙ্কারি: মামলার পলাতক আসামিকে প্রতরণা, গ্রেপ্তার ২

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২১ , ৯:৫৮ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২, ২০২১ , ১১:২১ পূর্বাহ্ণ

হলমার্ক কেলেঙ্কারি মামলার পলাতক আসামিকে প্রতারণার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করছে র‌্যাব। তারা হলো-মো. ইকবাল হোসেন (৩১) ও তার সহযোগী মো. আমিরুল ইসলাম (৩৫)। রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ঋণ কেলেঙ্কারি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী আবদুল মো. আবদুল মালেককেও (৫৪) সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ছাড়াও ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

কমান্ডার মঈন বলেন, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বা দুর্বলতা রয়েছে এমন ব্যক্তিরাই মুলত এ চক্রের টার্গেট। চক্রটি প্রথমে এমন টার্গেটকৃতদের সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয়ে যোগাযোগ করে টাকা দাবী করে। আর তাদের চাওয়া টাকা না দিলে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড প্রকাশের ভয় দেখায়। এমন পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই তাদের ফাঁদে পা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় হলমার্ক কেলেঙ্কারি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ওই আসামীকেও টার্গেট করে তার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে।

তিনি আরো বলেন, এমতাবস্থায় তারা জানতে পারে গত মঙ্গলবার মালেক উত্তরা যাবেন। তখনই পরিকল্পনা করে চক্রটি শিকারকে সেখানেই হালাল করা হবে। তথ্যানুযায়ী ওইদিন দুপুরে উত্তরখানে আত্মীয় মো. জামির হোসেনের বাসায় যায় মালেক। সেখানেই অবস্থান করার সময়ে গ্রেপ্তাররকৃতরা তাদের সহযোগীদির নিয়ে উপস্থিত হয়ে তার কাছে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা পরিশোধ না করলে তার বিরুদ্ধে মিডিয়াতে হলমার্ক কেলেঙ্কারি বিষয়ে খবর প্রকাশের হুমকিসহ বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখায়। একপর্যায়ে মালেককে উত্তরার একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যায়। সেখান থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল থেকে ভিকটিমের আত্মীয়দের ফোন করে চাঁদার টাকা, চেক ও স্ট্যাম্প নিয়ে আসতেও বলা হয়। তবে তার আত্মীয় র‌্যাব-১ বরাবর অভিযোগ করলে গোয়েন্দা নজরদারীর মাধ্যমে দুজনকে ওইদিনই গভীর রাতেই গ্রেপ্তারে সমর্থ হই আমরা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গ্রেপ্তারকৃতারা একটি চাঁদাবাজ দলের সক্রিয় সদস্য। এ দলের সদস্য সংখ্যা আনুমানিক ১০-১৫ জন। গ্রেপ্তারকৃত ও এ চক্রের সদস্যরা এলাকায় প্রাণের বাংলাদেশ, স্বাধীন সংবাদ,বি ডব্লিউ নিউজ, প্রথম বেলা ও ডেইলি নিউজসহ এ জাতীয় আরো কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের পরিচয় দিত। জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, তারা অনেদিন ধরে রাজধানীর উত্তরা ও উত্তরখান এলাকায় এমন কাজ করে আসছে। গ্রেপ্তারকৃত ইকবাল ও আমিরুলের নামে বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি ও প্রতারণার মামলা রয়েছে। মালেকের সঙ্গে হলমার্কের তানভিরের সম্পর্ক ছিল। ওই ঘটনায় প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ঋণ খেলাপীর মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী সে। এতদিন ধরে পলাতক ছিল মালেক। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে তাকেও আইনের আওতায় আনা হলো। ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী হওয়ায় তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

ডি-এফবি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়