হাওয়ায় নাচলেন নওশাবা!

আগের সংবাদ

পদ্মা সেতুতে আবারও ফেরির ধাক্কা, ভেঙে গেছে মাস্তুল

পরের সংবাদ

অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে

প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২১ , ৯:১২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০২১ , ৯:১২ পূর্বাহ্ণ

দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে যাচ্ছে কোভিড-১৯। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়িয়ে চলার পাশাপাশি নতুন নতুন সব তথ্যও সামনে আনছে অদৃশ্য এই ভাইরাস। সারা বিশ্বে নানা গবেষণার পর একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সম্প্রতি। আশঙ্কা করা হচ্ছে করোনা মহামারির প্রকোপ কমে যাওয়ার পর অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি পড়তে যাচ্ছে বিশ্ব। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।

এর আগেও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে এখন খুব কমসংখ্যক মানুষই সংক্রামক রোগে মারা যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মৃত্যুর কারণ অসংক্রামক ব্যাধি। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার, কিডনি জটিলতা ও দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ। বাংলাদেশে ৬৭ শতাংশ মৃত্যুর কারণ অসংক্রামক রোগ। এসব রোগের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যও বলছে, দেশে অসংক্রামক রোগে বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

চলতি বছর ১১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক এন্ড হেলথ সার্ভের (বিডিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি ৪ জনে ১ জন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। দেশে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি। আর প্রতি ১০ জনে ১ জন ডায়াবেটিসে ভুগছেন। দেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখ।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ এন্ড সোশ্যাল মেডিসিন (নিপসম) পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ৯৭ ভাগ মানুষ কোনো না কোনোভাবে হৃদরোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু কিডনি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আফরোজা বেগম জানান, দেশে কমপক্ষে ২ কোটি মানুষ বিভিন্ন ধরনের কিডনি রোগে ভুগছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জাতীয় জরিপে বলা হয়, ২০২০ সালে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজার ৪৯৬ জনের। ওই বছরই শুধু হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ, যা আগের বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মারা গেছে ৮৫ হাজারের বেশি মানুষ, যা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ৮৮ শতাংশ। আট রকমের ক্যান্সারে মারা গেছে ৮৩ হাজার (বৃদ্ধির হার ৩২ শতাংশ), শ্বাসতন্ত্রের রোগে মারা গেছে ৭৪ হাজার (বৃদ্ধির হার ৩৬ শতাংশ) আর কিডনি রোগে মারা গেছে ২৮ হাজারের বেশি মানুষ (বৃদ্ধির হার ১৬৪ শতাংশ)।

গবেষণায় দেখা গেছে, সম্প্রতি বহু দেশে করোনার সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠার পর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। কম বয়সিরাও ডায়াবেটিসের শিকার হচ্ছেন। তবে আগে থেকে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন না- এমন মানুষের মধ্যে ডায়াবেটিস ছড়ানোর জন্য করোনা দায়ী কিনা, তা নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে বিতর্ক চলছে।

তারা বলছেন, করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হচ্ছে স্টেরয়েড। এই স্টেরয়েড ফুসফুসের প্রদাহ কমিয়ে আনে। এছাড়া করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার যে ক্ষতি হয়, তা স্টেরয়েড কিছু পরিমাণে প্রতিহত করতে পারে।

একই সঙ্গে এর ব্যবহারে সার্বিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। এই ভাইরাস অগ্ন্যাশয়ের কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। যেসব কোষ ইনসুলিন উৎপাদন করছে, সেসব কোষকে আহত করছে। নতুন করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের অনেকের হয়তো আগে থেকেই ডায়াবেটিস ছিল। কিন্তু তারা কখনো পরীক্ষা করাননি। যে কারণে রোগ শনাক্ত হয়নি।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির তথ্য বলছে, দেশে প্রাপ্ত বয়স্কদের ১০ জনের মধ্যে ১ জন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তবে ৫৭ শতাংশ মানুষই জানে না, তার ডায়াবেটিস আছে। আর বাংলাদেশের জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৭-১৮ তথ্য বলছে, মাত্র ১৩ শতাংশ ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা নিয়মিত চিকিৎসা নিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। ২২ শতাংশের বেশি মানুষের তা নিয়ন্ত্রণে নেই।

করোনাকালে ডায়াবেটিস রোগী বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেন, করোনা ভাইরাস সম্পর্কে এখনো আমরা কম জানি। কারণ পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত আমাদের কাছে নেই। করোনা একটি মহামারি। ডায়াবেটিস আরেকটি মহামারি। পৃথিবীতে দুটি মহামারি একসঙ্গে চলছে। দুটি মহামারি যখন একসঙ্গে আসে তখন এটি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করে। করোনা হলে ডায়াবেটিস হয়- এটি প্রমাণিত নয়। তবে ডায়াবেটিস রোগীর করোনা হলে তা ঝুঁকির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। আবার যাদের ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত তাদের করোনা হলে সেটা আরো ভয়াবহ হয়। মাস্ক পরা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং কিছুক্ষণ পরপর সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়ার যে অভ্যাস আমরা করোনাকালে করেছি তা আমাদের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।

এদিকে করোনা-পরবর্তী সময়ে হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিটউ ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান।

বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোল্লা ওবায়দুল্লাহ বাকী ভোরের কাগজকে জানান, প্রতি বছর ৩ লাখ মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। করোনার পর ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে এটি বলা যাবে না। তবে ক্যান্সার যাদের হয় তাদের করোনায় আক্রান্তের ঝুঁকি বেড়ে যায় ১১ শতাংশ।

উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতির কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নানা সামাজিক অনিশ্চয়তা, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, করোনাকালীন জীবনযাত্রার ধরন পাল্টে যাওয়া, চর্বি জাতীয় খাদ্য বেশি খাওয়া, কায়িক শ্রম না করা, খাদ্যে ভেজাল ও কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর খাবার বা জাংকফুড খাওয়া ও ধূমপান স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। তাছাড়া করোনা সংক্রমণের কারণে অনেকেই সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারেননি, যা এ জাতীয় অসংক্রামক রোগ বেড়ে যাওয়ার কারণ বলে মনে করছেন তারা।

রি-এসডি/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়