রোনালদোহীন যুগে প্রথম ম্যাচেই হারল জুভেন্টাস

আগের সংবাদ

লালমনিরহাটে বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত

পরের সংবাদ

অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাপ

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২১ , ১:২৩ অপরাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ২৯, ২০২১ , ১:২৫ অপরাহ্ণ

বৈধ কাগজবিহীন অভিবাসীদের ফেরাতে বাংলাদেশকে চাপ দিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাংলাদেশের উপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ইইউ। এজন্য বাংলাদেশিদের ভিসা প্রক্রিয়ায় সাময়িক কড়াকড়ি আরোপের প্রস্তাব করেছে ইউরোপীয় কমিশন৷ তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ছাড়াও ইরাক এবং গাম্বিয়ায়কেও অবৈধ অভিবাসীদের ফিরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। বৈধ কাগজবিহীন অভিবাসীদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে দেশগুলোর সহাযোগিতা আরও জোরদার করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে তারা।

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে বৈধ কাগজবিহীন অভিবাসীদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউর স্ট্যান্ডার্ড অব প্রসিডিউর (এসওপি) চুক্তি হয়৷ তা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের আরও দ্রুত সহযোগিতা চায় ইইউ। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদান-প্রদান এবং জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দিক থেকে আরও তৎপর পদক্ষেপের প্রত্যাশা তাদের ইইউ অভিযোগ করেছে, বাংলাদেশ সরকার অনেক চিঠির জবাব দেয় না বা দিতে অনেক দেরি করে।

২০১৭ সালে চুক্তির পর তালিকা ও কাগজপত্র ম্যানুয়ালি বা সনাতন পদ্ধতিতে হস্তান্তর করা হতো। কিন্তু ২০২০ সালের নভেম্বরে এই ব্যবস্থা ডিজিটাল করা হয়৷ ডিজিটাল হওয়ার পর এখন পর্যন্ত এক হাজার ৫০০ আনডকুমেন্টেড বাংলাদেশির তালিকা ও কাগজপত্র হস্তান্তর করে তারা। সেগুলো এখনও নিস্পত্তির অপেক্ষায় আছে৷ এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে জার্মানিতে। ইউরোপের এ দেশটিতে এমন ৮০০জন বাংলাদেশি রয়েছেন। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বাংলাদেশির তালিকায় তারপরে রয়েছে ইটালি, গ্রিস ও মাল্টা৷

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, আনডকুমেন্টেড বাংলাদেশিদের বিষয়টি নিস্পত্তি করতে ইইউ যদি ভিসার ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করে তাহলে তা মানবাধিকারের লংঘন৷ কারণ এখন যারা ইউরোপের দেশে যাওয়ার যৌক্তিক কারণ আছে তাদের ভিসা বন্ধ করতে পারে না।

তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে আজ (শনিবার) একটি বৈঠকের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, তারা রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু যারা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আনডকুমেন্টেড আছেন তাদের মানবাধিকারের কী হবে?

তবে সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) শহীদুল হক ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্তে বিস্মিত নন৷ কারণ ২০১৬ সাল থেকেই তারা এ বিষয়ে কথা বলছে৷ এখন এই সিদ্ধান্তের ফলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। আমাদের পোশাক শিল্পসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হতে পারে৷ যাদের প্রয়োজন তারাও ভিসা নাও পেতে পারেন৷ বাংলাদেশের দুইটি কাজ করা উচিত৷ প্রথমত, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে অবৈধ অভিবাসন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এবং দ্বিতীয়ত তারা যে তালিকা দেয় তা থেকে যাচাই বাছাই করে টোকেন হলেও কিছু লোককে ফেরত আনা। তিনি মনে করেন, অবৈধ অভিবাসীরা দেশের সুনাম ক্ষুন্ন করছেন৷

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়