ক্ষমতাচ্যুত আফগান প্রেসিডেন্ট পালিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে

আগের সংবাদ

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ

পরের সংবাদ

গৃহবধূর স্বীকৃতি মিলেনি শ্বশুর বাড়ি, পালাল স্বামী

প্রকাশিত: আগস্ট ১৮, ২০২১ , ৯:৪৪ অপরাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ১৮, ২০২১ , ৯:৪৪ অপরাহ্ণ

নেত্রকোনার মদনে এক গৃহবধূর স্বীকৃতি মিলেনি শ্বশুর বাড়ি। মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতারক স্বামী পাড়ি দিয়েছে সৌদি আরব। এমন সংবাদের প্রেক্ষিতে গৃহবধূ স্বামীর বাড়িতে মঙ্গলবার (১৭) আগস্ট) সকাল থেকে অনশন শুরু করেছেন তিনি।

উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের রুদ্রশ্রী গ্রামের হারেছ মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন সৈকতের বাড়িতে অনশনে বসেন একই গ্রামের ওই গৃহবধু। স্ত্রীর স্বীকৃতি ও বরণ পোষণ না পেলে আত্মহত্যারও হুমকি দেন তিনি। এমন সংবাদের প্রেক্ষিতে বুধবার রুদ্রশ্রী গ্রামের বাড়ি সরজমিনে গেলে গৃহবধূকে স্বামীর বাড়িতে অনশন অবস্থায় দেখা যায়।

জানা গেছে, গামেন্টসকর্মী তারা একে অপরকে ভালবেসে ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর তারা কোর্ট ম্যারেজ করেন। এতে ছেলের পরিবারের লোকজন প্রাথমিক অবস্থায় এ বিয়ে মেনে নেয়নি। পরে তারা দুজনে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘদিন সংসার করার পর ২০২১ সালের ৫ জুলাই ওই গৃহবধূকে ভাড়া বাসায় রেখে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে চট্টগ্রাম চলে গেছে বলে জানায়।

তার ফোন বন্ধ থাকায় সন্ধান চেয়ে ওই গৃহবধূ ১ আগস্ট ঢাকার ভাষানটেক থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে জানতে পারে তার স্বামী সৌদি আরব চলে গেছে। নিরুপায় হয়ে অবশেষে মঙ্গলবার স্বামী দেলোয়ারের বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশনে বসেন। অনশনে বসার পর ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে জানতে পারে তার স্বামী তাকে গত ৬ জুলাই কোর্টের মাধ্যমে তালাক নামার একটি নোটিস পাঠিয়েছে।

গৃহবধূ বলেন, দেলোয়ার হোসেন সৈকত আমার স্বামী। আমরা বিয়ে করে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করছিলাম। পরিবারের লোকজনের পরামর্শে আমার স্বামী আত্মগোপন করেছে। আমার স্বামী আমাকে ছেড়ে বিদেশ যেতে পারে না। সে অবশ্যই দেশে আছে। শ্বশুর-শ্বাশুড়ি আমাকে গ্রহণ না করলে আমি এখানেই জীবন দিব। আমি এখানে আসার পর থেকেই তারা আমাকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। আমাকে হুমকি দিচ্ছে। আমি এখানে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি।

গৃহবধূর শ্বাশুড়ি দিলোয়ারা আক্তার ছেলে বিয়ে করেছে সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার ছেলে তাকে বিয়ে করেছে জানতাম এও জানি তাকে আমার ছেলে তালাক দিয়েছে। তাছাড়া আমার ছেলে বিদেশে চলে গেছে। তালাক দেওয়া বউকে তো আমি ঘরে তুলতে পারব না।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলমা চৌধুরী জানান, আমি শুনেছি, একটি মেয়ে গৃহবধূর দাবি নিয়ে তাদের বাড়িতে অনশনে বসেছে। কিন্তু এ নিয়ে দেখলাম ইউনিয়ন পরিষদে ছেলের স্বাক্ষরে তালাক নামার একটি নোটিস পাটিয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম জানান, দেলোয়ার আগে থেকেই সৌদি আরবে থাকত। সেখান থেকেই তার সঙ্গে মোবাইলের মাধ্যমে প্রেম হয় পরে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তবে শুনেছি, তাকে নাকি কোর্ট এর মাধ্যমে তালাক দিয়েছে। তবে বিষয়টি হল পারিবারিক। পারিবারিকভাবেই মীমাংসা করতে হবে। তা ছাড়া ঘটনাটি আমার এলাকায় ঘটেনি।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়