১৫ আগস্ট কালরাত্রির সেই দুঃসহ স্মৃতি

আগের সংবাদ

অভিভাবক হারানোর ৪৬তম বছর আজ

পরের সংবাদ

আগস্টের রক্তপাত, গণহত্যা ও ষড়যন্ত্রের খতিয়ান

প্রকাশিত: আগস্ট ১৪, ২০২১ , ১০:৪৬ অপরাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ১৪, ২০২১ , ১১:১২ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের জনজীবনে আগস্ট মাস নিছক কোনো শোকের মাস নয়, এ মাস এমন এক বিভীষিকার- যা যুগের পর যুগ দেশের শান্তি ও স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষকে তাড়িত করবে। আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই দেখতে পাইÑ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের অনুচরেরা এই আগস্ট মাসে পুরো শক্তি নিয়ে নির্মমতা চালাতে থাকে ১৯৭১ সালে। ফলে দেশের সব প্রান্তে একের পর এক বধ্যভ‚মির সৃষ্টি হয়, রঞ্জিত হয় বাংলার মাটি স্বাধীনতাকামী গণমানুষের রক্তে। একই সঙ্গে হানাদার পাকিস্তানি ও তাদের স্থানীয় অনুচররা চালাতে থাকে নির্বিচার নারী ধর্ষণ ও লুণ্ঠন। আমরা জানি- পাকিস্তানি সৈন্যদের এই হত্যাযজ্ঞ শুরু হয় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাত থেকে ঢাকা নগরীতে তাদের কুখ্যাত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে।
বাঙালির ইতিহাসের প্রথম স্বাধীন রাষ্ট্র নানা কারণেই ব্যতিক্রমী। ২০২১ সালে বাংলাদেশ রাষ্ট্র তার স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করছে। কিন্তু যে দেশ তার স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করছে সে আজো বিদেশি বা দেশি ষড়যন্ত্রকারীদের হাত থেকে রেহাই পেয়েছে বলে মনে করার কারণ নেই।

আমরা যদি আরো আগের ইতিহাসের দিকে তাকাই, দেখতে পাই, ব্রিটিশ ভারতের বিভক্তি- এই আগস্ট মাসেই। ১৯৪৭ সালের আগস্টে ধর্মের নামে ভাগ হলো ব্রিটিশ ভারত, যার মধ্যে রোপিত থাকল রক্তাক্ত পরিণতির বীজ। পূর্ব বাংলা হয়ে গেল পূর্ব পাকিস্তান, যা ২৩ বছর ধরে থাকল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর লুণ্ঠন ও নিপীড়নের ক্ষেত্র হিসেবে। এই লুণ্ঠন ও নিপীড়ন কেবল রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকল না, ছড়িয়ে গেল ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সকল অঙ্গনে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পরই ভাষার দাবিতে প্রাণ দিতে হলো বাঙালিকে। যুক্ত পাকিস্তান যে ২৩ বছর টিকে থাকল, সেই পাকিস্তানের মাটিতে অনুষ্ঠিত হলো কেবলমাত্র একটি সাধারণ নির্বাচন। ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে। সে নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করল। কিন্তু কোনো লাভ হলো না। যে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানিয়ে রেখেছিল, তারা কোনো বাঙালিকে, অর্থাৎ শেখ মুজিবকে ক্ষমতায় বসতে দিতে রাজি হলো না।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাঙালির অবিসংবাদী নেতা ডাক দিলেন সর্বাত্মক গণপ্রতিরোধের। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধা দিয়েই শুধু ক্ষান্ত হলো না, তারা দেশের সেনাবাহিনীকে নামাল রাতের অন্ধকারে বাঙালি জনগোষ্ঠীর অধিকারের দাবি চিরতরে নসাৎ করে দিতে। শুরু হলো বাংলার মাটিতে রক্তাক্ত এক অধ্যায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে। এ পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন। তাকে গ্রেপ্তার করে সেদিনের পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে বিচারের সম্মুখীন করা হলো। সেই থেকে শুরু হলো রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধ। সে গণযুদ্ধে লাখো মানুষ শহীদ হলেন, ৩ লাখেরও ওপর নারী নিগৃহীত হলেন পাকিস্তানি সেনা ও তাদের এ দেশীয় অনুচরদের হাতে।

বাঙালি জনগোষ্ঠীকে পাকিস্তানিরা ভীতু-কাপুরুষ ভেবেছিল, ভেবেছিল শত অত্যাচারেও তারা প্রতিরোধ করতে অক্ষম হবে। কিন্তু পাকিস্তানিদের সেই ভাবনা ব্যর্থ করে দিল দেশপ্রেমিক বাঙালি জনতা। তারা রুখে দাঁড়াল সর্বশক্তি নিয়ে। মুক্তিবাহিনীর সর্বাত্মক প্রতিরোধে দেশের সব প্রান্তে পাকিস্তানিদের কোণঠাসা করল। এরপর ডিসেম্বর মাসে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর যৌথ অভিযানে বাংলাদেশের মাটি হানাদারমুক্ত হলো। পাকিস্তান বাহিনীর ৯৩,০০০ সৈন্য ঢাকার মাটিতে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হলো। কিন্তু এরপরও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধ হলো না। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীরা সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখল।

বাঙালিদের বিরুদ্ধে নির্বিচার পাকিস্তানি হত্যাযজ্ঞ ও নারী নির্যাতন বাঙালি গণমানুষকে মনোজাগতিকভাবে সশস্ত্র করেছিল, যার পরিণতি ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ। ইতিহাসের সত্য হচ্ছে এই, ভয়ংকর সেই নির্মমতায় পাকিস্তানকে মদদ জুগিয়েছে সেদিনকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও সেদিনের কমিউনিস্ট চীনসহ কয়েকটি রাষ্ট্র। ইতিহাসের সত্য আরো এই যে, সেই দুর্দিনে এগিয়ে এসেছিল প্রতিবেশী ভারত, তার সর্বস্তরের মানুষ ও সরকার। তারা বাংলাদেশের ১ কোটি বিপন্ন শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামী, অর্থাৎ মুক্তি বাহিনীকে সর্বাত্মক সহায়তা দিয়েছে। ফলে পাকিস্তানি বর্বরতার বিরুদ্ধে গণমানুষের যুদ্ধ এগিয়ে গেছে। এরপর মুক্তিযুদ্ধের শেষ অংশে দুই দেশের যৌথ সামরিক কমান্ড গঠনের মধ্য দিয়ে মুক্তি ও মিত্র বাহিনীর যৌথ আক্রমণে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছে।

প্রতিবেশী ভারতের সেই ভ‚মিকার কথা সর্বাগ্রে উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশের জাতির পিতা। ১৯৭৪ সালে ১৮ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে তিনি বলেছেন : ‘ভারতের ১৪ হাজার জওয়ান বাংলার মাটিতে রক্ত দিয়ে বাংলার মানুষকে বাঁচিয়েছিল। কিন্তু কখনই কোনো ঔপনিবেসিক মানসিকতা ছিল না ভারতের। তাই পাক বাহিনীকে পরাস্ত করেও ভারতীয় সেনা এক মুহূর্তও থাকেনি বাংলাদেশে।’ আরো বলেছেনÑ ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ভারত বিরোধিতার নামে দেশটিকে দুর্বল করার খেলায় মত্ত’।

আগস্ট মাস ইতিহাসগতভাবেই এক রক্তাক্ত মাস। ১৯৭১ এর এই আগস্টে পাকিস্তান বাহিনী ও তাদের বাঙালি অনুচররা চালাতে থাকে ধারাবাহিক গণহত্যা, নারী ধর্ষণ ও লুণ্ঠন। মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলে এই মাত্রা বাড়তে থাকে। স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গড়ে তোলা রাজাকার-আলবদররা বাংলার মাটিকে রক্তাক্ত করে চলে। ফলে লাখ লাখ মানুষ দেশান্তরিত হয়। শুরু হয় বিশ্ব ইতিহাসের মর্মান্তিক শরণার্থী সংকট। ঠিক এ সময়ে আমেরিকার নিউইয়র্ক নগরীতে গড়ে ওঠে এক অভিনব প্রতিরোধ। আগস্ট মাসের ১ তারিখে কিংবদন্তি পণ্ডিত রবিশঙ্করের আহŸানে বাংলাদেশের বিপন্ন মানবতার পাশে এগিয়ে আসেন আরেক কিংবদন্তি মার্কিন গায়ক জর্জ হ্যারিসন। বাংলাদেশের বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে আয়োজন করা হয় ঐতিহাসিক ‘বাংলাদেশ কনসার্ট’। এতে যোগ দেন পরবর্তী নোবেল বিজয়ী বব ডিলনসহ বহু নামিদামি কণ্ঠশিল্পী।

১৯৭১ সালের আগস্টের প্রায় প্রতিটি দিন ছিল রক্তাক্ত। মার্চ থেকে যে গণহত্যার শুরু- তা আগস্টে এসে সারাদেশে বিস্তৃত হয়। পরবর্তী অনুসন্ধানে প্রায় সব হত্যাকাণ্ডের বিবরণ নথিভুক্ত আছে, যার বিস্তারিত উল্লেখ সম্ভব নয় এই সংক্ষিপ্ত লেখাতে। আগস্টের ৩ তারিখে ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড় পাদদেশের নকসী রক্তাক্ত হয়ে ওঠে পাকিস্তানি বর্বরতায়। পাকিস্তানি সৈন্যদের সাথে মিলে নকসীর মাটিতে ব্যাপক নিধনযজ্ঞ চালায় রাজাকার ও আলবদররা। ৪ আগস্ট ঘটে আটোয়ারির গণহত্যা। এই এলাকার দামোর ইউনিয়নের কমপক্ষে ২৫ জন নিরীহ মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় পাকিস্তানি সেনা ছাউনিতে। নির্মম অত্যাচারের পর তাদের হত্যা করা হয়। একই দিন শহীদ হন ৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা চুয়াডাঙ্গায়। নির্বিচার গুলিবর্ষণে রক্তাক্ত হন গ্রামবাসীরা।

৭ আগস্ট ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া ইউনিয়নের রামনাথ হাটের গণহত্যা সেখানকার মানুষ কখনোই ভুলতে পারে না। নিষ্ঠুর পন্থায় গ্রামবাসীদের তুলে নেয়া হয় এবং বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয় শিশু ও কিশোরদের। দুদিন ধরে চলা এই বর্বরতায় নিহতদের কবর দেয়া হয় স্থানীয় নুরুল ইসলামের বাড়িতে। শুধু তাই নয়, নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুরে শুধু জানাজায় অংশ নেয়ার অপরাধে হানাদার পাকিস্তানি সৈন্যরা নির্বিচার গণহত্যা চালায়। ১৬ আগস্ট এখানকার সোমেশ্বরী নদী পারে সৈন্যদের মেশিনগানের গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয়া হয় নিরীহ গ্রামবাসীদের শরীর। তারপর ভাসিয়ে দেয়া হয় লাশ সোমেশ্বরীর পানিতে।

ঠিক একইভাবে এবং ক্রমাগতভাবে গণহত্যা ঘটে সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রংপুর, দিনাজপুরসহ দেশের প্রতিটি এলাকায়। যে বধ্যভ‚মিগুলো আজো সাক্ষী হয়ে আছে সেই পৈশাচিক নিষ্ঠুরতার। ১৮ আগস্ট ঘটে আরেক হত্যাযজ্ঞ বানিয়াচং উপজেলার প্রত্যন্ত কাগাপাশা গ্রামে। কাগাপাশা ইউনিয়নের হিন্দু অধ্যুষিত মাকালকান্দি রক্তাক্ত হয়। পাকিস্তানি সৈন্যদের হাতে এ হত্যাকাণ্ড চলে স্থানীয় পুলিশ ও রাজাকার সদস্যদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়। অতর্কিত হামলা চালিয়ে পাকিস্তানি সৈন্যরা গ্রামবাসীদের একসঙ্গে দাঁড় করায় এবং সবাইকে গুলি করে হত্যা করে। বাকিদের যত্রতত্র খুন করা হয়।

নোয়াখালীর গোপালপুর রক্তাক্ত হয় ১৯ আগস্ট। প্রায় দুশ পাকিস্তানি সৈন্য স্থানীয় বাজারে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পলাতক লোকজনকে আটক করে কমপক্ষে ৫৬ জনকে একসঙ্গে গুলি করে। একইভাবে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার শালিহর গ্রামে ১৪ জন হিন্দু-মুসলমানকে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকিস্তানি সৈন্যরা ২১ আগস্ট। ২৮ আগস্ট আখাউড়া উপজেলার গঙ্গাসাগর দীঘির পারে দাঁড় করিয়ে হত্যা করা হয় বহু মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের নিকটাত্মীয়দের।

১৯৭১ সালের আগস্টের শেষ দিনটি ছিল মঙ্গলবার। সেদিন নরসিংদী ও সুনামগঞ্জের মানুষের কাছে এক ভয়াবহ দিন। দিনের শুরুটা ছিল মুক্তিবাহিনীর। সেদিন তারা শিবপুর থানায় একটি সফল অভিযান পরিচালনা করে। এই যুদ্ধে বহুসংখ্যক পাকিস্তানি অফিসার ও সেনা মৃত্যুবরণ করে। কিন্তু যুদ্ধে হেরে যাওয়ার পর মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা চলে যাওয়ার পর কাপুরুষের মতো পাকিস্তান বাহিনী নিরীহ গ্রামবাসীদের ওপর চড়াও হয়। রাজাকার, আলবদর ও শান্তি কমিটির সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে চালাতে থাকে গুলিবৃষ্টি। এতে শহীদ হন ১২৬ জন নিরীহ গ্রামবাসী। এরপর চলে গোটা গ্রামে নির্বিচার লুণ্ঠন। শেরপুরের নখলা উপজেলার নারায়ণখোলাতে একই সময় হত্যা করা হয় ১৬ অর্ধশত মানুষকে। সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় মীরপুর ইউনিয়নে শ্রীরামশি গ্রামে চলে আরেক হত্যাযজ্ঞ ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট। স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় নারকীয় তাণ্ডব চালানো হয় এলাকায়। নিহত হয় একশর ওপর নিরীহ গ্রামবাসী।

গণহত্যা ও নির্বিচার নারী নির্যাতনের ১৯৭১ শেষ হয়, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়, পাকিস্তানি সৈন্য ও তাদের স্থানীয় অনুসারীরা পরাজয় বরণ করে। কিন্তু স্বাধীনতার মাত্র মাড়ে ৩ বছরের মাথায় এই আগস্টেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আঘাত হানে বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ পুরুষ ও বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তারা হত্যা করে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের প্রায় প্রত্যেক সদস্যকে। দেশের বাইরে থাকায় জাতির জনকের দুই কন্যা বেঁচে যান। এরপর মুক্তিযুদ্ধের লুণ্ঠিত গৌরব পুনরুদ্ধার আন্দোলনের মুখ্য নেতা শেখ হাসিনাকেও বারবার হত্যার চেষ্টা চলে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট উপর্যুপরি গ্রেনেড ছুড়ে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে হত্যা করা সম্ভব না হলেও ঘাতকরা আইভি রহমানসহ ২৪ জনকে হত্যা করতে সক্ষম হয়। নির্বিচার গ্রেনেড আক্রমণে আহত-পঙ্গু হয় অসংখ্য নেতাকর্মী।

অতএব চক্রান্ত থেমে গেছে বলা ঠিক হবে না। চলছে আজো। সে কারণেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইও চালাতে হবে নিরবচ্ছিন্ন গতিতে। এই প্রক্রিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের সব বন্ধু-সহযোগীর সমর্থর জরুরি। জরুরি জাতির মহান মুক্তিযুদ্ধের শত্রুমিত্রের মাঝে সীমানা নির্ধারণ। এতে ভুল হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধীরা লাভবান হবে। ষড়যন্ত্র আরো শক্তিশালী হবে। সে কারণেই বলি- আগস্ট শুধু শোকের মাস নয়, শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে আজ ও আগামীর জন্য আত্মানুসন্ধানের মাসও।

হারুন হাবীব : মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক।

 

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়