ওমের জোবের তাণ্ডবে দুইয়ে শেখ জামাল

আগের সংবাদ

মন্ত্রীর ভুয়া এপিএস তিনি

পরের সংবাদ

যে কারণে বিলম্ব হচ্ছে মেসির মাঠে ফেরা

প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২১ , ৮:৪৮ অপরাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ১২, ২০২১ , ৮:৫১ অপরাহ্ণ

প্যারিসের মাঠে লাল-নীল জার্সি গায়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার মেসিকে দেখার অপেক্ষায় সারা বিশ্বের কোটি ফুটবলপ্রেমী। স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় এক যুগের বেশি সময় ১০ নম্বর জার্সি যার অধীনে ছিল, ফুটবলের সে মহাতারকা লিওনেল মেসিকে এবার দেখা যাবে পিএসজিতে ৩০ নম্বর জার্সি গায়ে। তবে এখন ভক্তরা দিন গুনছেন কখন নতুন রূপে আর্জেন্টাইন সুপারস্টারকে মাঠ মাতাতে দেখবেন।

ভক্তদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২৯ আগস্ট রেঁসের বিপক্ষে লিগ ওয়ানে নতুন যাত্রা শুরু করতে পারেন মেসি। আবার শোনা যাচ্ছে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ শেষে ১২ সেপ্টেম্বর প্যারিসের জার্সি গায়ে মাঠে দেখা যেতে পারে তাকে।

লিগ ওয়ানের নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচ ৮ আগস্ট খেলেছিল পিএসজি। সে ম্যাচে থোয়াকে ২-১ গোলের ব্যধানে হারায় ফরাসি জায়ান্টরা। ১৫ আগস্ট সাসবার্গের বিপক্ষে পিএসজির পরবর্তী ম্যাচ। মেসিকে যে তখন দেখা যাবে না এটা অনেকটা নিশ্চিতই। কারণ পিএসজির আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মেসি। তিনি জানিয়ে ছিলেন এক মাস মাঠের বাইরে থাকায় তার ম্যাচে ফেরার আগে নিজেকে প্রস্তুত করতে কিছুদিন সময় প্রয়োজন। নিজেকে ঝালিয়ে নিতে ও ম্যাচের আগে শারীরিকভাবে ফিট থাকতে ইতোমধ্যেই তিনি অনুশীলনের জন্য পিএসজি স্টাফদের কথা বলে রেখেছেন বলে জানান। তাই তার পক্ষে প্রথম এক দুই ম্যাচ খেলা নাও হতে পারে। ফলে ১৫ আগস্ট প্যারিসের মাঠে ফুটবল দুনিয়া বিশে^র সেরা যে ত্রয়ী আক্রমণভাগ দেখার অপেক্ষায় ছিল সেটা যে পিছিয়ে গেছে তা সুনিশ্চিই বলা যায়। তবুও তিনি জানিয়েছেন কোচের সংকেত পেলে যে কোনো সময়ই মাঠে নামতে প্রস্তুত।

এদিকে ফ্রান্সে পৌঁছে মেসিকে থাকতে হচ্ছে হোটেলে। যেখানে তাকে প্রতিদিন ব্যয় করতে হচ্ছে ২০ লাখ টাকা। তবে তার কাছে টাকা কোনো বিষয় নয়। বড় বিষয় হলো হোটেলে থাকার ব্যাপারটি। পরিবারের সঙ্গে বার্সেলোনায় যেখানে বিশাল বাড়িতে সময় কাটিয়েছেন সেখানে নতুন পরিবেশে এসে থাকতে হচ্ছে অনেকটা বদ্ধ পরিবেশে। শোনা যাচ্ছে যত দিন না ক্লাব পিএসজি মেসির জন্য নতুন বাড়ির সন্ধান পাচ্ছেন তত দিন মেসিকে হোটেলেই অবস্থান করতে হবে। অন্যদিকে লা লিগায় মেসির চির প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালের সাবেক অধিনায়ক সার্জিও রামোস মেসিকে নাকি তার বাসাতে থাকতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। স্পেনে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্সে এসে এমন বন্ধু হয়ে যাবেন কেই বা ভেবেছিল! কিন্তু বন্ধু না হয়ে উপায় কি, স্পেনে যাকে ডি বক্সের পথে বাধা দিতে হতো তার সঙ্গে এখন খেলতে হবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লাল-নীল জার্সি গায়ে। তাইতো শত্রুতা ভুলে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সার্জিও রামোস। তিনি তার টুইটারে মেসিকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, কে এমনটা ভেবেছিল, লিও?

২১ বছরে সম্পর্ক ছিন্ন করে মেসি পিএসজিতে যোগ দেয়া নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে চার দিকে। অনেকে বলেছেন বার্সায় থেকে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল মেসির। অর্ধেক বেতন কমাতেও রাজি ছিলেন তিনি। বার্সাও চেয়েছিল এই তারকা ফুটবলারকে রেখে দিতে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্লাবের আর্থিক দূরবস্থা ও লা লিগার অর্থনৈতিক অবকাঠামোগত বাধ্যবাধকতার কারণে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে রাখা সম্ভব নয় বলে জানায় বার্সেলোনা। তবে মেসিকে ধরে রাখতে বার্সা যথেষ্ট চেষ্টা করেনি বলে দাবি করেন বার্সা বোর্ডের পদত্যাগ করা সদস্য হাউমে ইয়োপিস।

তিনি দাবি করেন, মেসির বার্সা ছাড়ার পেছনে হাত রয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের। এর পেছনে যুক্তি হিসেবে ইয়োপিস বলেন, মেসির বার্সেলোনা ছেড়ে চলে যাওয়াটা পেরেজকে সাহায্য করেছে। ভেবে দেখুন, এমবাপ্পে এখন রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিচ্ছেন।’

এ নিয়ে পেরেজ বলেছেন, মেসির চলে যাওয়ার পেছনে আমার হাত আছে এটা অসম্ভব, বার্সেলোনার নেয়া অন্য কোনো সিদ্ধান্তেও এমন কিছু নেই। ইয়োপিস যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার মিথ্যা বক্তব্য সংশোধন করবেন বলে আমি আশা করি।’

সম্প্রতি লা লিগা তাদের ব্যবসার ১০ শতাংশ বেসরকারি ইক্যুইটি ফার্ম ‘সিভিসি ক্যাপিটাল পার্টনার্স’ এর কাছে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগের বিপক্ষে অবস্থান জানিয়েছে দুই প্রভাবশালী দল রিয়াল ও বার্সা। ইউরোপের ১২টি ফুটবল ক্লাব নিয়ে যে সুপার লিগের পরিকল্পনা করা হয়েছিল সেখান থেকে ৯টি ক্লাব সরে গেছে। তবে এখনো রয়ে গেছে বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টার্স। মেসিকে দলে নেয়ার আগে পিএসজি কিনেছে ইন্টারমিলান থেকে আশরাফ হাকিমিকে, ৬০ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে। একই সঙ্গে সার্জিও রামোস, জিওর্জিনিও উইজনালডাম এবং জিয়ানলুইজি ডোনারুমাকে দলে নেয় পিএসজি। একই সঙ্গে নেইমার এবং এমবাপের মতো উচ্চমাত্রার পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ফুটবলার রয়েছে পিএসজিতে।

এতকিছুর পর মেসিকে আইন ভঙ্গ না করে কিভাবে দলে নিতে পারবে এটা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। এসবের জবাব দিতে গিয়ে পিএসজি প্রেসিডেন্ট নাসের আল খেলাইফি বলেন, অর্থনৈতিক বিষয়াধি নিয়ে আমি একটা বিষয় পরিষ্কার করতে চাই যে, আমরা ফাইন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লের নিয়ম-নীতিগুলো জানি এবং আমরা সব সময়ই এটা অনুসরণ করার চেষ্টা করি।’

তিনি আরো বলেন, আমরা কোনো কিছু করার আগে অবশ্যই আমাদের কমার্সিয়াল, ফাইন্যান্সিয়াল এবং আইনি সহায়তা দেয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করি। তাদের দায়িত্ব দিই এর উপর্যুক্ততা বের করার জন্য। মেসিকে দলে নেয়ার সক্ষমতা আমাদের ছিল। লিওকে আমরা পেরেছি বলেই স্বাক্ষর করিয়েছি। নাহলে আমরা এ বিষয় নিয়ে চিন্তাই করতাম না।

ডি-আরআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়