অ্যাথলেটিক্সে কৃষ্ণকলিদের জয়জয়কার

আগের সংবাদ

পরী মনির অন্ধকার জগতের সহযোগী কে সেই নারী!

পরের সংবাদ

পরী মনিকাণ্ড: নির্মাতা চয়নিকা চৌধরীকে ছেড়ে দিচ্ছে গোয়েন্দা পুলিশ

প্রকাশিত: আগস্ট ৬, ২০২১ , ১০:২৭ অপরাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ৬, ২০২১ , ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

নির্মাতা চয়নিকা চৌধরীকে ছেড়ে দিচ্ছে গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যার পরপরই তার আটক করে ডিবি অফিসে নেওয়া হয়েছিল। এরপর রাত ১০টার দিকে ডিএমপির ডিবি কার্যালয়ের সামনে ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ জানান, তাকে পরিবারের জিম্মায়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। এবং প্রয়োজন হলে তাকে আবার ডিবি অফিসে ডাকা হবে। এ সময় পরি মনির ঘনিষ্ঠ সহকর্মী কস্টিউম ডিজাইনার জিমিকেও পরিবারের জিম্মায় ছাড়া হবে বলে জানানো হয়। প্রয়োজনে তাকেও আবার ডাকা হতে পারে ডিবি অফিসে।

দেশের ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ পরী মনি গ্রেপ্তারের ঘটনা। ঘটনাটির পর গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে চয়নিকা চৌধুরীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে শুক্রবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যার পরপরই তার আটকের খবর আসে। ডিবি পুলিশ চয়নিকা চৌধুরীকে আটকের পর ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

পরী মনির সঙ্গে জিমি। ফাইল ছবি

রাজধানীর বাংলামোটরে সময় টিভি অফিসের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর পান্থপথ সিগন্যালে চয়নিকা চৌধুরীর গাড়িটি ঘিরে ধরে পুলিশ। সময় টিভির একটি সন্ধ্যাকালীন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর সেখান তেকে বের হয়ে তিনি নিকেতনের বাসার দিকে যাচ্ছিলেন।

চয়নিকা চৌধুরী বাংলাদেশের একজন আলোচিত পরিচালক। ২০০১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ‘শেষ বেলায়’ নাটকের মধ্য দিয়ে পরিচালনা শুরু করেন তিনি। চয়নিকা চৌধুরী নির্মিত ‘বিশ্বসুন্দরী’ সিনেমার নায়িকা ছিলেন পরী মনি। এই নির্মাতার ওয়েব ফিল্ম ‘অন্তরালে’র জন্য সম্প্রতি চুক্তিবদ্ধ হন পরী মনি। এর শুটিং শুরু হওয়ার কথা আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। চয়নিকা চৌধুরী ও পরী মনির মধ্যে যে সখ্য রয়েছে, তা সবারই জানা। চয়নিকা চৌধুরীকে নিজের ‘মা’ বলে সম্বোধন করে থাকেন পরীমনি। উত্তরা বোট ক্লাবের ঘটনায় সংবাদসম্মেলনে কাঁদতে থাকা পরী মনির চোখের জল মুছে দিয়েছিলেন চয়নিকা। মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি নিজেও ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। এক কথা সার্বক্ষণিক পরী মনির ছায়া হয়ে থেকেছিলেন। সাহস জুগিয়েছিলেন পরী মনির।

পরী মনি ও চয়নিকা চৌধুরী। ফাইল ছবি

বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। এবারের ঘটনায় পরী মনি নিজেই সাহায্য চাইছিলেন লাইভে এসে। তবুও চয়নিকাকে তার ধারে-কাছেও দেখা যায়নি। আদালতেও যাননি। এমনকি এ নিয়ে গত দুই দিনে নিজের ফেসবুক ওয়ালে কোনো স্ট্যাটাসও দেননি।

নিজের এই অনুপস্থিতির বিষয়ে এক গণমাধ্যমকে চয়নিকা জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় তিনি পরী মনির কাছে ছুটে গিয়েছিলেন দায়িত্ববোধ থেকে। সবার বিপদেই তিনি এভাবে এগিয়ে আসেন। কিন্তু এবার পারেননি কারণ, পরী যখন লাইভে আসেন তখন তিনি ফেসবুকেই ছিলেন না। সন্ধ্যা ৬টার পর তিনি জেনেছিলেন কিন্তু ততক্ষণে বিষয়টি র‌্যাবের অভিযান চলছে।

তাই বলে ফেসবুকেও কি একটা স্ট্যাটাস দেওয়া গেল না? চয়নিকাকে এ প্রশ্ন না করা হলেও পরে দেখা গেছে, তার ফেসবুক আইডিটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

এর আগে বুধবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় বনানীর বাসা থেকে ঢাকাই সিনেমার অন্যতম নায়িকা পরী মনিকে আটক করা হয়। রাত আটটার পরে তাকে বাসা থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় পরীর সঙ্গে আরও দুজনকে আটক করা হয়।

পরী মনির বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানায়, পরী মনির বাসায় একটা মিনিবার ছিল। তার বাসায় নিয়মিত পার্টি হতো। সেই পার্টিতে মদসহ সব ধরনের মাদক সাপ্লাই দিতের প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ। রাজের নেতৃত্বে একটা সিন্ডিকেট ছিল, যাদের কাজই হলো উঠতি বয়সী তরুণীদের দিয়ে নানারকম অপকর্ম করানো।

পরী মনিকে আটকের পর বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) চয়নিকা চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘অন্যদের মতো টেলিভিশন লাইভে আমিও ঘটনাটি দেখেছি। তবে পরী মনির বাসায় যাইনি। কারণ এটা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপার। তারা যা ভালো বুঝবেন, সেটাই করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আমাদের সম্মান আছে। ঘটনাটি মাত্রই ঘটল। এখন কিছু বলা ঠিক নয়। আমরা অপেক্ষা করবো কিছুদিন। অবস্থা বুঝে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও টিমের সঙ্গে বসে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

ডি-আরআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়