স্বামীর দাফনের প্রস্তুতির মধ্যেই স্ত্রীরও মৃত্যু!

আগের সংবাদ

টিকায় উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা!

পরের সংবাদ

ঝুমন দাসের জামিন পঞ্চমবারের মতো নাচক

প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২১ , ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ৪, ২০২১ , ১:০৩ পূর্বাহ্ণ

ফেসবুকে হেফাজতে ইসলামের বিতর্কিত নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করে গ্রেপ্তার ঝুমন দাস আপনের এবারও জামিন হয়নি। এ নিয়ে পাঁচবার সুনামগঞ্জের শাল্লার এই যুবকের জামিন আবেদন নাকচ হলো।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ওয়াহিদুজ্জামান শিকদার মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) সকালে তার জামিন আবেদন নাকচ করে দেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঝুমনের আইনজীবী দেবাংশু শেখর দাস।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতে গত রবিবার ঝুমন দাসের জামিন শুনানির দিন ঠিক করা থাকলেও বিচারক ওয়াহিদুজ্জামান শিকদার উপস্থিত না থাকায় শুনানির দিন পিছিয়ে মঙ্গলবার করা হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় প্রায় সাড়ে চার মাস ধরে কারাবন্দি ঝুমন।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে শানে রিসালাত সম্মেলন নামে একটি সমাবেশের আয়োজন করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এতে হেফাজতের তৎকালীন আমির জুনায়েদ বাবুনগরী ও যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বক্তব্য দেন।

এই সমাবেশের পরদিন ১৬ মার্চ মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন দিরাইয়ের পার্শ্ববর্তী উপজেলা শাল্লার নোয়াগাঁওয়ের যুবক ঝুমন দাস আপন। স্ট্যাটাসে তিনি মামুনুলের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ আনেন।

মামুনুলের সমালোচনাকে ইসলামের সমালোচনা বলে এলাকায় প্রচার চালাতে থাকেন তার অনুসারীরা। এতে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দারা ১৬ মার্চ রাতে ঝুমনকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

পরদিন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর সকালে কয়েক হাজার লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল করে হামলা চালায় নোয়াগাঁও গ্রামে। তারা ভাঙচুর ও লুটপাট করে ঝুমন দাসের বাড়িসহ হাওরপাড়ের হিন্দু গ্রামটির প্রায় ৯০টি বাড়ি, মন্দির। ঝুমনের স্ত্রী সুইটিকে পিটিয়ে আহত করা হয়।

এরপর ২২ মার্চ ঝুমনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল করিম।

শাল্লা হিন্দু গ্রামে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে হেফাজত সমর্থকরা শাল্লায় হামলার ঘটনায় শাল্লা থানার এসআই আব্দুল করিম, স্থানীয় হাবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল ও ঝুমন দাসের মা নিভা রানী তিনটি মামলা করেন। তিন মামলায় প্রায় ৩ হাজার আসামি। পুলিশ নানা সময়ে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু তারা সবাই এখন জামিনে।

রি-এএম/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়