প্রতারণা ও অন্ধকার জগতে তারকা মডেল সেলিব্রেটিরা

আগের সংবাদ

ডিজিটাল প্রতারণা বন্ধে এবার পুলিশ র‌্যাবের অভিযান; ভুয়া লীগ ৭৩টি

পরের সংবাদ

জিজ্ঞাসাবাদে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন হেলেনার ২ সহযোগী

প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২১ , ৮:৪৬ অপরাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ৩, ২০২১ , ৮:৪৬ অপরাহ্ণ

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নামে ভুয়া সংগঠন প্রতিষ্ঠার অভিযোগে দলটির মহিলা বিষয়ক উপ কমিটি থেকে বহিষ্কৃত নেত্রী ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাবের জিজ্ঞেসাবাদে অনেক চাঞ্চল্যকর ত্য বেরিয়ে এসেছে। তারা হেলেনার বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) সকালে রাজধানীর গাবতলী থেকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জয়যাত্রা টেলিভিশনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে কী কী অপকর্ম করেছেন তার একটা ফিরিস্তি দিয়েছেন হেলেনার এই দুই সহযোগী।

মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব জানায়, হেলেনাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তার প্রতারণা কার্যক্রমের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন জড়িত রয়েছে। তাদের সম্পর্কে কিছু তথ্যও দেন হেলেনা। এরই ধারাবাহিকতায় তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা হাজেরা খাতুন (৪০) কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার এতবার পুর গ্রামের মনিরুল ইসলামের স্ত্রী। হাজেরা র‌্যাবকে জানিয়েছেন, হেলেনার মালিকানাধীন একটি গার্মেন্টসে অ্যাডমিন হিসেবে চাকরি নেন তিনি। এর সুবাধে তিনি হেলেনার আস্থাভাজন হয়ে উঠেন। পরে জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের ডিজিএম হিসেবে নিয়োগ পান। এরই ধারাবাহকতায় তিনি জয়যাত্রা টেলিভিশনের শুরু থেকেই জিএম হিসেবে দায়িত্ব পান। এক্ষেত্রে হাজেরাই মূলত দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ হেলেনার আর্থিক বিষয়াদি দেখভাল করতেন।

হাজেরা আরও জানান, জয়যাত্রা টিভি ২০১৮ সাল থেকে হংকংয়ের একটি ডাউন লিংক চ্যানেল হিসেবে সম্প্রচার হয়ে আসছে। যার ফ্রিকুয়েন্সি হংকং থেকে বরাদ্দ করা হয়েছে। এর জন্য হংকংকে প্রতি মাসে প্রায় ছয় লাখ টাকা পরিশোধ করতে হত। এই টাকা চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন প্রতারণার মাধ্যমে সরবরাহ করা হতো।

এ টিভি দেশের প্রায় ৫০টি জেলায় সম্প্রচার হচ্ছিল। রাজধানী ও জেলা পর্যায়ের পাশাপাশি মফস্বল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে একে জনপ্রিয় করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়। যাতে করে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও অধিকসংখ্যক প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা যায়।
হাজেরা আও জানায়, গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা প্রতিনিধি ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা, উপজেলা প্রতিনিধি ১০ থেকে ২০ হাজার টাকায় দেওয়া হত। এছাড়া প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রতি মাসে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হত। শুধু তা্হই নয়। হেলেনা জাহাঙ্গীর জয়যাত্রা টিভিকে তিনি নিজ প্রচার ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য ব্যবহার করতেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে জয়যাত্রা টিভি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা চালাতেন হেলেনা।

জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন সম্পর্কে হাজেরা জানান, এ ফাউন্ডেশনে ডোনার, জেনারেল মেম্বার, লাইফটাইম মেম্বার ইত্যাদি ক্যাটাগরিতে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। এ সংগঠনের প্রায় ২০০ জন সদস্য রয়েছেন। যাদের কাছ থেকে সদস্য পদ বাবদ ২০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। যার খুব সামান্য মানবিক কাজে ব্যবহার হয়েছে। বাকি অর্থ জয়যাত্রা টিভির মাধ্যমে অপপ্রচার চালাতে ব্যবহার করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, সানাউল্ল্যাহ নূরী (৪৭) গাজীপুরের সামন্তপুর এলাকার মৃত শেখ মঈন উদ্দিনের ছেলে। তিনি জয়যাত্রা টিভির প্রতিনিধি সমন্বয়ক ছিলেন। তিনি হেলেনার নির্দেশনায় প্রতিনিধিদের সমন্বয় করতেন। প্রতিনিধিদের কেউ মাসিক টাকা দিতে ব্যর্থ হলে বা গড়িমসি করলে তিনি ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন। এলাকাতে তার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তিনি গাজীপুর গার্মেন্টস সেক্টরে ব্যাপক চাঁদাবাজি করে তার একটি অংশ জয়যাত্রা টিভিকেও দিতেন। এছাড়া তিনি গাজীপুর ও তদসংলগ্ন এলাকায় অনুমোদনহীন জয়যাত্রা টিভির সম্প্রচার নিশ্চিত করতেন।

গত ৩০ জুলাই রাতে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে তার গুলশানের বাসা থেকে আটক করে র‌্যাব।

ডি-আরআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়