রিলোড করা হচ্ছে অক্সিজেন

আগের সংবাদ

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর খোরশেদ আলমের মৃত্যু

পরের সংবাদ

হাঁকডাকে উৎসবমুখর চরফ্যাশনের জেলেঘাট

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২১ , ৫:১৭ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২৮, ২০২১ , ৫:১৭ অপরাহ্ণ

হাঁকডাকে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে চরফ্যাশন উপজেলার জেলেঘাট পাড়ায়। জেলেদের জালে এখন বড়সড় ইলিশ ধরা পড়ছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মৎস্য পল্লীগুলোতে জেলে ও পাইকারদের হাঁকডাকে সরগরম অবস্থা বিরাজ করায় জেলে পরিবারগুলোতে যেন এক উৎসবের আমেজ। স্থানীয় মৎস্য আড়তগুলোতেও চলছে দিন-রাত কর্মযজ্ঞ।

সামরাজ, বেতুয়া, নতুন স্লুইসগেট, খেজুরগাছিয়া, ঢালচর, বকসী, ঘোষেরহাট, চরকচ্ছপিয়া ও কুকরি মুকরির মৎস্যঘাটগুলোতে সমুদ্র থেকে ফিরে আসা ট্রলার ও নৌকায় করে বরফে সংরক্ষণ করে আনা হচ্ছে ইলিশ, পোয়া, ট্যাংরা, লইট্টা, রূপচাঁদা, সুরমা ও কোরালসহ হরেক রকমের সামুদ্রিক মাছ।

চরফ্যাশন উপজেলায় নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত প্রায় ৯০ হাজার জেলে রয়েছে। উপজেলার নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪৪ হাজার ২শ’ ৮১জন এবং অনিবন্ধিত জেলে রয়েছে প্রায় ৪৬ হাজার। এসব জেলেরা নদী ও সাগরে মাছ শিকার করে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ জেলে সামরাজ মৎস্যঘাটের আড়তগুলোতে মাছ বিক্রি করেন।

স্থানীয় কয়েকটি মৎস্যঘাট ঘুরে দেখা গেছে, কেউ ট্রলার থেকে ঝুঁড়িতে করে মাছ নিয়ে আসছে। আবার কেউ বা পাইকার ডাকছে, কেউ কেউ মাছ ক্রয় করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে রপ্তানির জন্য সংরক্ষণ করছেন। তবে মাছের আড়তে ক্রেতা-বিক্রেতা ও জেলেদের মাঝে স্বাস্থ্যবিধির কোন বালাই নেই।

লকডাউনে ঢাকা মুখী নৌ-চলাচল বন্ধ থাকায় ফেরিতে করে বাইপাস সড়কে গাড়িতে করে মাছ রপ্তানি করছে অনেকে। ফলে ফেরি স্বল্পতায় অনেক সময় এসব মাছের গাড়ি ভোলক ফেরিঘাটে আটকে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা। এতে করে খরচ বেশি হওয়ার পাশাপাশি নানা রকমের বেগ পোহাতে হচ্ছে মাছ বেপারীদের। এমনটাই জানান একাধিক মৎস্য ব্যবসায়ী।

সকাল থেকে প্রতিদিন কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয় এসব ঘাটে। এর মধ্যে সব থেকে বেশি ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে ইলিশ মাছ। বড় বড় আড়তগুলোতে ইলিশের পাশাপাশি কাউয়া, ঢেলা, লইট্টা, পোয়া, জাবা কই, মেদ, ট্যাংরা, রূপচাঁদাসহ প্রায় ২৫ প্রজাতির মাছ বিক্রি হচ্ছে। সাগরের ইলিশের থেকে নদীর ইলিশের দাম তুলনামূলক বেশি।

বড় সাইজের ৪টি ইলিশ ৩৫শ’ থেকে ৪ হাজার টাকা ও মাঝারি ২৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা এবং ছোট সাইজ ১৫শ’ থেকে ৮শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ঢালচর মৎস্য ঘাটের আড়তদার নজরুল জানান, ‘গেলো শুক্রবার নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও আবহাওয়ার বৈরিতা ও সাগরে লঘুচাপের ফলে উপকূলের জেলেরা চারদিন ধরে গভীর সমুদ্রে যেতে পারেনি। দীর্ঘদিন নিষেধাজ্ঞার ফলে আগের চেয়ে জালে বেশি ইলিশ ধরা পড়বে, আবহাওয়া ঠিক থাকলে বেশি ইলশের প্রত্যাশা নিয়ে গভীর সমুদ্রে রওনা দিবে আমাদের জেলেরা।’

সামরাজ ঘাটের জেলে মিলন মাঝি (৫৬), ফারুক মাঝি (৪৫) বলেন, ‘আগের চেয়ে নদীতে বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে। আগের কর্জ (ধার-দেনা) কিছুটা শোধ হচ্ছে। ইলিশ আরো একটু বেশি পাইলে আরো ভালো হইতো।’

চর কুকরি-মুকরির ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসেম মহাজন জানান, ‘চলতি জুলাই থেকে নদীতে ইলিশ ধরা পড়া শুরু করেছে। এর আগে ইলিশ মাছ পাওয়ার আশায় দিন-রাত উত্তাল নদীতে ভেসে থেকে দেনার বোঝা ভারী করে শূণ্য হাতে ঘাটে ফিরতে হয়েছে জেলে ট্রলারগুলোকে। চলতি সপ্তাহের মতো বেশি ইলিশ ধরা পড়লে জেলেদের ঋণের বোঝা কিছুটা কমে যাবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম জানান, ‘জুলাইয়ের শুরু থেকে সাগর ও নদ-নদীতে মাছের এ বিচরণ শুরু হয়েছে। বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় নদীতে লবনাক্ততা কমেছে। এতে নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, চলতি বছর চরফ্যাশন উপজেলায় ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৭ হাজার মেট্রিক টন। ২৩ জুলাই থেকে সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা উঠেছে। ইলিশ উৎপাদনে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে মনে করি।

রি-এআরএসসি/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়