বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা দর্শনকে যুগোপযোগী করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

আগের সংবাদ

সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজের স্মারকলিপি পেশ

পরের সংবাদ

স্ত্রীকে পিঠে বেঁধে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালের খোঁজে রাজু

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২১ , ১০:০৭ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২৮, ২০২১ , ১০:০৮ অপরাহ্ণ

রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতাল সিট না পেয়ে বুধবার মোটরসাইকেলে করে করোনায় আক্রান্ত স্ত্রী নাসরিন সুলতানাকে নিয়ে বেশ কয়েকটি হাসপাতালে ঘুরেছেন আবদুর জাহেদ রাজু। শেষ পর্যন্ত সিট পেলেন রাজধানীর ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে।

জানা যায়, আজ দুপুরে মুগদা জেনারেল হাসপাতাল সিট না পেয়ে মোটরসাইকেলে করে করোনায় আক্রান্ত স্ত্রী নাসরিন সুলতানাকে নিয়ে রওনা দিচ্ছিলেন তার স্বামী। কিন্তু নাসরিনের শরীর এতটাই খারাপ লাগছিল যে তিনি ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলেন না। এমনকি মোটরসাইকেলে উঠতেই পড়ে যাচ্ছিলেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিরা রাজুকে পরামর্শ দিলেন অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু নাসরিনের অবস্থা দ্রুত খারাপ হচ্ছে, তাই রাজু সিদ্ধান্ত নিলেন দ্রুত হাসপাতালে নিতে হলে তাঁর নিজস্ব মোটরসাইকেলই ভালো হবে। কিন্তু মোটরসাইকেলে বসেই ঢলে পড়ছেন নাসরিন। পরে পাশের ব্যক্তিরা পরামর্শ দিলেন নাসরিনকে স্বামী রাজুর সঙ্গে ওড়না দিয়ে বেঁধে নিয়ে যেতে। পরে তিনি এ কথায় সম্মতি দিয়ে রাজু তার এক স্বজনের সহায়তায় স্ত্রী নাসরিনকে নিজের সঙ্গে বেঁধে নিলেন।

আরও জানা যায়, এরপর সিট পাওয়ার আশায় তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক নাসরিনকে দেখে ভর্তির জন্য পরামর্শ দেন। কিন্তু এখানেও নেই সিট। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বাইরে চেয়ারে শুয়ে পড়েন নাসরিন। রাজু পাশে অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে স্বজনদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছেন, ‘…কী করবেন, কোথায় নিয়ে যাবেন..?’

আক্ষেপ করে রাজু জানালেন, নাসরিনের অক্সিজেনের মাত্রা কমে এসেছে, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে তার। এ মুহূর্তে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে না পারলে অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়বে। এখানে আমি নিজে গিয়ে দেখে আসলাম, সিট ফাঁকা আছে, কিন্তু তারা ভর্তি নিল না। আমার ক্ষমতা বা অনেক টাকা থাকলে এখানেই সিট ম্যানেজ করতে পারতাম।

এরপর সিট পাওয়া যাবে শুনে পরে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, মহাখালীর ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে যাবেন। আবারও ওই একইভাবে স্ত্রী নিয়ে রওনা হলেন মহাখালীর উদ্দেশে। ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসক দেখে ভর্তি করাতে বলেন। কিন্তু সিট ফাঁকা হওয়ার জন্য কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। প্রায় ৩০ মিনিট পর সিট পাওয়া যায়। তবে নাসরিনকে পরীক্ষা করে দেখা যায়, আপাতত তার অক্সিজেন সুবিধাসম্পন্ন বেডের প্রয়োজন নেই। তাই অক্সিজেন সুবিধা ছাড়াই বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ভর্তি হন নাসরিন।

এদিকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক জানান, বেশ কিছুদিন ধরে করোনা রোগীর চাপ অনেক বেড়ে গেছে। মঙ্গলবার থেকে নতুন রোগী ভর্তি করানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়