ট্রলারে করে শত শত পর্যটকের ভীড়

আগের সংবাদ

শঙ্কা কাটিয়ে পর্দা উঠল অলিম্পিকের

পরের সংবাদ

নিষেধাজ্ঞা শেষে বৈরী আবহাওয়ায় সাগরে যাচ্ছেন চরফ্যাশনের জেলেরা

প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২১ , ১০:১১ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২৩, ২০২১ , ১০:১১ অপরাহ্ণ

দেশের উপকূলীয় জেলার সাগরে ৬৫দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে। এ নিষেধাজ্ঞা শেষ হতেই মৎস্য শিকারে সাগরে যেতে প্রস্তুতি নিচ্ছে চরফ্যাশনের জেলেরা। আর তাই এসব জেলে ব্যস্ত সময় পার করছে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের মধ্য দিয়ে।

মহামারি করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে ও সাগরে ৬৫ দিনের মৎস্য অবরোধে বেকার বসে থেকে ঋণ করে চলতে হয়েছে প্রান্তিক অনেক জেলেকে।

চরফ্যাশন উপজেলার তালিকাভুক্ত প্রায় ৪৫ হাজার জেলের মধ্যে সমুদ্রগামী প্রায় ২০ হাজার জেলে নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনে গভীর সাগরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলেও উপজেলা মৎস্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৈরী আবহাওয়ায় সাগর উপকূলে থেকে মৎস্য শিকারের জন্য না বলা হচ্ছে।

উপজেলা সিপিপির সহকারী পরিচালক মেজবা উর রশিদ জানান, বৈরি আবহাওয়ার জন্য গভীর সমুদ্র ও চারটি বন্দরকে ৩নাম্বার সতর্ক সংকেত দেখানো হয়েছে। ফলে মাছ ধরার ট্রলারসহ সকল নৌ-যানকে সমুদ্র উপকূল থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

পহেলা জুলাই থেকে সাগর ও নদ-নদীতে অনেকটা ইলিশ মাছসহ অন্যান্য মাছ ধরা শুরু করলেও লঘুচাপের জন্য গভীর সাগরে মৎস্য শিকারে যেতে পারছেনা সমুদ্রগামী এসব জেলেরা।

প্রস্তুতির এ শেষ দিনে দীর্ঘদিন নদী ও সাগরে কাঙ্খিত মাছ না পাওয়া হতাশাগ্রস্ত জেলে ও মাঝি-মাল্লা থেকে শুরু করে আড়ৎদার ও সংশ্লিষ্ট পেশার শ্রমিকরা নতুন ভাবে বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে মৎস্য উৎসবের মৌসুম শুরু করতে যাচ্ছে মধ্যরাতে সাগরে যাওয়ার এ প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে।

ঢালচর ও কুকরি-মুকরিসহ সামরাজ মৎস্যঘাটের একাধিক জেলে বলেন, করোনার এ লকডাউনে ধারদেনা শেষে সাগরে যাওয়ার পূর্বে মহাজনদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে নামায় (সাগরে) নামছেন তাঁরা।

ঢালচরের জেলে পল্লীর আইয়ুব আলী বলেন, পেটের টানে ঝড়-ঝঞ্চার মধ্যেও গভীর সাগরে যেতে হয় তাঁদের। তিনি আরও বলেন, আমাদের মাঝারি বা বড় ধরনের একটি ট্রলার নিয়ে সাগরে যেতে সব মিলিয়ে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা খরচ হয়।

তবে নতুন একটি মাঝারি কিংবা বড় ট্রলার তৈরি করে নদী বা সাগরে নামাতে যন্ত্রাংশসহ সব মিলিয়ে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকা খরচ হয়।

মানিকা ইউনিয়নের একাধিক জেলে বলেন, ৬৫টি দিনের অবরোধ ও লকডাউনে বেকার বসে ছিলাম। ধারদেনা করে চলেছি। কোরবানীর ঈদেও ছেলে সন্তানাদি নিয়ে পাতে ভালো খাবার জোটেনি।

গত সিজনে মহাজনের থেকে নেয়া দাদনের টাকা পরিশোধ করতে পারিনি। এবার আড়তদার ও দাদন ব্যবসায়ীরা আমাদের কয়েকজন জেলেকে দাদন দিতে নারাজ। কারণ গতবার চুক্তিমতো মাছ দিতে না পারায় এবার তাঁরা ঝুঁকি নিতে চান না।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার বলেন, নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনে সমুদ্রগামী ১৮হাজার ৮শ জেলে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে বৈরী আবহাওয়ায় সাগরে ৩নাম্বার সতর্ক সংকেত চলছে। ফলে মৎস্য শিকারে সমুদ্রগামী সকল নৌ-যানকে সাবধানে উপকূলীয় এলাকা থেকে মৎস্য শিকারে যেতে মৎস্যঘাটগুলোতে ঘোষণা করা হচ্ছে।

চরফ্যাশনে ১০হাজার যান্ত্রিক এবং অযান্ত্রিক ট্রলার বা নৌকা রয়েছে। এর মধ্যে সমুদ্রগামী ২৭শ ট্রলার রয়েছে। যার মধ্যে এফভি আশা, এফভি মায়ের দোয়া, এফভি চন্দ্র দ্বিপ ও এফবি আলোখ নুরসহ বড় ছোট একাধিক মৎস্য ট্রলার সমুদ্রে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে।

রি-এএসসি/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়