অক্সিজেন সিলিন্ডার পাচারকারী চক্রের ৬ সদস্য আটক‌

আগের সংবাদ

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

পরের সংবাদ

কিশোর রুহুল আমিনকে বাঁচাতে দিনমজুর পিতার আকুতি

প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২১ , ১১:৫৩ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২৩, ২০২১ , ১১:৫৩ অপরাহ্ণ

একমাত্র ছেলে রুহুল আমিনকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন দিনমজুর পিতা ফজল হোসেন। মানিকগঞ্জের বান্দুটিয়া এলাকার কিশোর রুহুল আমিন ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। হতদরিদ্র পিতার পক্ষে ছেলেটির চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে না। তাই তিনি সকলের কাছে সহযোগিতার আবেদন করেছেন।

ফজল হোসেন বলেন, আমি একজন দিনমজুর। দিন আনি দিন খাই। সংসারে আমার স্ত্রী, আর এই ছেলেটা। মেয়েটার বিয়া হইছে। করোনার কারণে এখন তেমন কাম-কাইজ নাই। পরিবার পরিজন নিয়ে কোনোরকমে চলছে। এর মধ্যে ধরা পড়লো ছেলেটার ক্যান্সার। কি যে করি, বুঝতাছি না। চোখের সামনে ছেলেটা মইরা যাইবো, এইটা আমি সহ্য করুম কেমনে। আপনারা সবাই কিছু কিছু দিলে আমার ছেলেটা বাইচা যাইতো। আপনারা একটু দয়া করেন। ছেলেটা আমার ছাত্র ভালো। বান্দুটিয়া স্কুলে পড়ে। এবার ওর এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা।

তিনি আরও বলেন, একমাস আগে ওর জ্বর হইছিলো। জ্বর সাইড়া গেলো। কিন্তু অইলো নিউমোনিয়া। গেলাম ডাক্তারের কাছে। উনি আবার পরীক্ষা করবার দিলো। সাভার পপুলারে গিয়া পরীক্ষা কইরা উনারে আবার দেখাইলাম। কাগজপত্র দেইখ্যা উনি বললো, আমার ছেলের নাকি ব্লাড ক্যান্সার হইছে। উনি পাঠাইলো মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে। পরীক্ষা করাইলাম। ওইখানকার ডাক্তাররাও কইলো, ওর ব্লাড ক্যান্সার হইছে। ওর বয়স কম। চিকিৎসা করলে নাকি সুস্থ হবে। তয়, ট্যাকা লাগবো ছয়-সাত লাখ। তিন-চারবার গেছি। রবিবার আবার যাইবার কইছে। ট্যাকা নিতে কইছে দেড় লাখ। আমার কাছে তো এতো ট্যাকা নাই। জাগায় জাগায় ঘুরতাছি। কেউতো দিবার চায় না।

একজন দরিদ্র, সহজ-সরল পিতার এই আকুতি শোনে যদি কোন প্রতিষ্ঠান বা কোন সহৃদয়বান ব্যক্তি এগিয়ে আসেন-তাহলেই হয়তো সে সুস্থ হয়ে উঠবে। হয়তো আবার স্কুলে যাবে। মাঠে খেলবে। একদিন একজন সুনাগরিক হয়ে উঠবে। সমাজের সেবা করবে। সহায়তা পাঠাতে পারেন বিকাশ নম্বরে (০১৭৩৮৭৭৩৬৭৮)। যোগাযোগ করতে পারেন-০১৮১৯৫৭৬১৬৬।

মানিকগঞ্জ জিপি মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. আহমাদ আলী বলেন, চলতি মাসের প্রথম দিকে রুহুল আমিনকে আমার কাছে নিয়ে আসে। আমি তার বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরমার্শ দেই। আমার পরমার্শ অনুযায়ী সকল ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করায়। এরপর পরীক্ষার সকল রিপোর্ট আমাকে দেখায়। আমি নিশ্চিত হই, কিশোরটি ব্লাড ক্যান্সারে (একিউট লিউকেমিয়া) আক্রান্ত। আমি তাকে দ্রুত মহাখালী জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেই।

আফতাব উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার মন্ডল জানান, সে তাঁর বিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র। সে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

রি-এসকে/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়