আজকের সংবাদপত্র পর্যালোচনা

আগের সংবাদ

খুলনায় করেনায় মৃত্যু ও সংক্রমণ অর্ধেকের নিচে নামল

পরের সংবাদ

মৌলভীবাজারে উপহারের বাড়িতে প্রথম ঈদ দেড় সহস্রাধিক পরিবারের

প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২১ , ১২:৪৯ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২৩, ২০২১ , ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ

মৌলভীবাজারে মুজিব বর্ষের উপহারের বাড়িতে প্রথম ঈদ। আগে যেখানে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরবানীর মাংস চেয়ে আনতেন। এবার বঙ্গবন্ধুর নামে তারাই সম্মিলত কোরবানী দিয়ে মাংস ভাগাভাগী করে নিয়েছেন। নিজের ঘরে প্রথম ঈদ। আহ্ কি আনন্দ। কথা হয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারে ঠিকানা পাওয়া শ্রীমঙ্গল মোহাজেরাবাদের বীরঙ্গনা মায়া খাতুনের সঙ্গে।

চোখে আনন্দ অশ্রু নিয়ে বীরঙ্গনা মায়া খাতুন বলেন, থাকতেন অন্যের বাড়িতে। ভাঙা ঘরের চালে টিন চুই চুই পানি পড়তো। ঘরের ভেড়া খসে পড়তো। ঈদ করতেন কখনও অন্যের বাড়িতে কখনও ভাসমান অবস্থায়। মাংস আনতেন মানুষের বাড়ি থেকে হাত পেতে। এবার মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে উপহার পাওয়া নিজের বাড়িতেই করলেন ঈদ। নিজের ঘরের সামনেই হয়েছে সম্মিলিত কোরবানী। তার ভাগেও পড়েছে বেশ মাংস।

বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) দুপুরে সিন্দুরখান থেকে বেশ কয়েকজন স্বজন আসবেন ঈদের দাওয়াত খেতে। এ যেন এক অন্য রকম অনুভূতি। এ অনুভূতি শুধু মায়া খাতুনের নয়, নতুন ঘর পাওয়া হৃদয় মিয়া, সুফিয়া বেগম, হালিমা বেগম, হাসনা বেগম, রুনা বেগমসহ জেলার দেড় সহস্রাধিক পরিবারের।

শুধু বয়স্করা নয়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের শিশুদের মধ্যেও আনন্দের শেষ ছিলো না। নতুন জামা পড়ে তারা এক ঘর থেকে আরেক ঘরে দাওয়াত খেয়েছে। অনেকে বেলুন দিয়ে খেলেছে। কেউ খেলেছে ফুলগুটি। সংসারে শত অভাব অনটন থাকলেও কারো চোখেমুখে ছিল না বিষাদের কোন ফুলকি। মানুষগুলোর আনন্দ দেখে মনে হয়েছিলো এইতো ঈদ।

আশ্রয়ণের অপর বাসিন্দা হৃদয় মিয়া জানান, শুধু নিজের ঘর নয়। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানের কাছ থেকে উপহার পেয়ে তারা এবার বড় একটি গরু বঙ্গবন্ধুর নামে কোরবানী দিয়েছেন। মোহাজেরাবাদ ও বেগুনবাড়ি দুটি আশ্রয়ণে প্রত্যেকেই সমানভাবে মাংস ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।

মোহাজেরাবাদের ওই আশ্রয়ণে একমাত্র হিন্দু ছিলেন বীরাঙ্গনা শিলা গুহ । ঈদ আনন্দে সামিল হয়েছেন তিনিও। শিলা গুহ জানান, জেলা প্রশাসক মুসলিমদের জন্য কোরবানীর গরু দিয়েছেন। আর শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে দুটি মুরগী দিয়েছেন। সকালে আশ্রয়ণের ঘরে ঘরে চা সেমাই এর দাওয়াত খেয়েছেন। ঈদে এতো আনন্দ হয় এই প্রথম তিনি অনুভব করলেন।

এই ঈদের আনন্দযজ্ঞে সামিল হতে দুপুরে সেখানে যোগ দেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। বেশ কিছু সময় তিনি সেখানে কাটান। কারো ঘরে সেমাই, কারো ঘরে চা আর কারো ঘরে ডিম মামলেট খান।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, ঠিকানাহীন মানুষেরা তাদের নিজের ঠিকানায় প্রথম ঈদ করছে। তাদের ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে তিনি ছুটে আসেন এখানে। সরল এই মানুষগুলোর সঙ্গে তিনি ঈদ করেছেন। কিছু সময়ের জন্য তিনি যেন সব ভুলে গিয়েছিলেন। মনে হচ্ছিল, যেন তিনি ওই পরিবারগুলোরই সদস্য। প্রধানমন্ত্রী এই ঠিকানাহীন মানুষের জন্য বিশাল উদ্যোগ নিয়েছেন। ঠিকানাহীন মানুষদের ঠিকানা করে দেয়ার যে স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রীর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে। যা সম্পন্ন হলে বাংলাদেশে কেউই আর ভাসমান থাকবেন না। সরল এই মানুষগুলো আজ মন ভরে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করেছে।

আর মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জানালেন, অন্য যে কোন জায়গার চেয়ে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের প্রকল্পগুলো স্বতন্ত্র। যার যোগাযোগ থেকে জীবিকায়ন সকল সুবিধা বিরাজমান। এখানে আশ্রয় হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবহন করা বীর মাতাদেরও। পরিবারসহ তিনি নিজেও করোনা আক্রান্ত। তাই নিজে বের হতে পারেননি। না হলে ঈদের দিনে বিভিন্ন আশ্রয়ন ঘুরে বেড়াতেন।

তিনি জানান, মোহাজেরাবাদে তিনি কোরবানীর জন্য একটি গরু দিয়েছেন। যেটি বঙ্গবন্ধুর নামে উৎসর্গ করে আশ্রয়ণবাসী কোরবানী দিয়েছেন। তারা যে ঈদে আনন্দ করছেন তিনি ঘরে বসেই খবর নিয়েছেন। শুনে তাঁর খুব ভালো লেগেছে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়