টাইগারদের বোলিং-ফিল্ডিং ছন্দে ১৫২ রানে অলআউট জিম্বাবুয়ে

আগের সংবাদ

ক্ষেতলালে জনসংযোগ করলেন হুইপ স্বপন

পরের সংবাদ

চামড়ার সিন্ডিকেট বন্ধ হয়নি, মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২১ , ৬:৪৭ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২২, ২০২১ , ৬:৪৭ অপরাহ্ণ

করোনা মহামারীর মধ্যে দ্বিতীয় বারের মতো উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আযহা। গত বছর কোরবানির ঈদের পর চামড়ার দাম পড়ে যাওয়া নিয়ে দেশে ‍হুলস্থুল হয়েছে। এবারেও গতবারের পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয় সেজন্য সরকার বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ৫ টাকা করে বাড়িয়ে চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

তবে, সরজমিনে দেখা গেছে, গত বছরের চেয়ে এবার কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার দাম সামান্য বাড়লেও একাধিক সিন্ডিকেট চক্রের হাতেই জিম্মি হয়ে আছে। এই চক্রগুলো সিন্ডিকেট করে অল্প দামে কাঁচা চামড়ার বাজার তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। ফলে এ বছরেও মৌসুমী ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে। একই পরিস্থিতি দেখা গেছে ঢাকার রামপুরা মালিবাগ কমলাপুর খিলগাঁও শান্তিনগর এলাকাতেও।

অন্যদিকে সরকার লবণজাত কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিলেও কোরবানির পশুর রক্তমাখা চামড়ার দাম নির্ধারণ করেনি। ফলে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যাঁর কাছ থেকে যে দামে পেরেছেন কিনেছেন।

পোস্তায় গিয়ে দেখা গেছে, অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) সকালে পোস্তায় চামড়া নিয়ে এসে বিক্রি করতে পারছেন না। আড়তে আড়তে ঘুরলেও আড়তদাররা চামড়ার দামই বলছেন না। পোস্তায় যাওয়ার আগেই রাস্তায় একপাশে চামড়া সংগ্রহ করছিলেন কয়েকজন। তাদের একজন আলী আশরাফ বলেন, দিনের বেলায় চামড়ার রেট কিছুটা ভালো। তবে রাত যত গভীর হবে ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে যত চামড়া ঢোকা শুরু করবে, এতে চামড়ার রেট কমতে থাকবে। ঢাকা শহরের চামড়ার একটু কদর বেশি থাকে। কারণ, চামড়ার পুরত্ব বেশি হয়।

মৌসুমি ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, গত বছরও চামড়ার ভালো দাম পাননি তারা। তবে গত বছরের তুলনায় এবার বাজার কিছুটা ভালো হলেও তা আশানুরূপ নয়। অন্যদিকে করোনার কারণে এবার মাদ্রাসা থেকেও শিক্ষার্থীদের কোরবানির পশুর চামড়া কেনার জন্য পাড়া-মহল্লায় দেখা যায়নি।

এদিকে চামড়ার আড়তদারদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, ট্যানারি মালিকরা পুরনো বকেয়া পরিশোধ না করায় কিছুটা আর্থিক সংকটে আছে। তবে সার্বিকভাবে এবার চামড়ার বাজার নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। তারা ভাল দামে চামড়া কিনেছেন। কেনা চামড়ায় লবণ লাগিয়ে ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করছেন বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

দেখা যাচ্ছে, কয়েক বছর আগেও যে চামড়া বিক্রি হতো ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। এবার সেই একই ধরনের চামড়ার দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। এর ফলে গত দুই-তিন বছরের মতো এবারও কোরবানির পশুর চামড়ায় যাদের হক রয়েছে, সেই এতিম ও দুস্থরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সাধারণ ব্যবসায়ীরাও পড়ছেন আর্থিক ক্ষতির মুখে।

এবার সরকার গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম বর্গফুট প্রতি ৫ টাকা করে বাড়িয়ে ঢাকায় ৪০ থেকে ৪৫ টাকা আর ঢাকার বাইরে ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা করেছে। আর ছাগলের চামড়ার দাম ঠিক করা হয় বর্গফুটপ্রতি ১২ থেকে ১৭ টাকা। অথচ নির্ধারিত দামের আশেপাশেও যেন থাকছেন না ব্যবসায়ীরা।

কাঁচা চামড়া কেনাবেচার অন্যতম একটি স্থান এলিফেন্ড রোড। পোস্তায় মালিকরা খুশি হলো এখানে দেখা গেছে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা অনেকটাই যেন হতাশ। দেখা যায়, মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে কম দামে চামড়া কিনে এখানে এসেছেন বিক্রি করতে। কিন্তু যে দাম দিয়ে কিনেছেন সেই দামে বিক্রি করতে পারছেন না। মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী আবু বকর জানান, প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা করে কেনা গরুর একেকটি চামড়া তিনি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় কিনে এনেছেন। অথচ সেই দামে কিনতে চাচ্ছেন না চামড়া ব্যবসায়ীরা। ভোরের কাগজকে তিনি বলেন, সারাবছর সবজি বিক্রি করে জীবনযাপন নির্বাহ করি। করোনার সময়ে পুঁজি হারিয়ে বসে আছি। তাই কিছু টাকা ধার নিয়ে চামড়া কিনেছি লাভের আশায়। কিন্তু কেনা দামে বিক্রি করতে পারছিনা।

পাশেই দেখা গেছে মধ্যস্থতা করছেন কয়েকজন। কিছুক্ষণ পর পরেই মোটরসাইকেলে করে ঘুরে যাচ্ছেন এবং মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মধ্যস্থতা করে চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। আবার দেখা গেছে, অনেক ট্যানারি মালিক পোস্তায় না গিয়ে এখান থেকে সরাসরি কাঁচা চামড়া কিনছেন নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক কমে।

পোস্তার কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশ ক’জন ট্যানারি মালিক গত কয়েক বছরের পাওনা টাকা পরিশোধ করেননি। এবছরের তারা পাওনা পরিশোধ না করেই বিভিন্ন জায়গা থেকে সরাসরি কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে আর্থিক সঙ্কটে পড়েছেন তারা। এর প্রভাব পড়তে পারে চামড়া কেনাবেচায়।

ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড রিটেইল স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নওয়াব আলী বলেন, গত বছরের পাওনা টাকা দিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা। কিন্তু ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া পাওনা কিছু ট্যানারি আংশিক দিয়েছে। আবার অনেক ট্যানারি টাকা দেয়নি। অর্থ ঘাটতির আংশিক সমাধান হওয়ায় এর প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান ভোরের কাগজকে বলেন, সরকার অথবা ব্যাংক থেকে আমাদের কোনো সহযোগিতা করার প্রয়োজন নেই। আমাদের পুরনো বকেয়া যা আছে তা যদি পরিশোধ করে দেয়, তাহলেই আমরা ভালো থাকবো। ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে পারব। টিপু সুলতান বলেন, ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে দেড়শ কোটি টাকা পাওনা আছি।

পোস্তার বাইরে অস্থায়ী আড়ত এর ব্যাপারে বলেন, হেমায়েতপুরে চামড়াশিল্প নগরের পাশে অপরিকল্পিতভাবে অনেক আড়ত গড়ে উঠেছে। আবার, রাজধানীতে অস্থায়ী হাট বসিয়ে চামড়া কেনা হচ্ছে। সে কারণে এবার পোস্তায় কাঁচা চামড়া কম এসেছে। তিনি বলেন, কাঁচা চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের পদ্ধতি আছে। পোস্তায় যেটা শত বছরের ঐতিহ্য। সরকারের অনুমোদন নিয়ে ব্যবসা করে সবাই। তিনি বলেন, ‘এসব অবৈধ আড়ত গুঁড়িয়ে দিতে আমরা শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু লাভ হয়নি।

রি-এমএস/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়