বিকেলে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে

আগের সংবাদ

এবার ঢাকা ফেরার যুদ্ধ শুরু

পরের সংবাদ

ঈদে পর্যটনের ক্ষতি ২৫০ কোটি টাকার বেশি

প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২১ , ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২২, ২০২১ , ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ

করোনাভাইরাসের কারণে সংকটে পড়েছে পর্যটন শিল্প। বিনোদন পার্ক শুধু নয়; পাহাড়, সমুদ্র, বন-বনানী-পর্যটনের এসব নানা কেন্দ্র এখন বন্ধ। এসব জায়গায় আছে অসংখ্য হোটেল-মোটেল–রিসোর্ট। ঈদের এ সময়টাতে ফি বছর এসব জায়গায় মানুষের ঢল নামে। কিন্তু বন্ধ থাকায় এসব ব্যবসায় গুনছে বিপুল ক্ষতি। পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নানা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাব, শুধু ঈদুল আজহার এ সময়ে ২৫০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হচ্ছে এ খাতে।

এই দুই ঈদ বিনোদন পার্কের যেমন বড় উৎস, সমুদ্র-শহর কক্সবাজারের হোটেল ব্যবসায়ীদের কাছে এ দুই ঈদের আগে-পরের সময়টা সুপার পিক টাইম। বছরের সেরা মৌসুম এটি। এরপর আছে পিক টাইম, সেটি চলে ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত। আর মার্চ থেকে নভেম্বর মাস হলো অফ পিক টাইম।

এই সুপার পিক টাইম এ করোনার আগে হোটেল রেইন ভিউয়ে প্রতিদিন ৩৫ কক্ষের একটিও খালি থাকত না। এ তথ্য জানালেন দুই তারকার এ হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুকিম খান। তার কথা, প্রতিদিন আয় হতো ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। ঈদের আগে পরে ১০ থেকে ১২ দিন জায়গা দিতে পারতাম না। কিন্তু সেই ব্যবসায় আর নেই।

কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, কক্সবাজার শহরে আছে সাড়ে ৪০০ হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট। এখানে কর্মচারীর সংখ্যা ৫০ হাজারের ওপরে। পর্যটনের সঙ্গে জড়িত তিন লাখের বেশি মানুষ। গত বছর ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটির আদলে বিধিনিষেধ শুরু হলে বন্ধ হয়ে যায় হোটেলগুলো। খোলে গত বছরের ১৭ আগস্ট। এরপর চলতি বছরের ৫ এপ্রিল আবার বন্ধ হয়ে যায়। হোটেলগুলো যখন খোলা ছিল, তখন একটি ঈদও তারা পাননি। তাদের সুপার পিক টাইমের ব্যবসায়ও হয়নি।

এছাড়া পর্যটন এলাকার সঙ্গে আরও অনেক ব্যবসা জড়িয়ে আছে খাবারের দোকান, ঝিনুক ব্যবসায়ী, বিভিন্ন দোকোনের মালিকরাও দেখছে লোকসান।

১৫ জুলাই পর্যটন খাতের হোটেল-মোটেল ও থিম পার্কের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ঋণের সুদহার কমিয়ে ৮ শতাংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ৪ শতাংশ দেবে সরকার এবং বাকি ৪ শতাংশ গ্রাহকদের দিতে হবে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) সরদার নূরুল আমিন বলেন, পর্যটনের সঙ্গে অন্তত ৪৬ ধরনের ব্যবসায় যুক্ত থাকে। তিনি বলেন, পর্যটন এক বিপুল ক্ষতি গুনছে। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

ট্যুরিজম রিসোর্ট ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ট্রাইয়াব) সভাপতি কবির উদ্দিন আহমেদের হিসাব, এ খাতে ক্ষতি ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে।

পর্যটন করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. শহীদুল ইসলাম ভুঞা জানান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মোট ২১টি মোটেল আছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এর প্রতিটিই এখন ক্ষতি গুনছে প্রতিদিন। ২০২১-অর্থবছরে ১০ কোটি ৭০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। দুই ঈদের পর্যটন করপোরেশনের ক্ষতি প্রায় তিন কোটি টাকা। আর সব মিলিয়ে ঈদের সময় পর্যটন খাতের আনুমানিক ক্ষতি ২৫০ কোটি টাকার মতো হবে।

ডি-এফবি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়