বায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত

আগের সংবাদ

মেহেরপুরে নিজের রাইফেল দিয়ে পুলিশের আত্মহত্যা

পরের সংবাদ

ঈদের জামাতে করোনা থেকে মুক্তির প্রার্থনা (ভিডিও)

প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২১ , ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২১, ২০২১ , ১২:৪৯ অপরাহ্ণ

সারা দেশে চলছে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন। সকাল ৭টায় শুরু হয়েছে ঈদের জামাত। এতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশ নেন। জামাতে সারা বিশ্বে চলমান করোনা মহামারি মুক্তির জন্য প্রার্থনা করা হয়।

রাজধানীতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রধান ও প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায়। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মো. মিজানুর রহমান। আর মুকাব্বির ছিলেন বায়তুল মোকাররমের মুয়াজ্জিন মো. আতাউর রহমান।

ঈদের নামাজ শেষে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি, দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করেন ইমাম। একইভাবে করোনা থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করা হয় রাজধানীর অন্যসব জামাতেও।

করোনা মহামারি থেকে মুক্তির জন্য ঈদের জামাতে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হয় ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য জামাতেও।

ঈদের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে দেশ ও জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এ সময় দেশ ও জাতির স্বার্থে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য রক্ষার ডাক দেওয়া হয়। আহ্বান জানানো হয় সন্ত্রাসবাদ পরিহারের।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২১জুলাই) সকাল ৭টায় প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। মুকাব্বির ছিলেন মুয়াজ্জিন হাফেয ক্বারী কাজী মাসুদুর রহমান। মুসল্লিরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে জামাতে অংশ নেন। এরপর পর্যায়ক্রমে এক ঘন্টা পর পর আরো চারটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরের মতো এবারো জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। সাধারণত জাতীয় ঈদগাহে দেশের প্রধান ঈদের জামাতে রাষ্ট্রপতি অংশ নেন। এছাড়া প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রী-এমপি ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জাতীয় ঈদগাহে জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করে থাকেন। তবে জানা যায়, বঙ্গভবনের দরবার হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে ঈদের একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বঙ্গভবনে অনুষ্ঠেয় ঈদের জামাতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। দরবার হলে অনুষ্ঠেয় ঈদের জামাতে রাষ্ট্রপতি ছাড়াও তার পরিবারের সদস্যরা এবং বঙ্গভবনে দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন কর্মকর্তা অংশ নেন।

এদিকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায়। এ জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী। তৃতীয় জামাত সকাল ৯টা অনুষ্ঠিত হয়। এ জামাতে ইমামতি করেন পেশ ইমাম হাফেয মাওলানা এহসানুল হক। ১০টায় অনুষ্ঠিত চতুর্থ জামাতে ইমামতি করেন পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম। পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়। এ জামাতে ইমামিত করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা ওয়ালিয়ুর রহমান খান।

এদিকে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মসজিদেও ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার শাহী মসজিদে সকাল ৮টা ও ৯টায় দুটি জামাত হয়। বড় কাটরা মাদ্রাসা মসজিদে একটি ঈদ জামাত হয় সকাল ৮টায়। লালবাগ শাহী মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় একটি জামাত হয়।

নবাবগঞ্জ বড় মসজিদে ঈদের জামাত হয় তিনটি- সকাল ৭টায় , ৮টায় ও ৯টায়। আজিমপুর কবরস্থান মসজিদে সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা ও ১০টায় চারটি জামাত হয়। আর ছাপড়া মসজিদে তিনটি জামাত হয় সকাল সাড়ে ৭টা, সাড়ে ৮টা ও সাড়ে ৯টায়।

মিরপুর দারুস সালাম লালকুঠি বড় মসজিদে সকাল ৭টায় একটি জামাত হয় এবার। ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টা ও সকাল ৯টায়, ধানমণ্ডির বায়তুল আমান মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায়, ঈদগাহ মাঠ মসজিদে ৮টায় এবং সোবহানবাগ জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া পুরান ঢাকা তারা মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টা ও ৯ টায়, রায়সাহেব বাজার জামে মসজিদে সাড়ে ৮টায়, নিমতলী ছাতা মসজিদে সকাল ৮টা ও ৯টায়, আগামছি লেইন জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টা ও সাড়ে ৮টায় এবং বায়তুল মামুর জামে মসজিদে সকাল সোয়া ৮টা ও ৯টায় ঈদের জামাত হয়। গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে সকাল ৬টা, সাড়ে ৭টা এবং সাড়ে ৯টায় ঈদের তিনটি জামাত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ এবং শহীদুল্লাহ হল জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদ জামাত হয়।

করোনা মহামারি শুরুর পর গত তিন ঈদে ঈদগাহে কিংবা খোলা মাঠে জামাতে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে এবার তা স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে শর্তসাপেক্ষে
শিথিল করা হলেও কোথাও খোলা মাঠে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়নি। গত তিনটি ঈদের ন্যায় এবারো হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত ও শত বছরের ঐতিহ্য ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি।

এছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঈদের জামাত শেষে কোলাকুলি এবং হাত মেলানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি ১২টি নির্দেশনা দেয়া হয়।

ডি-আরআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়