ইংল্যান্ডে কোভিড নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

আগের সংবাদ

মাধবপুরে ভিমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু, আহত ৩

পরের সংবাদ

করোনা এখন জাতীয় সমস্যা

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২১ , ১:০৫ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ১৯, ২০২১ , ১:০৬ অপরাহ্ণ

এক সময়কার করোনা পরিস্থিতি দেখে আমাদের অনেকের ধারণা জন্মেছিল দেশে করোনা বুঝি নিয়ন্ত্রণে এসে গেছে। আক্রান্ত তথা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমে যাওয়ায় এমন ধারণা স্বাভাবিকই ছিল। হয়তো তাই মানুষের শিথিলতা করোনা বিষয়ক বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধান মেনে চলার দিকে।

সে সময় একটি ভয়ংকর সতর্কবাণী বারবার উচ্চারিত হচ্ছিল- তা হলো ভয়ানক ধরনের করোনার ভারতীয় স্ট্রেইনটির কথা। এর আগেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে বারবার বলা হচ্ছিল করোনা ভাইরাসটির আশ্চর্য বিবর্তন ক্ষমতার কথা, যা মারাত্মক রূপ নিতে পারে।

গবেষকরা এ বিষয়ে সচেতন হলেও তাদের খুব একটা কিছু করার ছিল না নিয়মতান্ত্রিক প্রতিষেধক ব্যবস্থার পরামর্শ দেয়া ছাড়া। যেহেতু প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের রয়েছে সুদীর্ঘ সীমান্ত রেখা, তাই এ ব্যাপারে বিশেষ কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়েছিল কিনা তা আমার জানা নেই।

তবে আমাদের নাগরিকরা যে স্বাস্থ্যনীতি ও বিধিনিষেধ পালনে অনেকটা দায়িত্বহীন তা বলার অপেক্ষা রাখে না, যেজন্য করোনা সংক্রমণের এত সময় পরও ‘মাস্ক’ পরা নিয়ে এত সতর্কবাণী উচ্চারণ করতে হচ্ছে নিয়মিত। তারপরও লক্ষ করা যাচ্ছে ‘মাস্ক’ পরায় এক শ্রেণির লোকের শিথিল আচরণ।
সামাজিক ও ব্যক্তিগত দায়িত্বহীনতা আমাদের মধ্যে এতটাই প্রকট। তাই সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত, বিশেষ করে ভারত থেকে ফিরে আসার কালে কোয়ারেন্টাইনের বিধিবদ্ধ আইন কতটা মানা হয়ে থাকে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

বাংলাদেশের প্রান্তিক জেলাগুলোতে বিশেষ করে রাজশাহী খুলনা ইত্যাদি অঞ্চলে এবং রাজধানীতে হঠাৎ করে করোনা সংক্রমণের সঙ্গতিহীন বৃদ্ধির আর কোনো যুক্তিগ্রাহ্য কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আর সেই ভয়ংকর করোনা স্ট্রেইনটিই যে কারণ হতে পারে, তার প্রমাণ তাৎক্ষণিক চেষ্টায় এই বৃদ্ধি কমিয়ে আনা যাচ্ছে না। যেমন কঠোর লকডাউন ব্যবস্থার বিধিনিষেধ। অবশ্য এই বিধিনিষেধ কতটা যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে, সেটাও একটি প্রশ্ন। প্রতিদিন আশা করা যাচ্ছে আগামীকাল হয়তো সংখ্যাটা কমে আসবে, কিন্তু তা শুধু ভাবনাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে।

\ দুই \
এ তো গেল আমাদের ভাবনা ও হিসাব-নিকাশের কথা। এবার সংবাদপত্রের পাতায় নজর ফেরালে প্রকৃত অবস্থাটা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। ক’দিন ধরেই কেবল আতঙ্কজনক খবর। সামনে ঈদ। তাই সপ্তাহ খানেকের জন্য লকডাউন শিথিল করতেই হচ্ছে। পরিমাণটা কী হবে তা আমরা জানি না।

মাসের শুরুতেই একটি ভয়ংকর সংবাদ শিরোনাম (৪.৭.২০২১) ‘বদলে যাচ্ছে ভাইরাস, পাল্টে যেতে পারে মানুষও।’ এ শিরোনামের প্রথম অংশটি নিয়ে ইতোপূর্বে আমরা বিশদ আলোচনা করেছি। দ্বিতীয় অংশটির তাৎপর্য বিপজ্জনক। করোনা ভাইরাসের চরিত্র বদলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংক্রমণ বৃদ্ধি যদি অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে মানুষেরও চরিত্র বদল ঘটায় তা আনতে পারে সামাজিক বিপর্যয়। বেড়ে যেতে পারে সামাজিক অপরাধ প্রবণতা ব্যক্তির চরিত্র বদলকে ভিত্তি করে।
সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কি এ বিপর্যয় সামাল দিতে পারবে? না পারলে তার ফলাফল কী হতে পারে? বিষয়টি দীর্ঘ আলোচনার। আমরা আপাতত সে আলোচনায় যাচ্ছি না। কিন্তু বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ও গবেষককুলের স্মরণে রাখতে হবে যথাবিহিত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনে।

অন্যরা যাই ভাবুন গণমাধ্যম যে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে, তার প্রমাণ পূর্বোক্ত সংবাদের ধারাবাহিকতায় ৭.৭.২১ তারিখের একটি দৈনিকের সম্পাদকীয় শিরোনাম ‘ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে করোনা’ সব পরিবর্তন আমলে এনে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে দৈনিকটির এই প্রতিবেদনে।
এর কারণ আর কিছু নয়, লকডাউন সত্ত্বেও সংক্রমণ ও মৃত্যুহারের ক্রমবর্ধমান বিপজ্জনক পরিস্থিতি। সেই সঙ্গে নাগরিকদের স্বাস্থ্যবিধি পালন সংক্রান্ত দায়দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে, যে কথা আমরাও কিছুটা বিশদভাবে লিখেছি। কিন্তু কে শোনে কার কথা।

আমরা ভাবতে পারছি না, করোনায় মৃত্যুর হার বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ার পরও মানুষ কীভাবে এতটা বেপরোয়া হতে পারে তাদের চালচলনে, কীভাবে এতটা অনীহা প্রকাশ করতে পারে করোনা বিষয়ক বিধিনিষেধ পালনে? বাংলাদেশের মানুষ কি তাদের জীবন-মৃত্যু নিয়ে এতটাই উদাসীন? ‘জীবন মূল্যবান’- এ বোধ তো তাদের যথেষ্টই আছে বলে মনে হয়।

প্রশ্ন, তবু কেন ক্রমাগত বাড়ছে সংক্রমণ, বাড়ছে মৃত্যুর হার? এর কারণ নিশ্চয়ই একাধিক। শুধু জনগণের একাংশের আচরণগত শিথিলতাই নয়।

\ তিন \
এবার তাই আমাদের স্বাস্থ্য ও ভাইরাস বিষয়ক গবেষকদের সচেতন ও সক্রিয় হওয়া দরকার। দরকার ভাইরাস সংক্রমণের এতটা বেপরোয়া মনোভাবের কারণ নির্ধারণে এবং ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শদানে এগিয়ে আসা। কারণ আমরা দেখছি, কড়া লকডাউনের পরও সংবাদপত্রে এমন শিরোনাম (১২.৭.২০২১) : ‘শনাক্ত ও মৃত্যুতে ফের রেকর্ড।’

মৃত্যুর হার ক্রমাগত লাফিয়ে বাড়ছে, কেয়ার করছে না কঠোর লকডাউনকে। সেজন্যই আমরা বিশেষজ্ঞদের মাঠে নামতে পরামর্শ দিচ্ছি। বিগত ১২.৭.২১-এর প্রতিবেদনে প্রকাশ, করোনায় মৃত্যু শত পেরিয়ে এখন ২০০-এর ঘরে- সঠিক হিসাবে মৃত্যু একদিনে ২৩০ এবং শনাক্তের সংখ্যা ১১,৮৭৪। কারো কারো অভিযোগ, নমুনা পরীক্ষার সীমাবদ্ধতার কারণে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা বেরিয়ে আসছে না।

প্রকৃত চিত্রটির প্রকাশ অপেক্ষাকৃত অধিক নমুনা পরীক্ষার ফলে (১৩.৭.২১)। তাতে ঘটনার ইতর বিশেষ হচ্ছে না। এ সম্পর্কে সংবাদ শিরোনাম : ‘সর্বাধিক নমুনা পরীক্ষার দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত’। আর একদিনে মৃত্যু ২২০ জনের।

এ পরিস্থিতিতে কী করণীয়? আমরা এ বিষয়ে ইতোপূর্বে পরামর্শ দিয়েছি। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় দরকার সরকার এবং জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধ লড়াই। একটি দৈনিকে প্রায় অনুরূপ সংবাদ শিরোনাম : ‘সংক্রমণ ঠেকাতে জরুরি সর্বাত্মক পদক্ষেপ’।

আসুন, আমরা সবাই মিলে যে যার মতো করে করোনাবিরোধী লড়াইয়ে ভূমিকা রাখি, এটা এখন আমাদের জাতীয় সমস্যা। এ সমস্যা সমাধান সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করতে হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়