শিক্ষার্থীদের করোনার ক্ষতি পুষিয়ে দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

আগের সংবাদ

মিরসরাই প্রেস ক্লাবের আহবায়ক সালেক নাছির উদ্দিন

পরের সংবাদ

ব্যস্ত সময় পার করছেন মদনের কামারেরা

প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২১ , ৯:০৩ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ১৭, ২০২১ , ৯:০৩ অপরাহ্ণ

হাফর টানার আওয়াজ আর হাতুড়ি পেটানোর টুং-টাং শব্দে মুখর হয়ে ওঠেছে মদনের কামারের দোকানগুলো। সকাল থেকে রাত অব্দি চলছে নতুন-পুরাতন দা-বটি ছুরি, চাপাতি তৈরি বা শান দেয়ার কাজ। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কয়েকদিন ধরে তাদের এ ব্যস্ততা বেড়ে গেছে।

যারা পশু কোরবানি দেন তাদের মাংস প্রস্তুতি করতে এসব দা-বটি ছুরি, চাপাতি প্রয়োজন। তাই অনেকে এ উপলক্ষে নতুন করে দা-বটি ছুরি, চাপাতি কিনছেন আবার কেউ কেউ পুরাতনগুলোতে শাণ দিয়ে নিচ্ছেন। তাই ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে কামারদের ব্যস্ততা। বাড়তি কিছু রোজগারের জন্য বছরের এ সময়গুলোর প্রতীক্ষায় থাকেন কামারেরা। অনেকে বাড়তি চাপ সমাল দিতে নতুন কর্মচারী নিয়েছেন। দোকানগুলোতে এখন প্রতিক্ষণই চলছে ওই সবসামগ্রী আগুনের শিখায় তাপ দেওয়া, হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে তৈরি ও শান দেয়ার কাজ।

উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর নতুন বাজারের গোপাল কর্মকার জানান, বছরের অন্য সময়গুলোতে টুকিটাকি কাজ থাকে। এবার করোনার কারণে লকডাউনের সময়ে কাজ একেবারেই বন্ধ ছিল। গত কয়েকদিন যাবত কাজের চাপ কিছুটা বাড়ছে। এরজন্য তিনি তার নিয়মিত দুই জন কর্মচারীর পাশাপাশি আরো দুই কর্মচারী নিয়োগ করেছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত তার দোকানে রাত দেড়টা পর্যন্ত কাজ চলেছে। অন্যান্য কোরবানির ঈদের চেয়ে এখন কাজ কর্ম বেশি জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বাকি দিনগুলোতে কাজ আরও বাড়বে। উপজেলার অন্য বাজারগুলোতেও কামারের দোকানে ব্যস্ততা দেখা গেছে।

পুরাতন দা-বটি ছুরি, চাপাতি শান দেওয়ার পাশাপাশি বিক্রির জন্য এসব সামগ্রী তৈরি করে দোকানে সাজিয়ে রেখেছেন। এ প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, বটি আকার ভেদে শান দিতে নেন ৪০ টাকা থেকে ৮০ টাকা, আর বিক্রি করেন ৩০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায়। একইভাবে চাপাতি (কোপা) শান দিতে নেন ১০০ টাকা, বিক্রি করেন ৪০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা, ছোট ছুরি শানে ৩০ টাকা বিক্রি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, বড় ছুরি শানে ৫০ থেকে ১০০ টাকা ও বিক্রি ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত।

দোকানে ছুরি ও চাপাতি কিনতে আসা মদন বাজার এলাকার শামছুল আলম বলেন, ‘অন্য সময় সাধারণত কসাইয়ের দোকান থেকে আমরা মাংস নেই। সে ক্ষেত্রে আমাদের ছুরি, চাপাতি ইত্যাদির প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু কোরবানির ঈদে নিজেরাই পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুত করি। যার কারণে এগুলোর প্রয়োজন হয়।’

তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে কামারের দোকানে বেশ ভিড় রয়েছে। শান দেওয়ার দামও তুলনামূলক বেশি।

জাহাঙ্গীরপুর বাজারের গোপাল কর্মকার ও মধু কর্মকার বলেন, কাজের ব্যস্ততায় নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই। ঈদের দিন পর্যন্ত চলবে এই কাজ। তবে অনলাইনে চাইনিজ চাপাতি, ছুরি, চাকু কেনার ফলে কিছুটা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে গ্রাম গঞ্জের এই কামারশালাগুলো।

রি-পিডি/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়