নোয়াখালীর গরু বাজারে নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই

আগের সংবাদ

আলিয়াকে ছেড়ে শ্রদ্ধাকে নিয়ে স্পেনে যাচ্ছেন রণবীর

পরের সংবাদ

বাঙালি সামরিক কমান্ড

প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২১ , ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ১৭, ২০২১ , ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ

পরাধীন ব্রিটিশ-ভারত থেকে পাকিস্তানের কালো অধ্যায় পেরিয়ে জন্ম হয় বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের। এই মহান অর্জনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাসের মোড় ঘোরানো নানা ঘটনা, যার কারিগর হিসেবে কেউ আখ্যায়িত হয়েছেন নায়কের অভিধায়; কেউবা আবিভূর্ত হয়েছেন খলনায়কের চরিত্রে। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে সেসব ঘটনা ও তার নায়ক-খলনায়কদের কার কি ভূমিকা, তাই নিয়েই অধ্যাপক আবু সাইয়িদের গ্রন্থ ‘যেভাবে স্বাধীনতা পেলাম’। সম্প্রতি ভোরের কাগজ প্রকাশন থেকে বের হয়েছে বইটি। এ বই থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিন কিছু অংশ তুলে ধরা হচ্ছে ভোরের কাগজের পাঠকদের জন্য।

১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১। শীতের সুবাতাস। শিশুর গালের মতো স্নিগ্ধ রোদ। শিশির সবুজ পাতা। ছোট ছোট পাহাড়গুলোর কোলে কোলে কুয়াশা জড়ানো। তার গা ঘেষে সামরিক ছাউনি। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টার। সংক্ষেপে ইবিআরসি। চট্টগ্রামে অবস্থিত বেঙ্গল রেজিমেন্টের দুজন সিনিয়র বাঙালি অফিসার লে. কর্নেল এম আর চৌধুরী ও মেজর জিয়াউর রহমান। মেজর খালেদ মোশাররফ তাদের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হলেন।

নির্বাচনের পর পাকিস্তান সামরিক শাসকগোষ্ঠী নানাভাবে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের আশ্রয় গ্রহণ করে। নির্বাচনী রায় বানচাল করার এবং বাঙালির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার অভিপ্রায়ে শুরু হয় সুপরিকল্পিত গভীর ক‚টকৌশল। পাঞ্জাবের শক্তিশালী সামরিক-বেসামরিক চক্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় নানাভাবে বাধা দিতে প্রকাশ্যভাবে অবতীর্ণ হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পাকিস্তান শাসকচক্রের এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার জন্য একদিকে যেমন বাংলার সংগ্রামী জনতাকে সদাজাগ্রত, সদা সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছিলেন তেমনি গণঅভ্যুত্থানের ফসল নিরঙ্কুশ নির্বাচনী রায়কে বানচালের বিরুদ্ধে সকল প্রকার অশুভ শক্তিকে মোকাবিলার উদ্যোগ নেন।

বিশেষ করে পাকিস্তান সামরিক শক্তিকে মোকাবিলা করার জন্য গণঅভ্যুত্থানকে সশস্ত্রকরণের প্রস্তুতির বিষয়টিও বিবেচনা করেছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে খালেদ মোশাররফের ছিল হৃদ্য সম্পর্ক। তার স্নেহাশীষে সিক্ত খালেদ মোশাররফ অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে বাঙালি সেনা অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বাঙালি সেনা অফিসারদের মনোভাব ও প্রতিক্রিয়া জানার লক্ষ্যে খালেদ মোশাররফ চট্টগ্রামে গমন করেন এবং বাঙালি অফিসারদের সঙ্গে গোপন বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি আলোচিত হয়।

পরিস্থিতি কোন দিকে ধাবিত হচ্ছে? পুনরায় মার্শাল ল’ জারি হবে কিনা বা সামরিক কার্যক্রমের ব্যবস্থাদি গৃহীত হবে কিনা? ক্ষমতা হস্তান্তরিত না হলে করণীয় কি হবে? ইত্যাদি প্রশ্নে তাদের মতামত ও প্রতিক্রিয়া আলোচনায় আসে। মেজর জিয়াউর রহমানের উক্তি ছিল, ওই সব রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে রাজনীতিকদেরই মাথাব্যথা হওয়ার কথা। আমরা সৈনিক, এই সময়ে ওসব ব্যাপার থেকে দূরে থাকুন। তখন পর্যন্ত পাকিস্তান সামরিক জান্তার বাঙালি সেনা অফিসারদের বিভক্ত ও আঘাত করার পরিকল্পনা ছিল না। শেষ সূর্যের আলো তখন শাণিত ছুরির মতো চকচক করছে। সামনে গাঢ় অন্ধকার দ্রুত এগিয়ে আসছে।

আগামীকাল প্রকাশিত হবে ‘সামরিক চক্র : অপারেশন বি্লৎস’
‘যেভাবে স্বাধীনতা পেলাম’- বইটি পাওয়া যাচ্ছে ভোরের কাগজ প্রকাশনে (ভোরের কাগজ কার্যালয়, ৭০ শহীদ সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা)। এছাড়া সংগ্রহ করা যাবে bhorerkagojprokashan.com থেকেও।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়