ইতিহাসের অগ্রগতি অবিরত

আগের সংবাদ

পার্বতীপুরে করোনায় সর্বশান্ত সাত শতাধিক হকার, জরুরী সহায়তা প্রয়োজন

পরের সংবাদ

তামিম কেন বারবার ব্যর্থ

প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২১ , ৯:১৯ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ১৬, ২০২১ , ৯:১৯ অপরাহ্ণ

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ডাক মেরে আউট হয়ে যান অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এর মাধ্যমে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১৯ বারের মতো টাইগার দলপতি ডাক মেরেছেন। বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার তিনি শূন্য রানে সাজঘরে ফিরেছেন। টাইগার ওয়ানডে অধিনায়ক বারবার কেন ব্যর্থ, তা নিয়ে চারদিকে এখন বেশ আলোচনা হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন মনোসংযোগের অভাব। কারো মতে শূন্য রানের আউটও ক্রিকেটের পার্ট। এক ম্যাচে ব্যর্থ হলে পরের ম্যাচে তা পুষিয়ে দিচ্ছেন মারকুটে ওপেনার তামিম ইকবাল।

শুক্রবার (১৬ জুলাই) জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগে তামিম রানের খাতা খুলতে পারেননি ১৮টি ম্যাচে। এর মাধ্যমে তিনি সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের সবচেয়ে বেশিবার ডাক মারার রেকর্ডটিও টপকে গেছেন। তাছাড়া বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসেও তামিম সবচেয়ে বেশি ৩৪ বার শূন্য রানে আউট হওয়ার লজ্জার রেকর্ড গড়েছেন। এতদিন ওয়ানডে, টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গে যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি ৩৩ বার ডাক মারার রেকর্ড ছিল তামিম ইকবালের। এখন মাশরাফিকেও টপকে গেছেন টাইগারদের বর্তমান ওয়ানডে অধিনায়ক। তামিম ওয়ানডেতে ১৯ বার, টেস্টে ৯ বার। আর বাকি ছয়বার রানের খাতা খুলতে পারেননি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে।

তামিমের ওয়ানডেতে অভিষেক হয় ২০০৬ সালে। তিনি প্রথমবার শূন্য রানে ফেরেন ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুর স্টেডিয়ামে। সেবার তিন বল খেলেই সাজঘরে ফেরেন। ওই বছরই মিরপুরে ভারতের বিপক্ষে পাঁচ বলে, মারেরা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক বল খেলে ও মিরপুরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই বল খেলে রান করার আগে আউট হন তিনি। এরপর ২০০৯ সালে উইন্ডসর পার্কে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক বল খেলে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক বল খেলে গোল্ডেন ডাক মারেন তিনি। ২০১০ সালে টাইগারদের বর্তমান দলপতি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন বলে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে ছয় বল খেলে শূন্য রান করে আউট হন। ২০১১ সালে মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন বলে ও পাকিস্তানের বিপক্ষে চার বল খেলে, জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে চার বল খেলে ও পাকিস্তানের বিপক্ষে এই একই স্টেডিয়ামে এক বল খেলে রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হন তিনি। ২০১১ সালের পরের দুই বছর ওয়ানডেতে খালি হাতে আর ফিরতে হয়নি তাকে। এরপর ২০১৪ সালে ভারতের বিপক্ষে মিরপুরে ১১ বল খেলে শূন্য রান করেন তিনি। ২০১৫ সালে বিশ^কাপে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই বল খেলে আউট হন। সে বছর প্রোটিয়াদের বিপক্ষে শেরেবাংলায় ১৩ বল খেলেও কোনো রান করতে পারেননি। দুই বছর বিরতি দিয়ে ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সোফিয়া গার্ডেনে দুই বল খেলেই ফিরতে হয় তাকে। আবার দুই বছর বিরতি দিয়ে ২০১৯ সালে কিউইদের বিপক্ষেই ইউনিভার্সিটি ওভালে দুই বল খেলে শূন্য রানে ফেরেন। একই বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে পাঁচ বল খেলে সর্বশেষবার একদিনের ক্রিকেটে ডাক মেরেছিলেন তিনি।

অন্যদিকে টেস্ট ক্রিকেটেও তামিমের ডাক মারাটা শুরু হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০০৮ সালে। সেবার মিরপুরে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচটির প্রথম ইনিংসে তিনি রান করতে ব্যর্থ হন। এরপর ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে ছয় বল খেলে রান করতে ব্যর্থ হন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারে তৃতীয়বার তিনি শূন্য রানে ফেরেন ২০১০ সালে ভারতের বিপক্ষে মিরপুরে। ম্যাচটির প্রথম ইনিংসে ডাক মারলেও পরের ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন তামিম। ২০১৩ সালে জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে কিউইদের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে এক বল খেলেই আউট হন তিনি। এরপর ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে চার বলে শূন্য রান করেন তিনি। একই বছর মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে আট বল খেলে তিনি রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হন। ২০১৭ সালে সেনওয়াস পার্কেং তিনি আরেকবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টের প্রথম ইনিংসে ডাক মারেন। সেবার তিনি চার বল খেলে কোন রান করতে পারেননি। এরপর ২০১৮ সালে মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাত বল খেলে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি রান করতে ব্যর্থ হন। ২০২১ সালে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষেই জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে চার বল খেলে রান করার আগে আউট হন তিনি।

এছাড়া টি-টোয়েন্টিতে ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিভিল সার্ভিস ক্রিকেট ক্লাবে ৯ বলে শূন্য রান করেন তিনি। একই বছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাল্লেকেলেতে বিশ^কাপের ম্যাচে তিন বল খেলে সাজঘরে ফেরেন। এরপর ২০১৪ সালে ঘরের মাটিতে বিশ^কাপে হংকংয়ের বিপক্ষে দুই বলে ডাক মারার লজ্জা পেতে হয় তাকে। তিন বছর বিরতি দিয়ে ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে দুই বল খেলে আউট হন তিনি। ২০১৮ সালে রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে গোল্ডেন ডাক মারেন। একই বছর ওয়ার্নার পার্কে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে শেষবার শূন্য রানে ফেরেন তিনি।

আর-ই/এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়