শেরপুরের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ

আগের সংবাদ

তামিম কেন বারবার ব্যর্থ

পরের সংবাদ

ইতিহাসের অগ্রগতি অবিরত

প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২১ , ৯:০৬ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ১৬, ২০২১ , ৯:০৬ অপরাহ্ণ

আমাদের ইতিহাসে মাৎস্যন্যায়ের কাল বলে একটা যুগের উল্লেখ পাই। ওই যুগে অপরাধ করলে শাস্তি হবে- এমন নিশ্চয়তা ছিল না; সমাজের বড় মাছগুলো নির্বিঘে ও নিয়মিত ছোট মাছগুলোকে গিলে খেত এবং পুষ্ট হতো। এই অরাজক পরিবেশে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন হয়েছে। সেটা ছিল অষ্টম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের পরিস্থিতি। তখন গোপাল নামে একজন নেতার অভ্যুদয় ঘটে। জাতীয়তাবাদী ইতিহাসবিদদের কেউ কেউ বলেন যে গোপাল ছিলেন একজন নির্বাচিত নেতা। তিনি অরাজকতা দূর করে সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন। জাতীয়তাবাদী ইতিহাসবিদ রমেশচন্দ্র মজুমদার উচ্ছ¡সিত হয়ে বলেছেন, নেতা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থকে জনগণের স্বার্থের অধীনে রাখার যে দৃষ্টান্ত বাংলায় সেদিন স্থাপিত হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। অতিশয়োক্তি অবশ্যই। হয়তো আসলে এমনটা ঘটেছিল যে, স্বাধীন শাসকরা ও অস্ত্রধারী গোষ্ঠীরা সবাই মিলে তাদেরই একজনকে কর্তৃত্ব দিয়েছিল, সেই একজন নিজেও হয়তো একজন সশস্ত্র দুঃসাহসিক ব্যক্তি ছিলেন। কর্তৃত্ব পেয়ে তিনি যে জনগণের স্বার্থ দেখেছেন এমনও হয়তো নয়। না হওয়াটাই স্বাভাবিক।

ইতিহাসে পুনরাবৃত্তি নেই, বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখন অষ্টম শতকের মাৎস্যন্যায়ের মতো অবশ্যই নয়, কিন্তু কথিত ও আদর্শায়িত আইনের শাসন যে এখানে বেশ দুর্বল সেটা সত্য। পিরোজপুরে আদালতি ঘটনা এখনো উদাহরণ হিসেবে জ¦লজ¦ল করছে। জেলা আওয়ামী লীগের নেতা এবং সাবেক এমপির বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। তিন তিনটি মামলা, দুটি মামলায় তার স্ত্রীও অভিযুক্ত। জেলা ও দায়রা আদালতের জজ সাহেব ওই আওয়ামী নেতা ও তার স্ত্রীকে (যিনি আবার মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি) জামিন না দিয়ে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। অভিযুক্ত নেতা অসুস্থ জানানোতে তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থারও আদেশ দেয়া হয়। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই নানা ঘটনা ঘটা শুরু হয়ে যায়। আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা হৈ চৈ শুরু করেন, তারা আদালত বর্জন করেন। বাইরে মিছিল বের হয়ে যায়। জেলের তালা ভাঙার আওয়াজ ওঠে। সড়ক অবরোধ করা হয়। এবং ঘণ্টা তিনেকের মধ্যেই ফ্যাক্সে ঢাকা থেকে বার্তা এসে যায় যে বিচারককে অপসারণ করা হয়েছে এবং তার পরবর্তী যিনি তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে দায়িত্ব বুঝে নেবার। তিনি দায়িত্ব বুঝে নেন। তার কাছে জামিনের জন্য পুনরায় আবেদন করা হয়। ১৫ মিনিটের মধ্যেই তিনি জামিন মঞ্জুর করে দেন। ঘটনার অগ্রগতি সেখানেই থেমে থাকেনি। জামিনপ্রাপ্ত সাবেক এমপি সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন যে বর্তমান এমপি, যিনি বর্তমানে আবার একজন মন্ত্রীও, তিনিই নাকি কলকাঠি নেড়ে নেড়ে নিরীহ জননেতা ও তার স্ত্রীকে জেলহাজতে পাঠাবার ব্যবস্থা করেছিলেন।

বিচারব্যবস্থার ওপর এদেশের অনাস্থার ইতিহাসটা অত্যন্ত পুরনো। তা আস্থার কারণও কিন্তু এখন ঘটছে না। পিরোজপুরের ঘটনা সে আস্থা বৃদ্ধি করল না। ওদিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে জব্দ করার জন্য আদালতকে ব্যবহার করার ঘটনাও নতুন নয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু উপাধি পাবার আগে কত যে মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন, বন্দি হয়েছেন এবং তার জীবনের কতটা সময় যে মিথ্যা মামলার কারণে কারাগারে কেটেছে সে হিসাব তো আমাদের ইতিহাসের অন্তর্গত। এমন ঘটনা এখনো ঘটছে। হামেশাই। বরং আরো অধিক পরিমাণেই ঘটছে। নারায়ণগঞ্জের মেধাবী কিশোর ত্বকীকে স্থানীয় পাঠাগারে যাওয়ার পথে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা প্রথমে অপহরণ ও পরে হত্যা করে। এ নিয়ে তার পিতা আর কি করবেন, মামলাই করেছেন। ৯ বছর হয়ে গেল মামলার তদন্তই শেষ হলো না। উপরন্তু ত্বকীর পিতাকে, স্থানীয় আওয়ামী নেতারা যাকে তাদের প্রতিপক্ষ বলে মনে করতেন এবং যাকে শাস্তি দেয়ার জন্যই ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে বলে সবার ধারণা, তারা তার বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে সন্ত্রাসবিরোধী ত্বকী মঞ্চ থেকে বিচারহীনতার ৭ বছর নামে যে ধারণাপত্রটি উপস্থিত করা হয় তাতে উল্লেখ আছে দেখছি ত্বকী-হত্যাকাণ্ডের জন্য যে পরিবারটিকে জড়িত বলে সন্দেহ করা হয় তারা ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বির বিরুদ্ধে নিজেদের লোকদের দিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করিয়েছে। মামলা দিয়ে হয়রানি করা ও আত্মরক্ষায় ব্যস্ত রাখার কারসাজি যে সেটা তো বোঝাই যাচ্ছে।

কিন্তু যে কাজটি আরো তাৎপর্যপূর্ণ এবং একই সঙ্গে খুবই খুবই বিপজ্জনক তা হলো ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের অত্যন্ত উগ্র সমর্থক হিসেবে পরিচিত এই লোকগুলোর রফিউর রাব্বির বিরুদ্ধে ধর্ম-অবমাননার অভিযোগ আনা। সে খবরও ওই ধারণাপত্রটি দিচ্ছে। বলছে যে তারা হেফাজতে ইসলামকে দিয়ে রফিউর রাব্বির বিরুদ্ধে ‘ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ’ এনে মামলা করিয়েছে। শুধু তাই নয়, ধারণাপত্রটির ভাষায়, ‘তাদের নিয়ন্ত্রিত মসজিদে মসজিদে মিথ্যা খুৎবা দিয়ে জনতাকে উত্তেজিত করার চেষ্টা চালিয়েছে, হেফাজতকে দিয়ে মিছিল করিয়েছে, আবার তিনি (রাব্বি) যাতে আদালতে হাজির না হতে পারেন তার জন্য হেফাজত ও যুবলীগ-ছাত্রলীগ পরিচয়ধারী ক্যাডারদের দিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে লাশ চাই কল্লা চাই বলে মহড়া চালানো হয়েছে।’ হেফাজতকে দিয়ে সমাবেশ করে কতল করারও হুমকি তারা দিয়েছে। ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার এ ধরনের কাজে বুর্জোয়ারা সব সময়েই অত্যন্ত উৎসাহী। একাজ ভারতে মোদি সরকার করছে। এবং করে নাকি জনপ্রিয় হচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে তো খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, ভারতের জাতীয় বাজেটে মোদির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা খরচ প্রতি বছরই বাড়ানো হচ্ছে। জনপ্রিয়তা ও নিরাপত্তাহীনতা যদি সমানতালে বাড়তে থাকে তাহলে তো বুঝতেই হবে ভেতরে বড় ধরনের একটা গোলমাল আছে। সন্দেহ হয় ভারতজুড়ে তো ওই গোলমালটাই এখন চলছে। হিন্দুত্ববাদীদের জনপ্রিয়তার মূল্য গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। মোদিপন্থিরা যা করছে, যে কাজ পাকিস্তানি শাসকেরা করত, সেই একই কাজ নারায়ণগঞ্জের সীমিত পরিসরে ওসমান পরিবার শুরু করেছে। হেফাজতকে এভাবে শক্তিশালী করা যে দেশের জন্য কতটা বিপজ্জনক তা অবশ্যই তাদের বিবেচনার বাইরে।

কটুকাটব্যে অভ্যস্তরা বলেন, অবস্থা এখন হযবরল। তা তারা যে বাড়িয়ে বলেন এমনটা বলা যাবে না। দুঃসংবাদ প্রতিনিয়ত আসছে। সড়কে মানুষ যেভাবে মারা পড়ছে তা অরাজকতার নামান্তর। অন্যত্র খবর, ‘১৩ কিলোমিটার নতুন রেলপথ ভাঙা হচ্ছে, ৬ হাজার কোটি টাকা গচ্চা’। ‘বায়ুদূষণে গড় আয়ু ৩ বছর কমে যাচ্ছে’, এও আরেকটা খবর। খবর আছে ঢাকা শহরে বস্তিতে বস্তিতে ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ডের। লোকের সন্দেহ আগুন এমনি লাগে না, পেছনে অভিসন্ধি থাকে। পত্রিকার শিরোনাম ‘বস্তিতে আগুন লাগলে তদন্ত হয়, রিপোর্ট প্রকাশ হয় না’। কেন যে হয় না তা নিয়ে তদন্ত করবে এমন সাহস কিন্তু কোনো পত্রিকার নেই। টুকরো টুকরো খবর মিলে এই যে নির্মম এক বাস্তবতা তাকে ঢেকে রাখা যাবে কি? চেষ্টা হচ্ছে, কিন্তু পারা যাচ্ছে না। সরকারি লোকেরা উন্নতির আড়ম্বরপূর্ণ কথা শোনাচ্ছেন, কিন্তু বাস্তব সত্যটা টুকরো টুকরো ছোট ছোট খবরেই বের হয়ে আসছে। খবরের কাগজ অপরাধের খবর নিয়ে লোফালুফি করছে। কিন্তু ওই লেখাগুলো আবরণ হিসেবে অপর্যাপ্ত। টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন দেখলে মনে হবে স্বর্গের সমুদয় সুখ টোকা দিচ্ছে দর্শকের জানালায়। কিন্তু এসব দেখে লোকে শেষ পর্যন্ত বিরক্তই হয়। পত্রিকায় বিনোদন সংবাদের নামে নায়িকাদের গায়ের কাপড় সংক্ষিপ্তকরণের যে চিত্র প্রদর্শনী ছাপানো হয় সেসব ছবিতে যাদের বস্ত্র ধরে টানাটানি করা হচ্ছে তাদের মুখের হাসির নিচে দেখা যায় শান্ত এক বিষণ্নতা। ওই বিষণ্নতাটা কিন্তু এখন সর্বজনীন।

দুই.

বিষণ্নতার প্রতিক্রিয়া কী নেই? আছে। প্রতিক্রিয়া আছে। দু’ধরনের। এক ধরনের প্রতিক্রিয়ার দৃষ্টান্ত পাওয়া যাবে ঢাকার একটি ঘটনাতে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছিল কাছেরই এলাকা ল²ীবাজার দিয়ে। তাকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করেছে দুই যুবক। যুবক দুটি মোটরসাইকেলে করে এসেছে, থেমেছে এবং হামলা শেষে মোটরসাইকেলে চেপেই দিব্যি চলে গেছে। যেন ছিনতাইকারী। রাস্তায় লোক ছিল। না, কেউ এগিয়ে আসেনি। ঠিক এর বিপরীত ঘটনা ঘটেছে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার এক গ্রামে। সেখানে খালের ওপর ব্রিজ তৈরি করা নিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের ঝগড়া বাধে। ঠিকাদার কাজ থামিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ছাত্রলীগের এক নেতার নেতৃত্বে জন পনেরোর এক বাহিনী চলে আসে মোটরসাইকেল হাঁকিয়ে। স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। ছাত্রলীগ কর্মীরা ঘেরাও হয়। মোটরসাইকেল চালিয়ে অন্যরা সরে পড়তে সমর্থ হয়, কিন্তু নেতা আটকা পড়ে এবং গণপিটুনিতে নিহত হয়। একই সময়ের দুটি পুরস্কারবিরোধী প্রতিক্রিয়া। একটি উদাসীনতার, অন্যটি হিংস্রতার। দুটোই এখন ঘটছে। দুটোই সত্য। কিন্তু এ দুটির কোনোটাই সুস্থ নয়। প্রতিক্রিয়া হওয়া প্রয়োজন সুসংগঠিত এবং বিদ্যমান অবস্থাকে বদলাবার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ। ইতিহাস তৈরি হচ্ছে। যেটা বলেছিলাম, ইতিহাস লিখতে হয় না, আপনা থেকেই লেখা হয়ে যায়। যেন আছড়ে পড়ে। কিন্তু ইতিহাস কোন দিকে যাবে?

যাই বলি না কেন, ইতিহাস তো কোনো প্রাকৃতিক ঘটনা নয়। ইতিহাস মানুষই তৈরি করে। যদিও ইতিহাস তৈরি করতে হয় ইতিহাসের ভেতরে থেকেই। আসলে সমগ্র বিশ্বের ইতিহাসটাই এখন একটা ক্রান্তিলগ্নে এসে পৌঁছেছে, যেখানে তাকে মোড় ঘুরতে হবে। হাজার হাজার বছর ধরে সম্পদের যে ব্যক্তিমালিকানা ব্যবস্থা চালু আছে তাকে এখন মোড় বদলে সামাজিক মালিকানার দিকে যেতে হবে। শতকরা ৯০ জন মানুষ মেহনত করবে, শ্রম ও সময় দিয়ে চালু রাখবে উৎপাদনের ব্যবস্থাকে, আর তার মালিকানা থাকবে শতকরা ১০ জনের হাতে এই অন্যায় পুঁজিবাদী ব্যবস্থা আর চলবে না। বস্তুত এই ব্যবস্থাটা চালু আছে বলেই তো বিশ্বজুড়ে আজ এত অশান্তি। বস্তুগতভাবে বিশ্ব এখন উন্নতির চরম শীর্ষে সমুপস্থিত। কিন্তু এক করোনা ভাইরাস পৃথিবীকে আজ যেভাবে কাঁপিয়ে দিয়েছে, বিশ্বময় মানুষের পরস্পর বিচ্ছিন্নতাকে সাময়িকভাবে হলেও যে রকমের চরম পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাইছে, তাতে বোঝা যায় ভেতরে ভেতরে এবং মানুষের জন্য ব্যবস্থাটা এখন কতটা ভঙ্গুর ও বিপজ্জনক। পৃথিবীটা নিশ্চয়ই ভাঙবে না। কারণ মানুষ তাকে ভাঙতে দেবে না। কিন্তু না-ভাঙার জন্য অত্যাবশ্যকীয় যে মোড়-বদল সেটা সম্ভব করার ব্যাপারে নেতৃত্ব দেবে কারা? দেবে তারাই যারা বিপদটা বুঝবে এবং বুঝবে যে এই বিপদ থেকে মুক্তির পথ পুঁজিবাদের ভেতরে আটকে থাকা নয়, উল্টো সেই বৃত্ত ভেঙে বের হয়ে যাওয়া, পথ ধরা সমাজতন্ত্রের। এক কথায়, নেতৃত্ব দেয়ার কথা সমাজতন্ত্রীদেরই।

কাজটি অবশ্যই কঠিন। অত্যন্ত কঠিন। কারণ এ হচ্ছে হাজার হাজার বছর ধরে গড়ে-ওঠা ও প্রায় স্থায়ী হয়ে যাওয়া একটি বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তন। পরিবর্তনের বস্তুগত শর্তগুলোর পূরণ ঘটছে। এতক্ষণ ধরে আমরা দেশের ভেতরে যেসব তুচ্ছ ও অসামাজিক ঘটনার দিকে তাকাচ্ছিলাম এবং বিশ্বজুড়ে মানুষের নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধির যে খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করছিলাম সেগুলো সবই কিন্তু অজান্তে পরিবর্তনের শর্তপূরণের কথাটাই জানিয়ে দিচ্ছে। এমন অবস্থা তো চলতে পারে না। কিন্তু আত্মগত প্রস্তুতি তো আবশ্যক। আত্মগত প্রস্তুতিটা কোনো এক দেশে নয়, চাই সমগ্র বিশ্বজুড়ে।
ইতিহাসের গতিপথ বদলাবার আন্দোলনটাই যা ভরসা, নইলে হতাশ হবার একশ একটা কারণ রয়েছে। আর বিদ্যমান ব্যবস্থাটা চায় ওই হতাশা বৃদ্ধি পাক। চায় মানুষ বিভ্রান্ত হোক। বাড়–ক মানুষে মানুষে বিচ্ছিন্নতা। ইতিহাসের অগ্রগতিকে অবরুদ্ধকারী দুর্বৃত্তরা মুক্তিপণ দাবি করছে। মুক্তিপণটা অন্য কিছু নয়, সেটি হচ্ছে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন।

ইতিহাসের অগ্রগতির কাহিনীটাও বর্তমানেই এবং বর্তমানের ভেতরেই, লিখিত হচ্ছে। অবিরত।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়