শিশুশ্রমিক নিয়োগকারীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি খেলাঘরের

আগের সংবাদ

শনিবার আসছে সিনোফার্মের আরও ২০ লাখ ডোজ টিকা

পরের সংবাদ

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের আলোচনা সভা

‘আ.লীগ কর্মীনির্ভর দল বলেই শেখ হাসিনাকে মাইনাস করতে পারেনি’

প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২১ , ৭:০৬ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ১৬, ২০২১ , ৭:০৬ অপরাহ্ণ

আওয়ামী লীগ নেতা নির্ভর দল নয়, কর্মী নির্ভর দল। নেতারা বিভ্রান্ত হলেও কর্মীরা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়। সে কারণে ১/১১’র সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে মাইনাস করতে পারেনি। তৃণমূলে কর্মীরাই সংগঠনের মূল চালিকাশক্তি। শুক্রবার (১৬ জুলাই) দুপুরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারা অন্তরীণ দিবস উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কার্যকরী সভাপতি রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম এমপি। সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন হালদারের সঞ্চালনায় অংশ নেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিন জাহান, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম রনি প্রমুখ।

দেশবিরোধী অপশক্তির ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা প্রতিরোধে আওয়ামী লীগসহ প্রগতিশীল সকল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, এখনও কিন্ত শেখ হাসিনা নিরাপদ না। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দাবিদার অনেক শক্তি কিন্ত চান শেখ হাসিনা না থাকলে ভালো হয়। অনেক অপশক্তিও এটাই চায়। কারণ, মুক্তিযুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে শেখ হাসিনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে দেশে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার যে সূচনা হয়েছিল, আজ তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তা বিকশিত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাবেক এই আইন সম্পাদক বলেন, দেশের চলমান উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার ধারা বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের একসাথে কাজ করতে হবে। তৃণমূলের কর্মীরাই সংগঠনের মূল চালিকাশক্তি। আওয়ামী লীগ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, যে নেতারা শেখ হাসিনাকে মাইনাস করতে চেয়েছিলেন সে নেতাদেরও কিন্তু শেখ হাসিনা ধারণ করেছেন। কিন্তু ওইযে বলেছেন, ক্ষমা ক্ষমা ক্ষমা, কিন্তু ভুলি নাই, ভুলি নাই, ভুলব না।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, এমন অবস্থা ধারণ করার মতো বিশাল বুকের পাটা কারো নেই। কিন্ত শেখ হাসিনার শরীরে বঙ্গবন্ধুর রক্ত ছিল বলেই হয়তো তিনি ধারণ করতে পারছেন। অন্য দলে কিন্ত ধারণ করেনি। অন্যসব দলে যারা দলীয় নেত্রীকে মাইনাস করতে চেয়েছে তারা কিন্ত তাদের দলে নেয় নি। তিনি বলেন, যারা দুঃসময়ে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার ও ঝুঁকি নিয়েছেন তাদেরকে দল ও সরকারে দেখতে চাই। একজন নাগরিক হিসেবে এটা আমার চাওয়া।

পানি সম্পদ মন্ত্রী এনামুল হক শামীম বলেন, দেশের বিকাশমান গণতন্ত্রকে কফিনবন্দি করে দীর্ঘস্থায়ী সেনা শাসন প্রলম্বিত করার জন্যই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার মিথ্যা ও সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার করেছিল। বিএনপির একগুয়েমির কারণে দেশে ১/১১ সৃষ্টি হয়েছিল। সে সময়ে বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু প্রথমে গ্রেফতার করা হয় বঙ্গবন্ধুকন্যাকে। কারণ ষড়যন্ত্রকারীরা মনে করেছিল শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করতে পারলে দেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে আনা যাবে। কিন্তু সম্ভব হয়নি, দেশের জনগণ, বিশেষ করে তৃণমূলের নেতাকর্মী এবং দেশী-বিদেশী নানা চাপে তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেত্রীকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন। জনগণের সমর্থন নিয়ে টানা তৃতীয় বারের মতো ক্ষমতায় এসে দেশকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। এসময় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ণ করার দাবি জানান।

অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ৭১ এর পরাজিত শক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যা করার চেষ্টা করছে। এরাই মূলত নেত্রীকে ১/১১ তে গ্রেপ্তারের জন্য ষড়যন্ত্র করেছিল। সংস্কারবাদীরা অনেক চেষ্টা করেছেন নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করার জন্য। কিন্ত তারা তৃণমূলে ভাঙন ধরাতে পারেনি। তিনি বলেন, সে সময়ে অনেক বড় বড় আইনজীবীকে আমরা পাশে পাইনি। সাহারা খাতুন, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ছাড়া যারা আওয়ামী লীগের ব্যানারে বারের সভাপতিসহ বিভিন্ন পদ-পদবী পেয়েছিলেন তাদেরকে পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগ না করলেও শফিক আহমেদ (সাবেক আইনমন্ত্রী) কে আমরা পেয়েছিলাম। ১/১১ সময়ে আইনজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মী, তৃণমূল নেতাকর্মী গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রেখেছিল। এপ্রিল মাসে আওয়ামী লীগের যে বর্ধিত সভা হয়েছিলো, সেটাই ছিল টানিং পয়েন্ট। কারণ সারাদেশ থেকে আগত নেতারা একটাই কথা বলেছিলেন, নো শেখ হাসিনা, নো ইলেকশন।

রি-জেএম/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়