বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বেতার সম্প্রচার

আগের সংবাদ

এবার টিকা নিতে জেলা-উপজেলার কেন্দ্রে মানুষের ব্যাপক ভিড়

পরের সংবাদ

৪৮ লাশ নিয়ে জটিলতা

প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২১ , ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ১৫, ২০২১ , ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাসেম ফুডস এন্ড বেভারেজ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে কয়লা হওয়া ৪৮ লাশ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পরদিন লাশগুলো উদ্ধার করে মর্গে পাঠানোর পর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হলেও এখনো দাফন না করায় বিপাকে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এজন্য প্রথমদিন থেকেই তারা লাশগুলো দাফন করতে পুলিশকে তাগাদা দিয়ে আসছে। কিন্তু লাশগুলো বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করতে চাইছে না পুলিশ। ডিএনএ নমুনা মেলানোর পর পরিচয় নিশ্চিত হয়ে স্বজনদের কাছেই লাশগুলো বুঝিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছে তারা। এতে জটিলতা আরো বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কেননা, ডিএনএ সংগ্রহের পর পরিচয় শনাক্ত হতে কমপক্ষে ২১ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছে সিআইডি। ফলে পরিচয় শনাক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত আরো বেশ কিছু দিন মর্গে রাখতে হবে লাশগুলোকে। ইতোমধ্যে লাশগুলো মর্গের সব মরচুয়ারি দখল করে রাখায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে মর্গ কর্তৃপক্ষ। লাশগুলো হস্তান্তরে আরো সময় লাগলে অন্য লাশের ময়নাতদন্তে সমস্যা আরো প্রকট হবে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

লাশগুলো দাফনের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জায়েদুল আলম ভোরের কাগজকে বলেন, সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ ৪৮ লাশের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি লাশগুলোর দাবিদারদের নমুনা সংগ্রহ করেছে। তারা উভয় নমুনা মিলিয়ে দেখে লাশগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করবে। আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে, পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের কাছেই লাশগুলো বুঝিয়ে দেয়া। সিআইডি নমুনা মিলিয়ে দেখার পর যদি কোনো লাশের সঙ্গে দাবিদার কারো ডিএনএ নমুনা না মেলে, সে ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ বিষয়ে ঢামেক ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মোহাম্মদ মাকসুদ বলেন, রূপগঞ্জের ঘটনায় আমাদের কাছে ৪৮টি লাশ আসে। সেগুলো থেকে নমুনা সংগ্রহের পর স্থান সংকুলান না হওয়ায় ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগসংলগ্ন মর্গে ৮টি এবং সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে ১৩টি লাশ রাখা হয়। বাকিগুলো ঢামেক মর্গে রয়েছে। এত লাশ মর্গে থাকার কারণে ময়নাতদন্ত কার্যক্রমে সমস্যা হওয়ায় প্রথমদিন থেকেই দাফন করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে পুলিশকে। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইতোমধ্যে ৪৮ লাশের ডিএনএ টেস্টের জন্য পাঁজরের হাড়, টিস্যুসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ। পাশাপাশি লাশগুলোর ৬৮ জন দাবিদারের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা হিসেবে রক্ত ও লালা সংগ্রহ করা হয়েছে। লাশ ও স্বজনদের এই নমুনা থেকে ডিএনএ প্রোফাইল করে পরিচয় নিশ্চিত করতে কমপক্ষে ২১ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ। ২১ দিনের মধ্যেই যে ডিএনএ প্রোফাইল নিশ্চিত হবে বিষয়টি তেমনও নয়, আরো সময়ও বেশি লাগতে পারে। এতে আরো দীর্ঘ হতে পারে অঙ্গার হওয়া লাশগুলোর দাফনের অপেক্ষা।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পরদিন থেকে পরবর্তী দু-তিন দিন স্বজনের আহাজারিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গের চারপাশ ভারি থাকলেও বর্তমানে সেখানে সুনসান নীরবতা। গতকাল বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, মর্গের সামনে লম্বা করিডোরের মতো রাস্তা একেবারে ফাঁকা। পুলিশ কর্মকর্তারা যে ঘরটিতে বসে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন সেটিও প্রায় শূন্য। ঘরটির বাইরে কয়েকটি প্রিন্ট করা কাগজে লেখা রয়েছে- ‘নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় আরো কোনো স্বজন ডিএনএ নমুনা দিতে চাইলে মালিবাগ সিআইডি অফিসে গিয়ে দিতে হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই বিকালে রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাসেম ফুডস এন্ড বেভারেজ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। প্রথমদিন তিনজনের মৃত্যু ও অর্ধশত শ্রমিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের ১৮টি ইউনিট ২১ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর গত ৯ জুলাই সকালে ওই ভবনের চারতলা থেকে ৪৮ জনের অঙ্গার হওয়া লাশ উদ্ধার করে ঢামেক মর্গে পাঠায় ফায়ার সার্ভিস। এদের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ ও ৩১ জন নারী।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়