উজ্জল সম্ভাবনায় পানছড়িতে ড্রাগন ফলের চাষ

আগের সংবাদ

দেশে করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ১৭ হাজার

পরের সংবাদ

স্বজনদের কাছেই বুঝিয়ে দেওয়া হবে মর্গের ৪৮ লাশ

প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২১ , ৫:৩০ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ১৪, ২০২১ , ৫:৫২ অপরাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজিব গ্রুপের হাসেম ফুড এন্ড বেভারেজ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে কয়লা হওয়া ৪৮ লাশ এখনো হাসপাতাল মর্গে পড়ে আছে। লাশগুলো থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ হয়ে যাওয়ায়- তাদের কবে দাফন করা হবে সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে, তাদেরকে বেয়ারিশ হিসেবে দাফন করতে চাইছে না পুলিশ।

ইতিমধ্যে ৪৮ লাশের ৬৮ জন দাবিদার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে ডিএনএ নমুনা জমা দিয়েছেন। লাশ ও স্বজনদের নমুনা মেলানোর পর পরিচয় নিশ্চিত হয়ে স্বজনদের কাছেই লাশগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জায়েদুল আলম ভোরের কাগজকে বলেন, সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ ৪৮ লাশের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি লাশগুলোর দাবিদারদের নমুনা সংগ্রহ করেছে। তারা উভয় নমুনা মিলিয়ে দেখে লাশগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করবে। তবে আমাদের এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা হচ্ছে, লাশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের স্বজনদের কাছেই বুঝিয়ে দেওয়া হবে। সিআইডি নমুনা মিলিয়ে দেখার পর যদি কোনো লাশের সঙ্গে দাবিদার কারো ডিএনএ নমুনা না মেলে, সে ক্ষেত্রে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আপাতত পরিকল্পনা স্বজনদের কাছে লাশ বুঝিয়ে দেওয়া।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরদিন থেকে পরবর্তী দু-তিন দিন স্বজনের আহাজারিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গের চারপাশ ভারি থাকলেও সেখানে বর্তমানে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। বুধবার সরজমিনে দেখা যায়, মর্গের সামনে লম্বা করিডোরের মতো রাস্তা একেবারে ফাঁকা। পুলিশ যে ঘরটিতে বসে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন সেটিও প্রায় শূন্য। ঘরটির বাইরে কয়েকটি প্রিন্ট করা কাগজে লেখা রয়েছে, নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় আরো কোনো স্বজন ডিএনএ নমুনা দিতে চাইলে মালিবাগ সিআইডি অফিসে গিয়ে দিতে হবে। অথচ লাশগুলো মর্গে আশার পর সেখানকার বাতাস ভারি হয়ে উঠেছিলো শোকের আহাজারিতে।

ঢামেক ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মোহাম্মদ মাকসুদ বলেন, রূপগঞ্জের ঘটনায় আমাদের কাছে ৪৮টি লাশ আসে। সেগুলো থেকে নমুনা সংগ্রহের পর স্থান সংকুলান না হওয়ায় ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সংলগ্ন মর্গে ৮টি এবং সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে ১৩টি লাশ রাখা হয়। বাকিগুলো ঢামেক মর্গে রয়েছে। এতগুলো লাশ মর্গে ময়নাতদন্ত কার্যক্রমে সমস্যা হওয়ায় প্রথম দিন থেকেই দাফন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে পুলিশকে। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই বিকেলে রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাসেম ফুডস লিমিটেডের কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ঘটনার প্রথম দিন তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত হন অর্ধশত শ্রমিক। ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের ১৮টি ইউনিট ২১ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর গত ৯ জুলাই সকালে ওই ভবনের চারতলা থেকে ৪৮ জনের অঙ্গার হওয়া লাশ উদ্ধার করে ঢামেক মর্গে পাঠায় ফায়ার সার্ভিস। লাশগুলোর ডিএনএ নমুনা হিসেবে পাজরের হাড় সংগ্রহ করা হয়েছে। আর তাদের স্বজন দাবীদার বাবা-মা এবং সন্তানের কাছ থেকে ডিএনএ-এর নমুনা হিসেবে রক্ত ও লালা সংগ্রহ করা হয়েছে।

আর- আইআর / এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়